জামায়াত এমপির অন্তরঙ্গ ভিডিও

বিয়েতে ছিলেন না কাজী, জানেন না কোথায় হয়েছে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা

স্ট্রিম গ্রাফিক

সাতক্ষীরায় জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তরুণীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরালের পর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও অনলাইনে ছড়ানো কাবিননামা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, গত ১৭ জুন দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বাবা মাসুম বিল্লাহর বাসায় বিয়ে হয়।

তবে কাবিননামা তৈরি করা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার গাবুরা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা বিএএম বাকী বিল্লাহ বিয়েতেই ছিলেন না। কবে, কোথায় বিয়ে হয়েছে সেটিও জানেন না।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে কাবিননামায় উল্লেখ করা এই কাজীর কাছে বিয়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্বীকার করেন, বিয়ে কবে, কোথায় হয়েছে তিনি জানেন না।

এমনকি তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগই করা হয় গত পরশু (সোমবার) রাতে (ভিডিও ছড়ানোর পর)। ঢাকা থেকে ফোনকলে দেওয়া তথ্য দিয়ে পরে তিনি কাবিননামা তৈরি করেন।

কাজী বাকী বিল্লাহ বলেন, সোমবার রাতে তাঁকে জানানো হয়, ঢাকায় বিয়ে হয়েছে। নিবন্ধন তাঁকে করতে হবে। নিকাহ রেজিস্ট্রির জন্য কাগজপত্র বুধবার তাঁর কাছে আসতে পারে বলেও জানান।

গত সোমবার সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ায়। এরপর ঘটনাটি ঘিরে কয়েক দফায় ব্যাখ্যা বদলানো হয়।

প্রথমে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করে জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল। পরে মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে ভিডিওতে থাকা তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায়, আরও অর্থ দাবি এবং ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, এই বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মোছা: মরিয়াম বেগমের সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন হয়। আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো: মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে এই বিবাহ হয়।

ভিডিও বার্তায় প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামও দ্বিতীয় বিয়ের দাবি সমর্থন করে বলেন, ‘মরিয়মের সঙ্গে বিবাহ হয়েছে। এটা নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছেন, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ১৭ জুন তাঁর মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়। সেখানে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে গাজী নজরুল ব্যাখ্যা করেন, ১৩ জুলাই প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে যান। সেখানে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে অবস্থান করেন। তাঁর দাবি, ওই কার্যালয়ে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা ছিলেন।

গাজী নজরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, যোহরের নামাজের আগে তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ বাইরে যান। ওবায়দুল্লাহ তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। পরে পাঁচ থেকে সাতজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কক্ষে নিয়ে আসেন ওবায়দুল্লাহ।

গাজী নজরুলের দাবি, ওই ব্যক্তিরা তাদের জিম্মি করেন। এরপর তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত ভাড়ার গাড়িটিও আটকে রাখা হয়। আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ছিল। ওই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়।

সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথা জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতিতে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তারা নজর রাখছে।

জামায়াত জানায়, এই বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হবে। প্রকৃত ঘটনার তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়মে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বিবৃতিতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ বা তদন্তের সময়সীমা জানানো হয়নি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত