গাজীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, উদাসীন প্রশাসন
স্ট্রিম সংবাদদাতাটঙ্গী (গাজীপুর)

গাজীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১১৮ জন চিকিৎসাধীন। সবমিলে এখানে চলতি বছর ১ হাজার ৪৭৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে গত ২৬ আগস্ট কলেজশিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতু এবং ২৪ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় সাদিয়া আক্তারের (৭) মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, জেলার কোনাবাড়ি ও কাশিমপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ঘরে ঘরে রোগী। একাধিক সদস্যের চিকিৎসা সামলাতে হিমশিম পরিবার। ডেঙ্গু বাড়লেও, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের গা নেই। মশক নিধনে তাদের প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও, কোনো তৎপরতা নেই। ডেঙ্গুবাহী দূরে থাক, মশক নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সিটি কর্তৃপক্ষ।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেনের দাবি, নগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো প্রকট আকার নেয়নি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গাজীপুর শহরের কেউ যাতে ডেঙ্গু আক্রান্ত না হন এবং মশার কারণে মহামারি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে প্রশাসন নজর রাখছে।’
কাশিমপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, কোনাবাড়ি-কাশিমপুর ডেঙ্গুর রেড জোনে পরিণত হলেও উদাসীন কর্তৃপক্ষ। মাসে একবারও মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। নিয়মিত ফগার দাগানোর কথা থাকলেও, কাউকে দেখা যায় না।
কোনাবাড়ি থানা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় অনেক ময়লা-আবর্জনা, ডোবা-নালা। দীর্ঘদিন বৃষ্টি পানি জমে রয়েছে। মশার যন্ত্রণায় দিনেও মশারি টানাতে হয়।
সরেজমিন নগরীর কড্ডা, বাইমাইল, নাওজোর, কোনাবাড়ি ও কাশিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পাওয়া যায়। বর্জ্যের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তুরাগ নদের তীর ও আশপাশের এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা জন্মানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়েছে চাপ। শয্যা সংকটে মেঝে, বারান্দা, এমনকি সিঁড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।
স্ত্রীসহ কোনাবাড়ির বাসিন্দা সুলতান আহমেদ প্রায় এক সপ্তাহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। একই এলাকার জরুনের বাসিন্দা নুরুল হক, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো প্রকট আকার নেয়নি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য নেই। শহরের কেউ যাতে ডেঙ্গু আক্রান্ত না হন এবং মশার কারণে মহামারি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে প্রশাসন নজর রাখছে। শওকত হোসেন, প্রশাসক, গাজীপুর সিটি করপোরেশন
সুলতান আহমেদ বলেন, ‘চিকিৎসা চলতাছে, বুঝতাছি ভালো। আবার দেখি এ রকমভাবে আরও অনেক লোকের অবস্থা। কোনাবাড়ির ভিতরে ঘরে ঘরে এমন অবস্থা হইতেছে।’
শয্যা না পেয়ে সিঁড়ির নিচ্ছে থাকা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক দিন ধরে ডেঙ্গুর সমস্যা। কাশিমপুরের অনেকে আমার মতো এখানে এসেছেন। সিট পাই নাই। সিঁড়ির মধ্যে আছি।’
হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব রয়েছে। একটি গার্মেন্টসে অনেক শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করেন। ফলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এজন্য কোনাবাড়ি-কাশিমপুরে প্রশাসনের বাড়তি নজর দরকার।’
কোনাবাড়ির পপুলার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মাস ধরে নিয়মিত ডেঙ্গু রোগী আসছে। বিগত ১৫ দিন বেশি ভর্তি হচ্ছে। যাঁরা আসছেন, পরিবারে দুই-তিনজন একসঙ্গে আসছেন। পরীক্ষায় সবার ডেঙ্গু পজিটিভ।’
.png)






