ফটো ফিচার/জলের বুকে কাঠের রাজ্য

নদীর নাম সন্ধ্যা। নদীর বুকজুড়ে সারি সারি নৌকা। কোথাও গাছের গুঁড়ির স্তুপ, কোথাও সদ্য কাটা সেগুনের গন্ধ, কোথাও আবার কাঠে ঠকঠক হাতুড়ির শব্দ। সন্ধ্যা নদীর জল এখানে শুধু স্রোত বয়ে নেয় না, বহন করছে শত বছরের বাণিজ্য।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ, অনেকের কাছে এখনও যার নাম স্বরূপকাঠি। নামের মধ্যেই যেন কাঠের গন্ধ লেগে আছে। দেশের বৃহত্তম ভাসমান কাঠের বাজার সারা বছর সন্ধ্যা নদীর বুকে বসে। জায়গা কম, কাঠ বেশি। তাই নদীর চরেই বাঁধা থাকে বিশাল বিশাল কাঠের গোলা। ক্রেতা এলে সেখান থেকেই খুলে দেওয়া হয় কাঠ। জলই এখানে কাঠের গুদামঘর। জমিনে নয়, লেনদেনের মঞ্চ নৌকা- নৌকাই এক একটি কাঠের দোকান।

ইতিহাস বলছে, ১৯১৮ সালের দিকে কালীবাড়ির শাখা খাল ঘিরে শুরু হয়েছিল এই বাজার। সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ, পাহাড়ি সেগুন আর গর্জনের টানে তখন থেকেই জমে ওঠে কাঠের বাণিজ্য। নদীপথই ছিল সবচেয়ে বড় মহাসড়ক।

শুধু কাঠ নয়, এই বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হাজারো মানুষের জীবন। মাঝি, শ্রমিক, করাতকলের কর্মী, ট্রলারচালক, ব্যবসায়ী, চা বিক্রেতা, খাবারের দোকানদার। একটি হাট মানেই অসংখ্য পরিবারের রুজি।

ছবি তুলেছেন রফিকুল ইসলাম

স্ট্রিম ছবি
পিরোজপুর

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৫: ২৫
সন্ধ্যা নদীর তীরে দেশের সবচেয়ে বড় ভাসমান কাঠের হাট।
কালীবাড়ির শাখা খালজুড়ে হাট, পাশেই কাঠ চেরাইয়ের স মিল।
নদীর তীরে ফেরীঘাট এলাকা। পাশেই নদীর জলে বিক্রির অপেক্ষায় কাঠ।
বিক্রির জন্য পানি থেকে তোলা হচ্ছে কাঠ।
পানি থেকে কাঠ তুলছেন বিক্রির জন্য।
বিকিকিনির পর গোলকাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নৌপথে।
স্থানীয় স মিলে চেরাই হচ্ছে কাঠ

বিষয়:

নদীগাছ
Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত