কর ফাঁকি রোধে হুইসেল ব্লোয়ার হবে জনগণ: এনবিআর চেয়ারম্যান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। ছবি: সংগৃহীত

কর ফাঁকি প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, আমরা জনগণের ৩৬ কোটি চোখকে ব্যবহার করব। মানুষ মোবাইলে কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখবে পণ্যটি ট্যাক্স দিয়ে বাজারে এসেছে কিনা। তারা হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে তথ্য দিলে পুরস্কৃত হবেন। আর ফাঁকিদাতাদের জরিমানা করা হবে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন আবদুর রহমান খান। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ, বিজিবিএর শীর্ষ নেতারা।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন আমরা সীমিতসংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরশীল। ফলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ঝুঁকিতে। কর ফাঁকি কমানোর পাশাপাশি করদাতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ই-টিআইএনধারী ১ লাখ ২৮ হাজার। এখান থেকে হয়ত ৫০ লাখের মতো রিটার্ন দেবেন। যারা রিটার্ন জমা দেবেন না, তাদের কাছে এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ যাবে। এরপরও তারা রিটার্ন দাখিল না করলে পরিদর্শক গিয়ে হিসাব বিবরণী দেখবে।

আবদুর রহমান বলেন, আমরা অডিট পদ্ধতি স্বচ্ছ করার জন্য ম্যানুয়াল সিলেকশন পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছি। এখন রিস্ক বেসড অটোমেটেড অডিট সিলেকশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। ভ্যাটের ক্ষেত্রেও আমরা ২০ ক্রাইটেরিয়ায় ৬০০ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করেছি। বড় ধরনের করদাতাদের জন্য জয়েন্ট অডিট শুরু করেছি, যেখানে ভ্যাট এবং ইনকাম ট্যাক্স টিম একসঙ্গে অডিট করবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে রিটেইল লেভেলে ভ্যাটের আওতা খুবই সীমিত। বর্তমানে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা ৮ লাখের কম, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা আইনে কিছু পরিবর্তন এনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বাড়ানো এবং প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করছি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যারা নতুন ভ্যাটে আসবে, তাদের জীবন সহজ করার জন্য আমরা কাজ করছি। তাদের হয়ত প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল করতে হবে না; বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট দিলেই হবে। মোবাইল, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ থেকে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ভ্যাট দিতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, কর ফাঁকি, ভ্যাট ফাঁকি এবং বন্ডের মিসইউজ রোধে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আমরা প্রত্যেকটি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটকে ট্র্যাক ও ট্রেস করতে চাই। কিউআর কোড এবং এআর কোড জেনারেট করে স্ট্যাম্পের মতো লাগিয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে টোবাকো দিয়ে শুরু করলেও, পরে পানির বোতল, ড্রিঙ্কস, সাবান, শ্যাম্পু এমনকি চিপসের প্যাকেটেও এটি দেওয়া হবে। একটি স্বচ্ছ পদ্ধতি হলে করদাতাদের হয়রানি কমে বাড়বে করের আওতা। কমপ্লায়েন্ট করদাতাদের ওপর থেকে চাপও কমে আসবে বলে আশা করছি।

সম্পর্কিত