গুমের মামলায় গ্রেপ্তার বেনজীরের ‘ক্যাশিয়ার’ রিফাত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১৬: ৪৫
রিফাত নিলয় জোয়ার্দার। স্ট্রিম ছবি

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম সম্পর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ‘ক্যাশিয়ার’খ্যাত রিফাত নিলয় জোয়ার্দারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদের একক বেঞ্চ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ জুলাই দিন ধার্য করেন।

এদিন সকালে কারাগার থেকে রিফাত নিলয়কে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১৯ মে তাঁর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়েছিল প্রসিকিউশন।

রিফাত নিলয় জোয়ার্দার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বর্তমানে ধানমন্ডি থানার অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

শুনানিতে প্রসিকিউশন ট্রাইবুনালকে জানায়, রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও প্রশ্রয়ে বলপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী মশিউর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিকে ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালায় আটক রাখা হয়। এ সময়ে গুম করা ব্যক্তিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে পদ্ধতিগতভাবে হওয়া গুম-খুনের অভিযোগও রয়েছে রিফাতের বিরুদ্ধে।

ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া ভুক্তভোগী মশিউর রহমানের অভিযোগনামা থেকে রিফাত নিলয় জোয়ার্দারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পেশায় ব্যবসায়ী এবং বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মশিউর রহমানের অভিযোগ, ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকক যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গুম করা হয়।

মশিউর বলেন, ‘ব্যাংকক এয়ারওয়েজের কাউন্টারের সামনে সাদা পোশাকের দুই ব্যক্তি আমাকে বলে আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে। অল্প দূর থেকে তিনজন আমাকে আইডেন্টিফাই করে দেয়।’

মশিউরের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে শনাক্ত করা তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন রিফাত নিলয় জোয়ার্দার। অভিযোগনামায় রিফাতকে ‘বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক ডিবিপ্রধান মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ক্যাশিয়ার এবং সাবেক ডিজি র‌্যাব বীনজির আহমেদের সহযোগী’ উল্লেখ করা হয়েছে।

মশিউর আরও বলেন, তাঁকে চোখ বেঁধে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নির্মম শারীরিক নির্যাতন, এমনকি ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। ডিজিএফআই ও ডিবির কর্মকর্তারা তাঁকে ৬ মাস গুম করে রেখেছিলেন।

সম্পর্কিত