হিপি মুভমেন্ট থেকে রেভ কালচার: ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড ও বিপথগামী তারুণ্য

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৫৫
স্ট্রিম গ্রাফিক

স্যাটেলাইট চ্যানেল, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে পশ্চিমা বিশ্বের যেকোনো সাব কালচার খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে। এরমধ্যে অন্যতম একটি বিতর্কিত সংস্কৃতির নাম ‘রেভ কালচার’, যার সূত্রপাত মূলত ষাটের দশকের হিপি মুভমেন্টের বোহেমিয়ান লাইফস্টাইল ও পুঁজিবাদী সমাজের গভীর হতাশা থেকে।

ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক, নিয়ন আলোর ঝলকানি এবং রাতভর নাচের উন্মাদনায় ঘেরা এই সংস্কৃতি বর্তমানে ঢাকার শহুরে উচ্চবিত্ত তরুণ প্রজন্মের একাংশকে তীব্রভাবে আকৃষ্ট করছে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে কেবলই আনন্দময় মিউজিক্যাল বিনোদন মনে হলেও, এই চকচকে আবরণের আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক শূন্যতা এবং পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। এই কালচারের সাথে জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন ধরনের সিন্থেটিক ড্রাগ। হিপিজমের আধুনিক রূপ ধারণ করে ছড়িয়ে পড়া এই ‘রেভ আগ্রাসন’ এখন ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড লাইফে বিপথগামী তারুণ্যের এক চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেভ কালচারের উৎস ও বিবর্তন

ভাষাগতভাবে ‘রেভ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো প্রলাপ বকা, উন্মত্তের মতো আচরণ করা বা তীব্র উত্তেজনা প্রকাশ করা। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, বিশেষ করে ১৯৫০-এর দশকে লন্ডনের বোহেমিয়ান তরুণদের বন্য ও উন্মত্ত পার্টিগুলোকে বোঝাতে প্রথম এই শব্দের ব্যবহার শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ষাটের দশকে হিপি সংস্কৃতির বিকাশের সাথে সাথে এই শব্দের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। সমাজ ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ, প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং তথাকথিত ‘মুক্তির’ অন্বেষণে হিপিরা যে বোহেমিয়ান লাইফস্টাইলের সূচনা করেছিল, তা রেভ কালচারের মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি তৈরি করে।

রেভ কালচারের আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তৈরি হয় আশির দশকের শেষভাগে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে। তখন একে বলা হতো ‘সেকেন্ড সামার অব লাভ’। যুক্তরাজ্যের তরুণ সমাজ যখন তৎকালীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর ক্ষুব্ধ, ঠিক তখন তারা সমাজের মূলধারা থেকে দূরে গিয়ে পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরি, ওয়্যারহাউস কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের খোলা মাঠে রাতভর নাচের পার্টি আয়োজন করতে শুরু করে। ৯০-এর দশকে এসে এটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সাব কালচার রূপ নেয়। ইউরোপের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্লাবগুলো থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন একসময় বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করে এবং বর্তমান যুগে এসে তা ‘টুমরোল্যান্ড’ বা ‘আল্ট্রা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল’-এর মতো বিলিয়ন ডলারের মেগা উৎসবে পরিণত হয়েছে।

পুঁজিবাদী সমাজের বিষফোঁড়া: হতাশা ও অবক্ষয়ের মনস্তত্ত্ব

সমাজবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে রেভ কালচার ক্যাপিটালিস্ট সোসাইটির একটি গভীর ক্ষত। ক্যাপিটালিজম মানুষকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিয়ে চরম একাকী এবং রোবটিক করে তুলেছে। পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা, সম্পর্কের ভঙ্গুরতা এবং ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক মেন্টাল প্রেসার তরুণদের মনে এক ধরণের অস্তিত্বসংকট ও তীব্র হতাশার জন্ম দেয়। এরকম অবস্থায় যখন প্রচলিত সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামো একজন তরুণকে মানসিক প্রশান্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সে এস্কেপিজমের পথ খোঁজে। এই পর্যায়ে রেভ পার্টিগুলো এই তরুণদের কাছে এমন একটি পরিবেশের প্রলোভন দেখায়, যেখানে কোনো সামাজিক নিয়ম বা জবাবদিহিতা নেই; আছে কেবল সাময়িক আত্মবিস্মৃতি।

পিএলইউআর আদর্শ: একটি অবাস্তব মোড়ক

রেভ কালচারের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রচার করা হয় চারটি শব্দকে—পিএলইউআর (পিস, লাভ, ইউনিটি, রেসপেক্ট)। এই পার্টিগুলোতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান এবং প্রত্যেকে একে অপরকে বিনাশর্তে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে এই দর্শন সুগার কোটেড। পুঁজিবাদী বাজার এই ‘প্রেম ও ঐক্যের’ দর্শনকে পুঁজি করে মূলত টিকিট, বিশেষ ধরনের পোশাক (ক্যান্ডি ব্রেসলেট, নিয়ন ড্রেস) এবং ড্রাগের বিশাল বাণিজ্য সচল রাখছে। রেভ কালচার যে শান্তির কথা বলে তা আসলে সাময়িক মোহ, যা পার্টির আলো নিভে যাওয়ার সাথে সাথেই কর্পূরের মতো উড়ে যায়।

মিউজিক ও ড্রাগের একাত্মতা: এক ভয়ংকর মেলবন্ধন

রেভ পার্টির মূল চালিকাশক্তি হলো মিউজিক, তবে এটি সাধারণ কোনো মিউজিক নয়। রেভ পার্টি অতি-উচ্চ কম্পাঙ্কের ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকে সমৃদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে টেকনো, অ্যাসিড হাউজ, সাইকেডেলিক ট্র্যান্স এবং ড্রাম অ্যান্ড বেস। ডিজেরা পার্টিগুলোতে বিরতিহীনভাবে বেইজ-হেভি সাউন্ড ট্র্যাক বাজিয়ে যান। এসব মিউজিক মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনাকে অবশ করে একটা সম্মোহনী পরিবেশ তৈরি করে। আর এভাবেই লাইভ লেজার শো, স্ট্রোব লাইটিং এবং লাউড সাউন্ড তরুণদের অবচেতন মনকে ঘোরের মধ্যে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে নাচতে বাধ্য করে।

রেভ কালচারের বিকাশ এবং সিন্থেটিক ড্রাগের উত্থান সবসময়ই হাত ধরাধরি করে চলেছে, যেখানে রেভ পার্টি ও এমডিএমএ একে অপরের পরিপূরক। এমডিএমএ বা মেথিলেনডিওক্সিমেথঅ্যামফিটামিন একটি কৃত্রিম উদ্দীপক ও সাইকেডেলিক ড্রাগ, যা ‘এক্সট্যাসি’ বা ‘মলি’ নামেও পরিচিত। এই ড্রাগ মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে মনস্তাত্ত্বিক আনন্দ, চরম উত্তেজনা এবং হাই সেনসিটিভ অনুভূতি তৈরি করে। এ ছাড়াও হাই বিট-এর ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিকের সাথে সিন্থেটিক ড্রাগস যুক্ত হয়ে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং এক ধরনের ইউফোরিয়া সৃষ্টি করে। এভাবেই তীব্র উদ্দীপক ড্রাগের প্রভাবে তরুণরা শারীরিক ক্লান্তি-তৃষ্ণা ভুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উন্মত্ত হয়ে নাচতে থাকে। এমনিতে আকর্ষণীয় বলে মনে হলেও এটি আসলে অত্যন্ত মারাত্মক পরিস্থিতি, কারণ এটি শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে বা হাইপারথার্মিয়া ঘটিয়ে চরম ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি করে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতির পাশাপাশি তাদের মধ্যে ডেকে আনে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের মতো গভীর বিষণ্নতা।

বাংলাদেশে রেভ কালচারের অনুপ্রবেশ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে পশ্চিমা ধাঁচের এই ইলেকট্রনিক মিউজিক পার্টির সংস্কৃতি একদম নতুন না হলেও, গত এক দশকে এর বিস্তার ঘটেছে বেশ দ্রুত গতিতে। ২০১০ সালের পর যখন বিশ্বব্যাপী ইডিএম মিউজিকের জোয়ার আসে, তখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঢাকার অভিজাত শ্রেণির তরুণরা এর সাথে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়। শুরুর দিকে ঢাকার কিছু নির্দিষ্ট ক্লাব বা পাঁচ তারকা হোটেলের রুফটপে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হলেও সময়ের সাথে সাথে এই কালচার আন্ডারগ্রাউন্ড রূপ নিতে শুরু করে।

পশ্চিমা বিশ্বের মতো বাংলাদেশে পুলিশ বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরি বা উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে পার্টি করা সাধারণত সম্ভব হয় না। তাই এখানকার আয়োজকরা বেছে নিয়েছে ভিন্ন পথ। তারা গুলশান, বনানী বা পূর্বাচলের বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেল বা রিসোর্ট এবং রুফটপ লাউঞ্জে আন্ডারগ্রাউন্ড মিউজিক নাইটের আয়োজন করে। আবার কখনো গাজীপুর বা মাওনার বিভিন্ন রিসোর্ট বুক করে উইকএন্ডে রাতভর মিউজিক ফেস্টের আয়োজন করে, যা রেভ কালচারের একটি পরিমার্জিত আন্ডারগ্রাউন্ড রূপ। সোশ্যাল মিডিয়ার গোপন গ্রুপ বা ক্লোজড সার্কেলের মাধ্যমে এই ইভেন্টগুলোর পাস বিক্রি হয়, যার মূল্য সাধারণ তরুণদের সাধ্যের বাইরে। এছাড়াও কক্সবাজার, সিলেট বা চট্টগ্রামের বিচ ও রিসোর্ট পার্টিগুলোতেও রেভ কালচারের আগ্রাসন দেখা যায়।

