সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাবি শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ২৩: ০১
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেওয়া বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় ভূমিকা পালন করছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফেসবুকবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে।’ এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তের বিকল্প নেই।’

শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রয়োগের তাগিদ দেন তারেক রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার শুধু পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরও মনোযোগী হওয়া জরুরি।

তারেক রহমান আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদেরও আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। বৈশ্বিক কর্মবাজারে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায় পারদর্শী হওয়া এবং প্রযুক্তির সাথে সাথে নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের’ বিভিন্ন কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত