বার নির্বাচনে ‘ব্যাপক অনিয়ম’, প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় আইনজীবী সংস্থার চিঠি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ০০: ০১
বার কাউন্সিলের লোগো। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি এবং প্রার্থীদের মনোনয়ন জমাদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী সংস্থা কাউন্সিল অব বার্স অ্যান্ড ল সোসাইটিজ অব ইউরোপ (সিসিবিই)।

এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অঙ্গনে অগণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংস্থাটির সভাপতি রোমান জাভর্শেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

৪৬টি দেশের ১০ লাখের বেশি আইনজীবীর প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থাটি ‘ইরেগুলারিটিজ ইন সেভারাল ডিস্ট্রিক্ট বার ইলেকশনস’ শিরোনামের এই চিঠিটি তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করেছে।

ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশের (জেএমবিএফ) তথ্যের বরাত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একাধিক জেলা বার ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে চরম অগণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করেছে।

চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের মনোনয়ন জমাদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং কিছু প্রার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তাও করা হয়েছে। এ ছাড়া অনেককে পূর্ববর্তী সরকারের বা ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

এমনকি পুলিশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করেছে বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়।

চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে সিসিবিই। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বার নির্বাচনে সকল আইনজীবীর সমান ও বৈষম্যহীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নির্বাচনী অনিয়ম, বাধাদান ও সহিংসতার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা এবং সকল আইনজীবী যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি ও হয়রানি ছাড়াই স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।

দাবিগুলোর পক্ষে সংস্থাটি জাতিসংঘের আইনজীবীদের ভূমিকা সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালার ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা আইনজীবীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করে। পাশাপাশি সংস্থাটি কাউন্সিল অব ইউরোপের আইন পেশার সুরক্ষাসংক্রান্ত নতুন কনভেনশনে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে।

চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হুমায়ূন কবির মঞ্জু জানান, বিষয়টি তার জানা নেই।

তবে সুপ্রিম কোর্টের আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে স্ট্রিমকে বলেন, ‘বার নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপি নিয়ে ইউরোপের আইনজীবীদের উদ্বেগ আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার।’

আইন অঙ্গনে এমন অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড বন্ধে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নির্বাচনে এমন অনিয়মের শিকার হয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া সদস্য প্রার্থী উপমা বিশ্বাস তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সিসিবিই-এর মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ধরনের বিষয় তুলে ধরে, তখন বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়। আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার এবং বার নির্বাচনে সবার সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ, এগুলোই আইনের শাসনের মূল ভিত্তি।’

বিষয়:

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত