ছাতার আইইডি সময় নিয়ন্ত্রিত, পুলিশের সন্দেহে উগ্রবাদীরা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে আইইডি উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে ছাতায় লুকিয়ে রাখা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) নিষ্ক্রিয় করার পরে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য, এটি সময় নিয়ন্ত্রিত। সেট করা সময়ের পরে বিস্ফোরণ ঘটতো। অতীতে উগ্রবাদী সংগঠনের আইইডির সঙ্গে এটির গঠনগত মিল রয়েছে।

উদ্ধার আইইডির বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে সিটিটিসির বোম্ব টিমের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি উগ্রাবাদীদের হাতে তৈরি। তবে উপকরণগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ স্ট্রিমকে জানান, শুক্রবার রাতে আইইডি উদ্ধারের ঘটনায় বিস্ফোরক ও দণ্ডবিধি আইনে অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। কারা মেট্রোরেলে স্টেশনের নিচে ছাতায় লুকিয়ে এটি রেখে গেছেন, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। তবে এখনো তদন্ত ছাড়া কোনো কিছুই নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়।’

আইইডি নিষ্ক্রিয় করার পর মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল থানা। ছাতায় লুকিয়ে বোম্বটি কে বা কারা সেখানে রেখেছিলে, তা জানার জন্য আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অনলাইনে সক্রিয় কয়েকজনের পোস্ট বিশ্লেষণ করছেন তারা। এদের মধ্যে একজনের পোস্ট ছিল– আগামী ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ইস্কন সারা দেশে রথযাত্রা করবে, যা বাংলাদেশের জন্য হুমকি। বাংলাদেশের মাটিতে আমরা তা হতে দেব না। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্ততি গ্রহণ করেছি। ১৬ জুলাই রথযাত্রা বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই আমাদের মুজাহিদ ভাইয়েরা তাদের কাজ শুরু করবেন। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বিস্ফোরক আছে, যা দিয়ে এদের সবগুলোকে জাহান্নামে পাঠানো সম্ভব। আপনারাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের সাহায্য করবেন। আপনাদের বাড়ির নিচ দিয়ে রথযাত্রা গেলে উপর থেকে গরম পানি ও ময়লা তাদের ওপর ফেলে দেবেন। এভাবে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিবাদ করতে হবে। নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।

মামলার এজাহারে যা আছে

মামলার বাদী মতিঝিল থানার এসআই মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা। তিনি এজাহারে বলেছেন, ছাতার মধ্যে বোমাসদৃশ বস্তু বোম্ব ডিসপোজাল টিম নিষ্ক্রিয় করে। বিস্ফোরণের পর উদ্ধার আলামতগুলো হলো– খয়েরি রঙের ছাতার কাপড়ের পোড়া অংশ, ছাতার বাট, একটি সানলাইট ব্যাটারির অংশ, ছাতার রতের খণ্ডিত অংশ, ৯ ভোল্ট ব্যাটারির খণ্ডিত অংশ, বেয়ারিংয়ের ১২টি বল, জিআই পাইপের খণ্ডিত অংশ।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৪ জুলাই ১টার দিকে উল্টো রথযাত্রা ছিল। এটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল থানাধীন দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে শাপলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে ইত্তেফাক মোড় হয়ে স্বামীবাগ আশ্রম গিয়ে (ইস্কন, ঢাকা) শেষ হয়। উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষ্যে মতিঝিলে দায়িত্ব পালনকালে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সার্জেন্ট কাওসার হোসাইন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান– মেট্রোরেলের নিচে একটি ছাতা পাওয়া গেছে। ছাতায় আলো জ্বলতেছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে তখন মতিঝিল থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শাপলা চত্বরগামী রাস্তার মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুম সংলগ্ন জায়গায় একটি বিএমডব্লিউ ছাতা, ভেতরে বোমা সদৃশ বস্তুতে লাল আলো মিট মিট করে জ্বলা অবস্থায় পান। মতিঝিল থানার ওসিকে জানালে তিনি ঘটনাস্থল কর্ডন করে রাখতে বলেন। এরপর সিটিটিসির বোম্ব টিম ঘটনাস্থলে এসে আইইডি নিষ্ক্রিয় করে।

আসামিরা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে বোমা বিস্ফোরণ করতে চেয়েছিল, যা আইনের চোখে অপরাধ বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।

সিটিটিসি জানায়, আইইডি নিষ্ক্রিয় করার পর মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল থানা। ছাতায় লুকিয়ে বোম্বটি কে বা কারা সেখানে রেখেছিলে, তা জানার জন্য আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

সিটিটিসি প্রধান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শামছুল হক স্ট্রিমকে বলেন, ‘অনলাইনে একটি গ্রুপ প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিল। সে বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি আমরা আরও অনেক বিষয়ে ছায়া তদন্ত করছি। এর পেছনে কারা আছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত