কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি ও দুই হত্যা

সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৩: ৩১
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং দুজনকে হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় দিয়েছেন আদালত। এতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পুলিশের এক কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন এবং আরেকজনকে দেওয়া হয়েছে ২০ বছরের কারাদণ্ড।

রোববার (২৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান। তারা তিনজনই পলাতক।

এ ছাড়া আরেক পলাতক আসামি রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। এ সময় রায়ের কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের জন্য অনুমতি চান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। পরে আদালত অনুমতি দেন।

রায়ের শুরুতে আসামিদের দায় পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা। এরপর চার্জ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক এনাম। আর রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চালানো পুলিশের গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। ওই সময় পুলিশ তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে তিনি ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে জীবনে বাঁচলেও তিনি গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ হয় মায়া ইসলামের ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাও। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা নেওয়ার পরও শিশুটির বাকশক্তি ফেরেনি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত