ঢাকা বার নির্বাচন: নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সবুজ প্যানেলের আপত্তি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৫৬
ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার)। স্ট্রিম ছবি

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন গঠনে সমতা না থাকার অভিযোগ তুলেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিশন গঠনের পূর্ণ এখতিয়ার সমিতির বর্তমান কার্যকরী পরিষদের; এখানে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সবুজ প্যানেলের নেতারা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

ঢাকা বারের বর্তমান কার্যকরী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, প্রচলিত নিয়ম উপেক্ষা করে একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার বা আমার কমিটির লোকদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করেই তাঁরা এই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে ১১ সদস্যের কমিশনের ৫ জন এবং ১০০ সদস্যের মধ্যে ৫০ জনকে অবশ্যই সবুজ প্যানেল থেকে নিতে হবে। এই সমতা না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বর্তমান কমিটির বাইরে থাকা সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছেন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, প্রথাগতভাবে নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকার কথা থাকলেও এবার তা মানা হয়নি। তিনি বলেন, ‘১০ জন কমিশনারের মধ্যে তাঁরা এককভাবে ৭ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। একটি ব্যালট পেপারে দুই পক্ষের দুজনের স্বাক্ষর লাগে। ৭ জন এক পক্ষে থাকলে অন্য পক্ষের অংশগ্রহণ ছাড়াই তাঁরা স্বাক্ষর করতে পারবেন। অর্থাৎ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একতরফা করা হচ্ছে।’

তিনি স্বচ্ছতার স্বার্থে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট গণনার দাবি জানান এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

সবুজ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন সাধারণ আইনজীবীদের ভোটাধিকার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বোরহান উদ্দিন স্ট্রিমকে জানান, ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর গঠনতন্ত্রের সর্বশেষ সংশোধিত ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের অন্তত ৩০ দিন আগে নির্বাহী কমিটি ১ জন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ১০ জন নির্বাচন কমিশনার এবং ১০০ জন সদস্য নিয়ে ১১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিশন গঠন করবে। তিনি বলেন, ‘কমিশন গঠনের আইনি ক্ষমতা পুরোপুরি “রানিং” বা বর্তমান কমিটির। এই কার্যক্রমে আমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই। বিরোধীপক্ষের দ্বিমতের বিষয়টি আমি ব্যক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে জেনেছি, কিন্তু দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ বর্তমান কমিটির ওপরই বর্তায়।’

আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ঢাকা বারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিষয়:

আইনজীবী
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত