রাজধানীর দুই পাম্পে চালু ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ২৯
জ্বালানি তেল। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর দুটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য পরীক্ষামূলক কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই ডিজিটাল সিস্টেমটি চালু করেছে।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে এটি চালু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জ্বালানি বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই কার্যক্রম সফল হলে ধাপে ধাপে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে।

এ ব্যবস্থায় প্রতিটি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর জন্য একটি কিউআর কোড তৈরি হবে। ফিলিং স্টেশনে গিয়ে সেই কোড স্ক্যান করলেই গ্রাহক তাঁর জন্য পূর্বনির্ধারিত বরাদ্দের পরিমাণ দেখতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী জ্বালানি নিতে পারবেন। ফিলিং স্টেশনের মালিকেরাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে এন্ট্রি করার পরই জ্বালানি সরবরাহ করবেন।

তবে কোনো গ্রাহকের স্মার্টফোন না থাকলেও এই সেবা পেতে সমস্যা হবে না। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিউআর কোডটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিয়ে গেলেও স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে জ্বালানি নেওয়া যাবে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, বর্তমানে সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেন। এতে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় হবে এবং তাৎক্ষণিক নজরদারির আওতায় আসবে।

নতুন এই ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সরাসরি সংযোগ থাকবে। ফলে যানবাহনভিত্তিক তথ্য যাচাই সহজ হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে, অনিয়ম ও অপচয় কমবে এবং যেকোনো সংকটকালে কার্যকরভাবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত