স্ট্রিম প্রতিবেদক

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল রোববার (১২ জুলাই) রাতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সহায়তায় পলাশবাড়ীর রামমন্দির এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সম্প্রতি ৮১ ফুট উচ্চতার রামবিগ্রহ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনা আসেন হরিদাস। সিআইডি তাঁর ব্যক্তিগত হিসাবে প্রায় ১০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। এরপর হরিদাসের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বৈধ কোনো আয়ের উৎসের তথ্য তারা পাননি। তবে তাঁর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অবৈধ লেনদেন ছিল, এটা নগদ লেনদেন। এ ছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও লেনদেন হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২ জুলাই থেকে এই টাকার উৎস ও বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান করছিল সিআইডি। অনুসন্ধান শেষে রোববার হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জসীম উদ্দিন আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ব্যক্তি হরিদাসের হিসাবে অর্থ জমা করেছেন, যা তাঁর পেশা ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে।
একাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, নেই আয়ের উৎস
গ্রেপ্তারের পরে সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হরিদাস চন্দ্র গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম গোপীনাথ তরণী দাস। তিনি ২০০৬ সালে হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকার কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন।
এতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে হরিদাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময় নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবার হিসাবে তাঁর ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনও করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে সিআইডি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুসন্ধানকালে বনানী থানায় হরিদাসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্যও পাওয়া যায়। ওই মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৬৭, ১৬৮, ৪০৬ ও ৪২০ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা করা হয়েছে। তাঁর সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
আগেও গ্রেপ্তার, ৫ ঠিকানায় বসবাস
গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের পাঁচ ছেলে এক মেয়ের মধ্যে হরিদাস চতুর্থ। বাবার অভাবের সংসারে হাল ধরতে তিনি অন্যের শূকর পালন, বাঁশের ডালি কুলা চালুন তৈরি করে বিক্রি ও শ্যালোমেশিন মেরামতের কাজ করেছেন। ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে হরিদাসের বাবা মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামে বসতবাড়ির ৯ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। পরে হরিদাসের তিন বড় ভাই– গোবিন্দ চন্দ্র তরণী দাস, গৌরাঙ্গ চন্দ্র তরণী দাস ও নিত্য নন্দ তরণী দাস ভারতে পাড়ি জমান। এরপর গোপিনাথ স্ত্রী, দুই ছেলে– হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ও আনন্দ চন্দ্র তরণী দাস এবং মেয়েকে নিয়ে গুচ্ছগ্রামে থাকা শুরু করেন। স্ত্রী দুর্গা দাস তরণীর মৃত্যুর পর আনন্দকে নিয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় চলে যান হরিদাসের বাবা। বর্তমানে সেখানেই অঅছেন তিনি। আর একমাত্র বোন দেবা রানী বৈবাহিক সূত্রে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেন।

২০২২ সালে ৮ নভেম্বর ভুয়া পরিচয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সহযোগীসহ ঢাকার বনানীতে গ্রেপ্তার হন হরিদাস। পরে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর দেশের বাইরে পালিয়ে যান। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরেন হরিদাস।
এনআইডি, ব্যাংক হিসাব, টিন সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন নথিতে হরিদাসের পাঁচটি ঠিকানা পাওয়া যায়। এসব ঠিকানার মধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মধ্যরামচন্দ্রপুর, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহয়ের ফুলবাড়িয়া, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিলিগুড়ি। তবে হরিদাসের আদি ঠিকানা বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলী বাজারের গোপীনাথপুর গ্রাম বলে জানা গেছে।
হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে বিয়ে, আবার ফেরেন হিন্দু ধর্মে
পলাশবাড়ীর স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ভারত থেকে ফিরে হরিদাস ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার হন। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর জন্ম তারিখ দেন ১০ অক্টোবর ১৯৮২। অথচ হরিদাসের প্রকৃত জন্ম তারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৯২। এরপর তিনি ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন এবং ময়মনসিংহের মেয়ে সবজি বিক্রেতা সুমি ইসলামকে বিয়ে করেন। পরে সুমিকে তালাক দিয়ে আবার হিন্দু ধর্মে ফেরেন এবং পলাশবাড়ীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে ধর্মীয় বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত হন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হরিদাস চন্দ্র মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামে দুই একর জমির ওপর শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দিরে পুরোনো অবকাঠামোর পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেন। সেখানে ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি ও ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মন্দিরটির কৃষ্ণমূর্তি উদ্বোধন করেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার। ৮১ ফুট উচ্চতার রামের বিগ্রহ নির্মাণাধীন।
পলাশবাড়ীতে রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে রামের বিগ্রহ নির্মাণ কাজ শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি হবে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ। এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গত ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থানের পর হরিদাস ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি গ্রামের কালী মন্দিরের পুরোনো অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে হরিদাসকে সভাপতি ও বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে মন্দির আধুনিকায়নের কাজ শুরু করে কমিটি। মন্দিরের নাম বদলিয়ে রাখা হয় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির।
সম্প্রতি হরিদাসের আয়ের উৎস খুঁজে বের করা ও তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গাইবান্ধায় সচেতন নাগরিক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। কয়েক দফায় মানববন্ধন হয়। শেষ রোববার দুপুরে পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে ময়মনসিংহ বিভাগের ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে সেখানে রিসোর্ট করার তথ্য পাওয়া গেছে।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল রোববার (১২ জুলাই) রাতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সহায়তায় পলাশবাড়ীর রামমন্দির এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সম্প্রতি ৮১ ফুট উচ্চতার রামবিগ্রহ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনা আসেন হরিদাস। সিআইডি তাঁর ব্যক্তিগত হিসাবে প্রায় ১০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। এরপর হরিদাসের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বৈধ কোনো আয়ের উৎসের তথ্য তারা পাননি। তবে তাঁর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অবৈধ লেনদেন ছিল, এটা নগদ লেনদেন। এ ছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও লেনদেন হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২ জুলাই থেকে এই টাকার উৎস ও বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান করছিল সিআইডি। অনুসন্ধান শেষে রোববার হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জসীম উদ্দিন আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ব্যক্তি হরিদাসের হিসাবে অর্থ জমা করেছেন, যা তাঁর পেশা ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে।
একাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, নেই আয়ের উৎস
গ্রেপ্তারের পরে সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হরিদাস চন্দ্র গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম গোপীনাথ তরণী দাস। তিনি ২০০৬ সালে হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকার কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন।
এতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে হরিদাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময় নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবার হিসাবে তাঁর ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনও করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে সিআইডি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুসন্ধানকালে বনানী থানায় হরিদাসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্যও পাওয়া যায়। ওই মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৬৭, ১৬৮, ৪০৬ ও ৪২০ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা করা হয়েছে। তাঁর সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
আগেও গ্রেপ্তার, ৫ ঠিকানায় বসবাস
গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের পাঁচ ছেলে এক মেয়ের মধ্যে হরিদাস চতুর্থ। বাবার অভাবের সংসারে হাল ধরতে তিনি অন্যের শূকর পালন, বাঁশের ডালি কুলা চালুন তৈরি করে বিক্রি ও শ্যালোমেশিন মেরামতের কাজ করেছেন। ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে হরিদাসের বাবা মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামে বসতবাড়ির ৯ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। পরে হরিদাসের তিন বড় ভাই– গোবিন্দ চন্দ্র তরণী দাস, গৌরাঙ্গ চন্দ্র তরণী দাস ও নিত্য নন্দ তরণী দাস ভারতে পাড়ি জমান। এরপর গোপিনাথ স্ত্রী, দুই ছেলে– হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ও আনন্দ চন্দ্র তরণী দাস এবং মেয়েকে নিয়ে গুচ্ছগ্রামে থাকা শুরু করেন। স্ত্রী দুর্গা দাস তরণীর মৃত্যুর পর আনন্দকে নিয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় চলে যান হরিদাসের বাবা। বর্তমানে সেখানেই অঅছেন তিনি। আর একমাত্র বোন দেবা রানী বৈবাহিক সূত্রে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেন।

২০২২ সালে ৮ নভেম্বর ভুয়া পরিচয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সহযোগীসহ ঢাকার বনানীতে গ্রেপ্তার হন হরিদাস। পরে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর দেশের বাইরে পালিয়ে যান। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরেন হরিদাস।
এনআইডি, ব্যাংক হিসাব, টিন সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন নথিতে হরিদাসের পাঁচটি ঠিকানা পাওয়া যায়। এসব ঠিকানার মধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মধ্যরামচন্দ্রপুর, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহয়ের ফুলবাড়িয়া, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিলিগুড়ি। তবে হরিদাসের আদি ঠিকানা বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলী বাজারের গোপীনাথপুর গ্রাম বলে জানা গেছে।
হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে বিয়ে, আবার ফেরেন হিন্দু ধর্মে
পলাশবাড়ীর স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ভারত থেকে ফিরে হরিদাস ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার হন। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর জন্ম তারিখ দেন ১০ অক্টোবর ১৯৮২। অথচ হরিদাসের প্রকৃত জন্ম তারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৯২। এরপর তিনি ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন এবং ময়মনসিংহের মেয়ে সবজি বিক্রেতা সুমি ইসলামকে বিয়ে করেন। পরে সুমিকে তালাক দিয়ে আবার হিন্দু ধর্মে ফেরেন এবং পলাশবাড়ীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে ধর্মীয় বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত হন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হরিদাস চন্দ্র মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামে দুই একর জমির ওপর শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দিরে পুরোনো অবকাঠামোর পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেন। সেখানে ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি ও ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মন্দিরটির কৃষ্ণমূর্তি উদ্বোধন করেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার। ৮১ ফুট উচ্চতার রামের বিগ্রহ নির্মাণাধীন।
পলাশবাড়ীতে রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে রামের বিগ্রহ নির্মাণ কাজ শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি হবে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ। এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গত ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থানের পর হরিদাস ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি গ্রামের কালী মন্দিরের পুরোনো অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে হরিদাসকে সভাপতি ও বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে মন্দির আধুনিকায়নের কাজ শুরু করে কমিটি। মন্দিরের নাম বদলিয়ে রাখা হয় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির।
সম্প্রতি হরিদাসের আয়ের উৎস খুঁজে বের করা ও তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গাইবান্ধায় সচেতন নাগরিক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। কয়েক দফায় মানববন্ধন হয়। শেষ রোববার দুপুরে পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে ময়মনসিংহ বিভাগের ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে সেখানে রিসোর্ট করার তথ্য পাওয়া গেছে।
.png)

বন্যা-বৈরী আবহাওয়ার কারণে সারা দেশেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন। একই দাবিতে সামাজিক মাধ্যমও সরগরম। তবে সারা দেশে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিকে ‘বাস্তবসম্মত’ মনে করছে না আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
১২ মিনিট আগে
হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইনের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
১৪ মিনিট আগে
রাজধানীর ডেমরা পূর্ব বক্সনগর এলাকার দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে বিস্ফোরণে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সোয়া ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
৪২ মিনিট আগে
যশোরের বাঘারপাড়ায় যুবদল নেতা রুবেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত রাব্বির বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
১ ঘণ্টা আগে