জাতীয় গ্রিডে ২৪৪ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস, ২১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২২: ০২
কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত

মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল সচল হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। পেট্রোবাংলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় গ্যাস মিলেছে দৈনিক ২৪৪ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। গ্যাসের এই সরবরাহ গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ হয়েছে দৈনিক ৮২ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট হারে।

পেট্রোবাংলার জনসংযোগ দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে পাওয়া গেছে ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে শেভরন পরিচালিত গ্যাসক্ষেত্র থেকে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) থেকে ৪৭ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) থেকে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) থেকে ৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। টুলো অয়েল পরিচালিত কুমিল্লার বাঙ্গোরা গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগে। এতে টার্মিনালটির দুটি বয়লারের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিটি বয়লারের রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট করে। অগ্নিকাণ্ডে দুটি বয়লার থেকেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ৫ আগস্ট রাত থেকে অক্ষত বয়লার থেকে সরবরাহ শুরু হয়। তারপর থেকে অর্ধেক সক্ষমতায় চলছিল টার্মিনালটি। তবে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় কারিগরি ত্রুটির কারণে অক্ষত বয়লারটিও বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি মেরামতের পর সেটি থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

এদিকে এলএনজির মজুত প্রায় শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকাল ৫টায় সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন আসা একটি এলএনজি ক্যারিয়ার থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। এরপর রাত থেকে থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ৭৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। এর মধ্যে সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ও এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ আরও বেড়েছে।

তবে সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি সচল করতে হলে অন্তত ৭২ ঘণ্টা এই টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হতে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

জাতীয় গ্রিডে ২৪৪ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস, ২১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