ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দগুলোও কি তবে শেষ পর্যন্ত যান্ত্রিকতার গ্রাসে হারিয়ে যাবে?
লেখা:

মন খারাপ হলে আমরা অনেকে কী করতাম? ইউটিউব বা ফেসবুকে বিড়াল বা কুকুরের মজার ভিডিও দেখতাম। একটি বিড়াল হঠাৎ পানিতে পড়ে গেছে। একটি কুকুর তার মালিককে জড়িয়ে ধরেছে। ছোট্ট একটি পান্ডা গড়িয়ে খেলছে। এমন ভিডিও দেখে আমরা অজান্তেই হেসে উঠতাম। আনন্দ পেতাম। কারণ জানতাম, ঘটনাটা সত্যিই ঘটেছে।
কিন্তু এখন এই আনন্দ পাওয়ার অভিজ্ঞতা বদলে গেছে। আজকাল কোনো কিউট প্রাণীর ভিডিও দেখলেই মনে প্রথম প্রশ্ন আসে—এটা কি সত্যি? নাকি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো? এই একটা প্রশ্নই ইন্টারনেটে আমাদের আনন্দ পাওয়ার অভিজ্ঞতা বদলে দিচ্ছে।
অনেকে বলেন, ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে তার আভাস পাওয়া যায় বিড়ালের কনটেন্ট দেখে! ‘I Can Haz Cheeseburger’ আমাদেরকে মিমের নতুন দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। Keyboard Cat লাখো মানুষকে ইউটিউবের দিকে টেনেছিল। আর Grumpy Cat-এর মতো ভাইরাল বিড়ালগুলো ইন্টারনেট দুনিয়ায় পরিবর্তন এনেছিল। এখন আবার এক নতুন পরিবর্তনের মুখে আমরা। রাগ, ঘৃণা আর ভুয়া খবরের এই ইন্টারনেটে প্রাণীদের ভিডিও ছিল একটু স্বস্তির জায়গা। এখন মনে হচ্ছে, সেই নির্ভেজাল আনন্দটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া বিশেষজ্ঞ জেসিকা ম্যাডক্স বলেন, ‘আমরা এসব ভিডিও দেখে খুশি হই কারণ আমরা জানি ঘটনাটা আসল। কিন্তু এআই আমাদের সেই বিশ্বাসটাই নষ্ট করে দিচ্ছে। এটি হয়তো কেবল শুরু, সামনে আরও বড় সংকট অপেক্ষা করছে।’
শুরুতে আমার মনে হয়েছিল, সমস্যাটা হয়তো শুধু আমার। প্রযুক্তি নিয়ে এত বছর লেখালেখি করতে করতে হয়তো আমি সবকিছুতেই সন্দেহ করতে শিখেছি। কিন্তু পরে বুঝলাম, আমি একা নই। অনেকেই একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।
ধরুন, আপনি খুব সুন্দর একটা ভিডিও দেখলেন। এতটাই নিখুঁত যে দেখে মনে হচ্ছে এটা সত্যি হতে পারে না। আমরা আসলে কেউ প্রতারিত হতে চাই না। তাই ভিডিও দেখে আনন্দ পাওয়ার বদলে আমরা কমেন্ট বক্সে গিয়ে খুঁজি অন্য কেউ এটা নিয়ে কী বলছে। ভিডিওটা কি আসল, নাকি এআই?
জেসিকা ম্যাডক্সের মতে, এসব ভিডিওর সঙ্গে আমাদের এক ধরণের আবেগের সম্পর্ক থাকে। আমরা যখন কোনো মজার ভিডিও দেখি, তখন মনে মনে ভাবি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা আরেকজন মানুষও এটা দেখে ঠিক একইরকম আনন্দ পেয়েছেন। এই যে সবার সঙ্গে মিলে আনন্দ পাওয়া, এটাই মানুষকে একে অপরের সঙ্গে মনে মনে যুক্ত করে।
এখন প্রশ্ন হলো, মানুষ যদি অ্যানিমেশনও পছন্দ করে, তাহলে এআই দিয়ে বানানো ভিডিও নিয়ে সমস্যা কোথায়? ম্যাডক্স বলেন, ‘সমস্যা তখনই হয়, যখন এআই ভিডিওকে আসল বলে উপস্থাপন করা হয়। তখন দর্শকের মনে হয়, তাকে যেন ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। তখন আনন্দটা আর স্বাভাবিক লাগে না। মনে হয়, ইচ্ছে করে সেই অনুভূতি তৈরি করা হয়েছে। কোথাও যেন এক ধরনের ফাঁকিবাজির গন্ধ থাকে।’
এ নিয়ে ভবিষ্যতে কী হতে পারে? এর দুই ধরনের সম্ভাবনা আছে। প্রথমত, মানুষ এআইয়ের এসব নকল ভিডিও দেখে বিরক্ত হয়ে যাবে এবং আবার আগের মতো বাস্তব ও অরিজিনাল ভিডিও খুঁজতে শুরু করবে। তখন যারা নিজেরা কষ্ট করে ভিডিও বানান, তারা আবার গুরুত্ব পাবেন। দ্বিতীয়ত, এআইয়ের ভিডিওগুলোই একসময় মানুষের গা-সওয়া হয়ে যাবে এবং আমাদের ফিড পুরোপুরি এসব ‘নকল’ ভিডিওতে ভরে যাবে।
২০২৪ সালে হারিকেন হেলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে। সেই সময় এআই দিয়ে তৈরি কিছু ভয়াবহ ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সেগুলো ব্যবহার করেন মার্কিন সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের সমালোচনা করতে।
