leadT1ad

নির্বাচনের আগে কেন্দ্র দখলের ‘প্র্যাকটিস ম্যাচ’ শুরু হয়েছে: এনসিপি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ০৭
সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। স্ট্রিম ছবি

নির্বাচনি প্রচারে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এসবকে নির্বাচনের আগে কেন্দ্র দখল ও ভোটারকে ভয় দেখানোর প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দলটি। চলমান পরিস্থিতি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে এনসিপি।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় ১১ দলীয় জোটের কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বে এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ শঙ্কা প্রকাশ করে। এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন-বিষয়ক উপকমিটির সেক্রেটারি আয়মান রাহাতও প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে যেন একটি “প্র্যাকটিস ম্যাচ” শুরু হয়ে গেছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে—নির্বাচনের আগে কেন্দ্র দখল, ভোটারকে ভয় দেখানো এবং প্রতিপক্ষকে দমনের প্রবণতা তৈরি করা হয়। এ ধরনের মানসিকতা আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, ‘এনসিপি প্রার্থী আদিবের ওপর হামলা এবং ২৪–পরবর্তী সময়ে দলীয় পরিচয়ে বিএনপির নামে যেভাবে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে, তা নির্বাচনি পরিবেশের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এসব ঘটনা দমন-পীড়ন ও কেন্দ্র দখলের মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে শুনেছি—যদি নির্দিষ্ট কোনো প্রতীক না থাকে, তাহলে প্রয়োজনে বাড়ি থেকে তুলে এনে ওই প্রতীকে ভোট দেওয়ানো হবে। এ ধরনের বক্তব্য আগেও শোনা গেছে, যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য ভয়ংকর সংকেত।’

জামায়াতের প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে হাসনাত বলেন, ‘জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার মতো বক্তব্য বিভিন্ন সময়ে শোনা গেছে। প্রতিপক্ষের প্রচার কার্যক্রমে হামলা, ভয় দেখানো ও আক্রমণাত্মক আচরণ একটি উদ্বেগজনক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচায়ক।’

এ পরিস্থিতিকে নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি এসব অনিয়ম ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচন দিন পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।’

এদিকে, এনসিপির নির্বাচন ও প্রশাসন সমন্বয় উপকমিটির সেক্রেটারি আয়মান রাহা বলেন, ‘দেশব্যাপী নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের প্রবণতা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘রাত ৮টার পর মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক এলাকায় রাত ৩টা–৪টা পর্যন্ত বড় সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’

আয়মান রাহার মতে, এতে সারাদেশে একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—নির্বাচনি আচরণবিধি মানার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, ‘ঢাকা–৮ আসনে সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি সভা অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একইভাবে ঢাকা–১৭ আসনে পোস্টার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে পোস্টার টানানোর ঘটনাও নজরে এসেছে।’

ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অতীতে বিতর্কিত নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তা প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাঁদের অনেককেই এবার প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।’

এনসিপি বলছে যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না আসে; তবে নির্বাচনি মাঠে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে। যা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে উঠবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত