ক্রাইসিস কমিউনিকেশন গবেষণায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার চার বাংলাদেশির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

পুরস্কার পাওয়া চার গবেষক। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর বিমান দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সরকারি খাতের কমিউনিকেশন ক্রাইসিস নিয়ে গবেষণার জন্য চারজন বাংলাদেশি কমিউনিকেশন গবেষক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক যোগাযোগ গবেষকদের অন্যতম শীর্ষ বৈশ্বিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশনের ৭৬তম বার্ষিক সম্মেলনে সম্প্রতি এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কমিউনিকেশন গবেষক অংশগ্রহণ করেন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষকরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা উইলমিংটনে কমিউনিকেশন স্টাডিজ বিভাগের ইনকামিং সহকারী অধ্যাপক ড. নাজমা আখতার; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরায় পিএইচডি গবেষক মো. সাঈদ আল-জামান; যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম; এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার পিএইচডি গবেষক এ কে এম জামির উদ্দিন।

গবেষকেরা ‘সরকারি খাতে ক্রাইসিস কমিউনিকেশন: এ কেস স্টাডি অব বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স জেট ক্র্যাশ’ শিরোনামে গবেষণার জন্য এই স্বীকৃতি পান। এটি আন্তর্জাতিক ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশন (আইসিএ) থেকে টপ পেপার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।

গবেষণায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সামরিক বিমান দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের সরকারি খাতে ক্রাইসিস কমিউনিকেশন এবং জাতীয় গণমাধ্যম কীভাবে জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তা বিশ্লেষণ করা হয়। সংকটকালীন যোগাযোগের গতিবিধি বোঝার জন্য গবেষকরা সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত পাঁচ শতাধিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণার লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের দেশগুলোতে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ সরকারি খাতে ক্রাইসিস কমিউনিকেশন পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি তাত্ত্বিক কাঠামো তৈরি করা। ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকরা ‘কেয়ার-সেন্টার্ড গভর্নমেন্ট ক্রাইসিস কমিউনিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে একটি কাঠামো প্রস্তাব করেন, যেখানে সহমর্মিতা, মানবিকতা, নৈতিক জবাবদিহিতা এবং দ্রুত ও সঠিক তথ্য বিনিময়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গবেষণা দলের সদস্য ড. খাইরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের অনেক দেশে সরকারি খাতে ক্রাইসিস কমিউনিকেশন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। ইতিহাসগতভাবে সরকারের প্রতি অবিশ্বাস, দুর্বল গণতান্ত্রিক চর্চা এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা সংকটকালে সরকার, গণমাধ্যম ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগকে প্রভাবিত করে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি খাতে ক্রাইসিস কমিউনিকেশন শুধুমাত্র তথ্য প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বচ্ছ এবং মানবিকতাভিত্তিক যোগাযোগ জনআস্থা বৃদ্ধি, সরকার–গণমাধ্যম সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সংকটকালে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে।

গবেষক দল আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত এই কাঠামো নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা এবং যোগাযোগ পেশাজীবীদের জন্য উন্নয়নশীল দেশসহ অনুরূপ চ্যালেঞ্জপূর্ণ প্রেক্ষাপটে সরকারি খাতে ক্রাইসিস কমিউনিকেশন কৌশল উন্নত করতে কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

ক্রাইসিস কমিউনিকেশন গবেষণায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার চার বাংলাদেশির