এমন একটি ছবি শেয়ার করে সমালোচনার মুখে পড়েন রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সদস্য অ্যামি ক্রেমারও। পরে তিনি লেখেন, ‘ছবিটি কোথা থেকে এসেছে, আমি জানি না। সত্যি বলতে, সেটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণও নয়। ছবিটি আমার মনে গেঁথে গেছে।’
সাংবাদিক পার্কার মলোয়ের মতে, অনেক মানুষের মনোভাবও ছিল এমনই। তারা জানতেন ছবিগুলো আসল নয়। তবু তাদের বিশ্বাস, ছবিগুলো এক ধরনের ‘গভীর সত্য’ তুলে ধরেছে।

এই প্রবণতা শুধু রাজনীতিতে নয়, বিনোদনের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। যেমন, ইদানীং এআই দিয়ে কথা বলা ফলমূলের ভিডিও কোটি কোটি মানুষ দেখছে। মানুষ কি তবে ধীরে ধীরে এই কৃত্রিম বিনোদনকেই আপন করে নেবে?
জেসিকা ম্যাডক্সের মতে, এর প্রভাব শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটা আমাদের সমাজ ও বিশ্বাসের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
ম্যাডক্স সতর্ক করে বলেন, আমরা যদি এআইয়ের তৈরি কুকুর-বিড়ালের ভিডিওগুলো সহজেই মেনে নিতে শুরু করি, তবে একসময় আরও বিপজ্জনক ভুয়া খবর বা ছবিও সহজে বিশ্বাস করে বসব। কোনো নেতার ভুয়া ছবি বা কোনো জাতিকে ছোট করার জন্য বানানো এআই ছবি তখন আমাদের কাছে সত্যি বলে মনে হতে পারে।
এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আসল কনটেন্ট নির্মাতারা। যারা নিজে ক্যামেরা নিয়ে ভিডিও করেন এবং সেটা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের এখন পাল্লা দিতে হবে এমন এক প্রযুক্তির সঙ্গে, যার না আছে ক্লান্তি, না আছে ঘুমের দরকার। খুব অল্প সময়ে হাজার হাজার ভিডিও বানিয়ে দিতে পারে এই এআই। ফলে বাস্তব ও যত্ন নিয়ে তৈরি কাজের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।
কয়েক দিন আগে আমার এক বন্ধু একটি ভিডিও শেয়ার করেছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কয়েকটি কুকুরকে নিয়ে একসঙ্গে দড়ি লাফ দিচ্ছেন। সব কুকুরের গলায় একই রকম ব্যান্ডানা বাঁধা।
প্রথম দেখায় ভিডিওটি একেবারেই আসল মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে আমার মনে প্রশ্ন জাগল। একটি কুকুরকে হয়তো এমন প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। কিন্তু একসঙ্গে ১০টি কুকুর? তখনই সন্দেহ হলো, ভিডিওটি হয়তো এআই দিয়ে বানানো।
আমি বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল, ‘ওহ! কী লজ্জার ব্যাপার। আমি সাধারণত এআই ভিডিও চিনতে ভুল করি না।’
আমার বন্ধু জানাল, ভিডিওটি শেয়ার করার আগে একবারও ভাবেনি এটি আসল কি না। কিন্তু ভিডিওটি ভুল করে শেয়ার করার অস্বস্তি ভিডিওটির চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে ছিল।
শেষে বন্ধুটি একটি কথাই বলল, যা আমাদের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকটকে তুলে ধরে—‘মনে হচ্ছে এখন আর কোনো কিছুকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। পৃথিবীটা যেন অবিশ্বাসের জায়গায় পরিণত হচ্ছে।’

মন খারাপ হলে আমরা অনেকে কী করতাম? ইউটিউব বা ফেসবুকে বিড়াল বা কুকুরের মজার ভিডিও দেখতাম। একটি বিড়াল হঠাৎ পানিতে পড়ে গেছে। একটি কুকুর তার মালিককে জড়িয়ে ধরেছে। ছোট্ট একটি পান্ডা গড়িয়ে খেলছে। এমন ভিডিও দেখে আমরা অজান্তেই হেসে উঠতাম। আনন্দ পেতাম। কারণ জানতাম, ঘটনাটা সত্যিই ঘটেছে।
কিন্তু এখন এই আনন্দ পাওয়ার অভিজ্ঞতা বদলে গেছে। আজকাল কোনো কিউট প্রাণীর ভিডিও দেখলেই মনে প্রথম প্রশ্ন আসে—এটা কি সত্যি? নাকি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো? এই একটা প্রশ্নই ইন্টারনেটে আমাদের আনন্দ পাওয়ার অভিজ্ঞতা বদলে দিচ্ছে।
অনেকে বলেন, ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে তার আভাস পাওয়া যায় বিড়ালের কনটেন্ট দেখে! ‘I Can Haz Cheeseburger’ আমাদেরকে মিমের নতুন দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। Keyboard Cat লাখো মানুষকে ইউটিউবের দিকে টেনেছিল। আর Grumpy Cat-এর মতো ভাইরাল বিড়ালগুলো ইন্টারনেট দুনিয়ায় পরিবর্তন এনেছিল। এখন আবার এক নতুন পরিবর্তনের মুখে আমরা। রাগ, ঘৃণা আর ভুয়া খবরের এই ইন্টারনেটে প্রাণীদের ভিডিও ছিল একটু স্বস্তির জায়গা। এখন মনে হচ্ছে, সেই নির্ভেজাল আনন্দটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া বিশেষজ্ঞ জেসিকা ম্যাডক্স বলেন, ‘আমরা এসব ভিডিও দেখে খুশি হই কারণ আমরা জানি ঘটনাটা আসল। কিন্তু এআই আমাদের সেই বিশ্বাসটাই নষ্ট করে দিচ্ছে। এটি হয়তো কেবল শুরু, সামনে আরও বড় সংকট অপেক্ষা করছে।’
শুরুতে আমার মনে হয়েছিল, সমস্যাটা হয়তো শুধু আমার। প্রযুক্তি নিয়ে এত বছর লেখালেখি করতে করতে হয়তো আমি সবকিছুতেই সন্দেহ করতে শিখেছি। কিন্তু পরে বুঝলাম, আমি একা নই। অনেকেই একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।
ধরুন, আপনি খুব সুন্দর একটা ভিডিও দেখলেন। এতটাই নিখুঁত যে দেখে মনে হচ্ছে এটা সত্যি হতে পারে না। আমরা আসলে কেউ প্রতারিত হতে চাই না। তাই ভিডিও দেখে আনন্দ পাওয়ার বদলে আমরা কমেন্ট বক্সে গিয়ে খুঁজি অন্য কেউ এটা নিয়ে কী বলছে। ভিডিওটা কি আসল, নাকি এআই?
জেসিকা ম্যাডক্সের মতে, এসব ভিডিওর সঙ্গে আমাদের এক ধরণের আবেগের সম্পর্ক থাকে। আমরা যখন কোনো মজার ভিডিও দেখি, তখন মনে মনে ভাবি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা আরেকজন মানুষও এটা দেখে ঠিক একইরকম আনন্দ পেয়েছেন। এই যে সবার সঙ্গে মিলে আনন্দ পাওয়া, এটাই মানুষকে একে অপরের সঙ্গে মনে মনে যুক্ত করে।
এখন প্রশ্ন হলো, মানুষ যদি অ্যানিমেশনও পছন্দ করে, তাহলে এআই দিয়ে বানানো ভিডিও নিয়ে সমস্যা কোথায়? ম্যাডক্স বলেন, ‘সমস্যা তখনই হয়, যখন এআই ভিডিওকে আসল বলে উপস্থাপন করা হয়। তখন দর্শকের মনে হয়, তাকে যেন ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। তখন আনন্দটা আর স্বাভাবিক লাগে না। মনে হয়, ইচ্ছে করে সেই অনুভূতি তৈরি করা হয়েছে। কোথাও যেন এক ধরনের ফাঁকিবাজির গন্ধ থাকে।’
এ নিয়ে ভবিষ্যতে কী হতে পারে? এর দুই ধরনের সম্ভাবনা আছে। প্রথমত, মানুষ এআইয়ের এসব নকল ভিডিও দেখে বিরক্ত হয়ে যাবে এবং আবার আগের মতো বাস্তব ও অরিজিনাল ভিডিও খুঁজতে শুরু করবে। তখন যারা নিজেরা কষ্ট করে ভিডিও বানান, তারা আবার গুরুত্ব পাবেন। দ্বিতীয়ত, এআইয়ের ভিডিওগুলোই একসময় মানুষের গা-সওয়া হয়ে যাবে এবং আমাদের ফিড পুরোপুরি এসব ‘নকল’ ভিডিওতে ভরে যাবে।
২০২৪ সালে হারিকেন হেলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করে। সেই সময় এআই দিয়ে তৈরি কিছু ভয়াবহ ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সেগুলো ব্যবহার করেন মার্কিন সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের সমালোচনা করতে।
এমন একটি ছবি শেয়ার করে সমালোচনার মুখে পড়েন রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সদস্য অ্যামি ক্রেমারও। পরে তিনি লেখেন, ‘ছবিটি কোথা থেকে এসেছে, আমি জানি না। সত্যি বলতে, সেটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণও নয়। ছবিটি আমার মনে গেঁথে গেছে।’
সাংবাদিক পার্কার মলোয়ের মতে, অনেক মানুষের মনোভাবও ছিল এমনই। তারা জানতেন ছবিগুলো আসল নয়। তবু তাদের বিশ্বাস, ছবিগুলো এক ধরনের ‘গভীর সত্য’ তুলে ধরেছে।

এই প্রবণতা শুধু রাজনীতিতে নয়, বিনোদনের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। যেমন, ইদানীং এআই দিয়ে কথা বলা ফলমূলের ভিডিও কোটি কোটি মানুষ দেখছে। মানুষ কি তবে ধীরে ধীরে এই কৃত্রিম বিনোদনকেই আপন করে নেবে?
জেসিকা ম্যাডক্সের মতে, এর প্রভাব শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটা আমাদের সমাজ ও বিশ্বাসের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
ম্যাডক্স সতর্ক করে বলেন, আমরা যদি এআইয়ের তৈরি কুকুর-বিড়ালের ভিডিওগুলো সহজেই মেনে নিতে শুরু করি, তবে একসময় আরও বিপজ্জনক ভুয়া খবর বা ছবিও সহজে বিশ্বাস করে বসব। কোনো নেতার ভুয়া ছবি বা কোনো জাতিকে ছোট করার জন্য বানানো এআই ছবি তখন আমাদের কাছে সত্যি বলে মনে হতে পারে।
এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আসল কনটেন্ট নির্মাতারা। যারা নিজে ক্যামেরা নিয়ে ভিডিও করেন এবং সেটা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের এখন পাল্লা দিতে হবে এমন এক প্রযুক্তির সঙ্গে, যার না আছে ক্লান্তি, না আছে ঘুমের দরকার। খুব অল্প সময়ে হাজার হাজার ভিডিও বানিয়ে দিতে পারে এই এআই। ফলে বাস্তব ও যত্ন নিয়ে তৈরি কাজের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।
কয়েক দিন আগে আমার এক বন্ধু একটি ভিডিও শেয়ার করেছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কয়েকটি কুকুরকে নিয়ে একসঙ্গে দড়ি লাফ দিচ্ছেন। সব কুকুরের গলায় একই রকম ব্যান্ডানা বাঁধা।
প্রথম দেখায় ভিডিওটি একেবারেই আসল মনে হয়েছিল। কিন্তু পরে আমার মনে প্রশ্ন জাগল। একটি কুকুরকে হয়তো এমন প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। কিন্তু একসঙ্গে ১০টি কুকুর? তখনই সন্দেহ হলো, ভিডিওটি হয়তো এআই দিয়ে বানানো।
আমি বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল, ‘ওহ! কী লজ্জার ব্যাপার। আমি সাধারণত এআই ভিডিও চিনতে ভুল করি না।’
আমার বন্ধু জানাল, ভিডিওটি শেয়ার করার আগে একবারও ভাবেনি এটি আসল কি না। কিন্তু ভিডিওটি ভুল করে শেয়ার করার অস্বস্তি ভিডিওটির চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে ছিল।
শেষে বন্ধুটি একটি কথাই বলল, যা আমাদের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকটকে তুলে ধরে—‘মনে হচ্ছে এখন আর কোনো কিছুকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। পৃথিবীটা যেন অবিশ্বাসের জায়গায় পরিণত হচ্ছে।’
.png)

সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
৪ ঘণ্টা আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
৪ ঘণ্টা আগে
একসময় বইয়ের দোকানে মানুষ যেত বই কিনতে। এখন অনেকেই যান বই কিনতে, পড়তে, আড্ডা দিতে, কিংবা শুধু বইয়ের গন্ধে কিছুটা সময় কাটাতে। ঢাকার বাতিঘর, বুকওয়ার্ম, পাঠক সমাবেশ কিংবা বিভিন্ন রিডিং ক্যাফেতে ঢুকলে দেখা যায়, কেউ এক কোণে বসে নিজের মতো বই পড়ছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বই নিয়ে তর্ক করছেন, আবার কোথাও
৫ ঘণ্টা আগে