ধনিক শ্রেণির যুবসমাজ এবং ড্রাগের ভয়াল বিস্তার

বাংলাদেশে রেভ কালচার এখনো সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়নি; আকাশচুম্বী ব্যয়ভারের কারণে এটি মূলত আভিজাত্যপ্রবণ উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত তরুণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। পকেটমানির অপব্যবহার এবং সঠিক অভিভাবকত্বের অভাবই এই শ্রেণির তরুণদের অতি সহজেই ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছে। ঢাকার অভিজাত সমাজে গোপন পার্টিতে যোগ দেওয়া ও দামি বিদেশি ডিজেদের গান শোনাকে এক ধরণের ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ হিসেবে দেখা হয়। টুমরোল্যান্ড বা ইডিসির মতো আন্তর্জাতিক উৎসবের আলো ঝলমলে রূপের অন্ধ অনুকরণ এবং ফাঁপা লাইফস্টাইলের মোহ এই বিপথগামিতা সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশে নতুন মাত্রার ড্রাগের আগ্রাসন

আগে ড্রাগস বলতে ফেন্সিডিল, হেরোইন কিংবা ইয়াবার নাম শোনা গেলেও, ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড রেভ কালচারের হাত ধরে এখন দেশে প্রবেশ করেছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও মারাত্মক সিন্থেটিক ড্রাগস। সারারাত ক্লান্তিহীনভাবে নাচার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এমডিএমএ বা এক্সট্যাসি, যা শরীরে তীব্র হ্যালুসিনেশন ও ইউফোরিয়া তৈরি করে। মিউজিক ও রঙিন লাইটের অনুভূতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে ট্রিপ তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিষাক্ত এলএসডি। এ ছাড়া সাময়িক হুজুগ ও চরম মাত্রার ঘোর তৈরি করতে ম্যাজিক মাশরুম ও আইসের মতো ড্রাগস গ্রহণ করা হচ্ছে, যা স্নায়বিক বিকৃতি এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতা পর্যন্ত বাড়ায়। এই ধরনের আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় সিন্থেটিক ড্রাগসের আগ্রাসন ঢাকার তরুণ সমাজকে এক ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ও প্রতিরোধের উপায়

ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড লাইফের এই অন্ধকার অধ্যায় থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা কোনো একক পক্ষের কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন বহুমুখী ও সমন্বিত উদ্যোগ।

পারিবারিক সচেতনতা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার পুনরুজ্জীবন: উত্তরণের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে পরিবারে। বাবা-মায়েদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের সন্তানরা কাকে বন্ধু বানাচ্ছে, কোথায় রাত কাটাচ্ছে এবং অতিরিক্ত অর্থের অপব্যবহার করছে কি না। সন্তানদের সাথে গুণগত সময় কাটানো এবং তাদের একাকিত্ব দূর করা জরুরি। একই সাথে, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে সুস্থ দেশীয় সংস্কৃতি, খেলাধুলা, নাটক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াতে হবে, যাতে তরুণরা মিছে আনন্দের পেছনে না ছুটে বাস্তব জীবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।

কঠোর আইনি নজরদারি ও ড্রাগস নিয়ন্ত্রণ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টির এই নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি বাড়াতে হবে। রিসোর্ট বা লাউঞ্জগুলোতে গভীর রাতে ডিজে পার্টির নামে কী হচ্ছে, তার নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। ডার্ক ওয়েব বা সোশ্যাল মিডিয়ার গোপন গ্রুপগুলোর মাধ্যমে যে সিন্থেটিক ড্রাগসের চোরাচলান ও বেচাকেনা চলছে, তা রুখতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে আরও সক্রিয় হতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নতুন প্রজন্মের এই সিন্থেটিক ড্রাগস শনাক্তকরণে আধুনিক কিট ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করতে হবে।

গণমাধ্যম ও মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিংয়ের ভূমিকা: গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেভ কালচার এবং সিন্থেটিক ড্রাগসের কুফল নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদার কাউন্সিলর নিয়োগ করা উচিত, যেন কোনো তরুণ ডিপ্রেশন বা হতাশায় ভুগলে ড্রাগসের আশ্রয় না নিয়ে সঠিক মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলিং পেতে পারে।

মিউজিক মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, মনকে দেয় প্রশান্তি। কিন্তু সেই মিউজিক যখন পুঁজিবাদের ফাঁদে পড়ে ড্রাগের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা কালচারাল রূপ হারিয়ে পরিণত হয় মারণব্যাধিতে। ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড লাইফে ছড়িয়ে পড়া ‘রেভ কালচার’ আজ আমাদের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আধুনিকতা বা বিনোদনের নামে সাব কালচারের এই নেতিবাচক রূপকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখনই যদি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, তবে রেভ কালচারের নিয়ন আলোর নিচে আমাদের তরুণ সমাজ চরম অন্ধকারের গহ্বরে হারিয়ে যাবে।

  • সুমন সুবহান: নিরাপত্তা বিশ্লেষক

বিষয়:

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত