আ.লীগ আমলে সব ক্রসফায়ার ছিল মেটিকুলাসলি ডিজাইনড: চিফ প্রসিকিউটর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। স্ট্রিম ছবি

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারা দেশে ঘটে যাওয়া ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলো পরিকল্পিত ছিল উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটি কমন বা মেটিকুলাস ডিজাইনে সারা দেশে ক্রসফায়ারের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড করেছে তৎকালীন সরকার।’

এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনা যাচাই-বাছাই করে ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ক্রসফায়ারের তালিকা ও মামলার নথিপত্র সংগ্রহ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

এসব ক্রসফায়ারের ধরনের বিবরণ দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সরকার কিংবা স্থানীয় নেতাদের মতের সঙ্গে যাদের অমিল হয়েছে, তাদেরই টার্গেট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুলিশ তাদের সহযোগী হয়েছে। তারা (পুলিশ) ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছে, অস্ত্র উদ্ধারের নাটক করেছে এবং ক্রসফায়ার করে জাতির সামনে একটি মিথ্যা গল্প সাজিয়েছে। প্রত্যেকটি ক্রসফায়ারের স্টোরি বা গল্প একইরকম। এ কারণেই এটি একটি সিস্টেমেটিক বা ওয়াইডস্প্রেড অ্যাটাক এবং এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ আইনের ৩(২) ধারার আওতাভুক্ত অপরাধ।’

এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের পদক্ষেপ সম্পর্কে মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে সারা দেশে ঘটে যাওয়া ক্রসফায়ারের পরিসংখ্যান ও সব মামলার কপি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে একটি তালিকা প্রসিকিউশনের কাছে জমাও দিয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল থেকে ক্রসফায়ার-বিষয়ক ঘটনাগুলোর জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ‘কমিটি এ-সংক্রান্ত মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করবে। এর মধ্যে যেগুলো ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত হবে, তার সবগুলো আমরা এখানে নিয়ে আসব।’

শুধু গত ১৫ বছরের নাকি তার আগেও ঘটা ক্রসফায়ারের তদন্ত হবে—জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এটা আমাদের ট্রাইব্যুনালের একটা প্রিভিলেজ আছে। আমরা কোনো মামলা যদি ইনভেস্টিগেশন ইতিমধ্যে হয়ে থাকে, তাহলে সেই জায়গা থেকে আমরা আমাদের বিচারকার্য শুরু করতে পারব। কোনো মামলা যদি বিচারাধীন থাকে, সেটাও আমরা তুলে নিয়ে এসে সেই জায়গা থেকে আমরা বিচারকার্য শুরু করতে পারব। তো সেই কারণে আমরা টোটাল তালিকা পাওয়ার পরে, আমরা যদি দেখি যে যেকোনো পর্যায়ে—সেটা তদন্তের পর্যায়ে হোক, বিচারের পর্যায়ে হোক; আমরা যদি মনে করি যে এই মামলাগুলো আমাদের এখানে বিচারের প্রয়োজন, আমরা এগুলো তুলে নিয়ে আসবো।’

সম্পর্কিত