জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৬ এপ্রিল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুরে ‘ জাহাজবাড়ি’ খ্যাত ভবনে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

​রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

​আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। শুনানিকালে তিনি এ মামলায় পলাতক ছয় আসামির পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের আবেদন করেন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৬ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি আদালত আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রসিকিউশন নির্ধারিত সময়ের আগেই আজ এই অভিযোগপত্র জমা দিল।

অভিযোগপত্রে হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ মোট আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজন ইসলামী মনোভাবাপন্ন যুবককে তুলে এনে কল্যাণপুরের ওই বাড়িতে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

সেদিন প্রসিকিউশনের দাবি করেছিলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে এবং দেশে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই জঙ্গি নাটক সাজান।

এ মামলায় পুলিশের সাবেক তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন এ কে এম শহীদুল হক, মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এবং ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা।

এর আগে, গত বছরের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান হামলা হয়। এর ঠিক ২৫ দিন পর ২৬ জুলাই রাতে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের তাজ মঞ্জিল নামে ভবনের পঞ্চম তলায় অপারেশন স্টর্ম-২৬ নামে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ঘণ্টাব্যাপী ওই অভিযানে ৯ জন নিহত হন। ভবনটি জাহাজের আকৃতির হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এটি জাহাজ বাড়ি নামে পরিচিত।

তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করেছিল, নিহতরা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য এবং তাঁরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয় এবং একজন পালিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিন মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও করা হয়, যার বিচারকার্য সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে চলমান ছিল।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই ঘটনার ভিন্ন ভাষ্য সামনে আসতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৬ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আজ প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করল।

সম্পর্কিত