টিকাজনিত সংকটের দায় আগের সরকারের: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সংগৃহীত ছবি

টিকাজনিত যে সংকট হয়েছে, তা মূলত আগের সরকারের আমলে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, আগামী ৩ মে থেকে সারা দেশে একযোগে হামের টিকা দেওয়া হবে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে (২১ মে’র মধ্যে) সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা সরকারের লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি আলোচিত ইস্যু হলো হামের নতুন প্রাদুর্ভাব। আগের সরকারের সময় থেকে আসা এই টিকাজনিত সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ এবং বরিশালে টিকা দেওয়া হবে। ৩ মে থেকে সারা দেশে একযোগে এ কার্যক্রম চলবে।

ধাপে ধাপে টিকা দেওয়া হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ‘হটস্পট’ এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। ২১ মে’র মধ্যে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করাই মূল লক্ষ্য।

জাহেদ উর রহমান জানান, হাম সংক্রামক রোগ হওয়ায় সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিশুদের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। সরকারের পক্ষ থেকে কেবল দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতে যাতে আমাদের গাফিলতিতে এমন পরিস্থিতি না ঘটে, সেই প্রচেষ্টা আমরা সর্বোচ্চভাবে করব। আমি নিজে একজন ডাক্তার হিসেবে জানি এটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সেই রোগে যখন শিশু মারা যায়, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। এছাড়া ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

সম্পর্কিত