নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন: সেদিন যা ঘটেছিল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৫৬
নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাতজন। ছবি: এআই জেনারেটেড

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল। নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত ৭ খুনের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তোলে। দিনের আলোতেই অপহরণ, এরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীতে ভেসে ওঠে একে একে ৭টি মরদেহ, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছিল।

কী ঘটেছিল সেদিন

ঘটনার সূত্রপাত সেদিন দুপুরে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় র‍্যাবের সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তাঁর পাঁচজন সহযোগীর গাড়ি থামায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি নজরুল ইসলাম, তাঁর তিন সহযোগী ও গাড়িচালককে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। একই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিনি অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় তাঁকেসহ তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিমকেও র‍্যাব তুলে নিয়ে যায়।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে জানা যায়, ওই রাতেই অপহরণ করা সাতজনকে হত্যা করা হয়। এরপর পেট কেটে এবং ইটের বস্তা বেঁধে সবার মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন।

অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে একে একে ভেসে উঠতে শুরু করে মরদেহগুলো। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনা থেকে ছয়জন এবং পরদিন আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত অন্য ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলামের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, লিটন, তাজুল ইসলাম ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম।

এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা। পরে তদন্তে উঠে আসে, এই হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ। বিশেষ করে র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ ওঠে, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

যে অবস্থায় রয়েছে মামলাটি

সাত খুনের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিচার দাবি করে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়ে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য। পরে মামলাটি আদালতে গড়ায় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত র‍্যাব-১১–এর সাবেক তিন কর্মকর্তা (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, কমান্ডার এম এম রানা, সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষের আপিলে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট নূর হোসেন, র‍্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল রাখেন আদালত।

সাত খুন মামলার সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, সাত খুনের মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) পর্যায়ে রয়েছে।

এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব, এই মামলার শুনানি সম্পন্ন করে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করব।’

সম্পর্কিত