রামিসা হত্যা মামলায় একদিনে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১৯: ১৫
শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। সংগৃহীত ছবি

শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় একদিনে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার ১৬ সাক্ষীর জবানবন্দি নেন। সাক্ষ্যগ্রহণের পাশাপাশি আসামিপক্ষ তাদের জেরা সম্পন্ন করেছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানিয়েছেন, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনে বুধবার (৩ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার এবং বড় বোন।

এছাড়া জবানবন্দি দেন রামিসার ফুফু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, ফুফা মনিরুজ্জামান শাহীন, প্রতিবেশী মনির হোসেন, জাকিরুল ইসলাম রাজু ও শেখ আবু সামা। একই সঙ্গে কনস্টেবল রোমা আক্তার ও শরীফ মিয়া, এসআই ইকবাল হোসেন ও এসআই রাশেদুল ইসলাম, চিকিৎসক নাসাদ জাবিন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. অহিদুজ্জামান আদালতে জবানবন্দি দেন।

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। সোমবার (১ জুন) আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

মামলার অভিযোগ ও তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে ওই বাসারই সাবলেট ভাড়াটিয়া সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না কৌশলে শিশুটিকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে আসামিদের রুমের সামনে তার স্যান্ডেল দেখতে পান মা পারভীন আক্তার। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে অন্যদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা বাথরুমে বালতিতে রামিসার কাটা মাথা ও মাথাবিহীন দেহ দেখতে পান।

পুলিশ তাৎক্ষণিক স্বপ্নাকে আটক করে এবং ওইদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত