গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা হত্যাকাণ্ড

বহিষ্কৃত যুবদল নেতার বাড়িতে আগুন-ভাঙচুর, শিবিরের বিক্ষোভ-সমাবেশ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

গাইবান্ধা পৌর শহরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ। স্ট্রিম ছবি

গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী (২৪) হত্যাকাণ্ড কেন্দ্র করে অভিযুক্ত সদ্য সাবেক যুবদল নেতার বাড়িতে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল রোববার (২১ জুন) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে তাঁরসহ প্রতিবেশীর কয়েকটি ঘর পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও জড়িতদের দ্রুত আটকের দাবিতে সোমবার (২২ জুন) গাইবান্ধা পৌর শহিদ মিনারে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। তবে এ ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ওসি মো. মাহবুব আলম।

এর আগে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নেতা মো. মোখলেসুর রহমান মুকুলকে রোববারই (২১ জুন) সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাত ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা যুব দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টু।

সাইফুল্লাহ বারীর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রোববার বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়ায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধরা। পরে তারা মুকুলের বসতঘরে হামলা করে আসবাব ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এর মধ্যেই আগুন মুকুলসহ তাঁর প্রতিবেশীর বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি ঘর পুড়ে গেছে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আগুনে অন্তত আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে সাইফুল্লাহ হত্যার প্রতিবাদে সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টার দিকে গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। দুপুর ১২টার দিকে একটি মিছিল শহীদ মিনার থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সামনে শেষ হয়। এতে জেলার সাত উপজেলা থেকে আসা শিবিরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির ফেরদৌস আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সভাপতি মোজাহিদুল হাসান, জেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান, সাবেক জেলা সভাপতি আবু হাসান আকন্দ, মো. ফেরদৌস সরকার রুম্মানসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রায় ১৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও, এখনো কোনো আসামিকে ধরতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত আসামিদের বিচারের আওতায় না আনা হলে সারা দেশ অচল করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন শিবির নেতারা।

এর আগে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রোববার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়ার চারমাথা মোড়ে নিহত হন সাইফুল্লাহ বারী। এতে গুরুতর আহত হন তাঁর বন্ধু সালাউদ্দিন। সদ্য সাবেক যুবদল নেতা মুকুল ও তাঁর ভাই পলাশের হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ আছে।

নিহত সাইফুল্লাহ বারী উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমানের ছেলে। তিনি রংপুরের ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদ্রাসার আল কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত