বিশ্ববাজারে স্বর্ণে বড় দরপতন, দেশে বিক্রি কত দামে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১১: ০৮
স্বর্ণের দাম। স্ট্রিম গ্রাফিক

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডলারের শক্ত অবস্থান এবং সুদহার বাড়তে পারে– এমন আশঙ্কায় মঙ্গলবার (১৯ মে) দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে।

বর্তমানে স্পট গোল্ড প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৪ দশমিক ৪০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন। এই সময়ে জুনে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৮০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার আরও বাড়াবে বলে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন। আর এই গুঞ্জনে স্বর্ণের বাজার থেকে অনেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছেন।

তাদের ভাষ্য, বর্তমানে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। স্বর্ণে বিনিয়োগে সরাসরি সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ফলে উচ্চ সুদের সময়ে বিনিয়োগকারীরা বন্ডে ঝুঁকে পড়েন। আবার ডলারের দাম বাড়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

লন্ডনভিত্তিক বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মারেক্স– এর বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড মেয়ার বলেছেন, বিশ্বে প্রকৃত সুদহার বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে স্বর্ণের দামে বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় দরপতন হয়েছে। স্পট সিলভারের দাম ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স নেমেছে ৭৩ দশমিক ২৫ ডলারে। প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্ববাজারে কমলেও বাংলাদেশে নতুন করে দর সমন্বয় করেনি বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ফলে সর্বশেষ ১৬ মে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের ভরিতে যে দর ঠিক করেছিল সংগঠনটি, সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে প্রতিভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতিভরির দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

সম্পর্কিত