রূপপুরের বিদ্যুৎ আসলে মিলবে কবে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কবে উৎপাদনে আসবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও সরকার থেকে ‘ফুয়েল লোডিং’ (পারমাণবিক জ্বালানি স্থানান্তর) ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে নতুন নতুন সময়সূচি ঘোষণা হয়ে আসছে। সবশেষ প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল।

এর আগে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কমিশনিং লাইসেন্স না পাওয়ায় ঘোষণা দিয়েও ৭ এপ্রিল ফুয়েল লোড করা যায়নি। ১৬ এপ্রিল সেই অনুমতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য এখন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি প্রস্তুত।

রূপপুর প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ধাপ হলো রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোড করা; যাকে ফুয়েল লোডিং বলা হয়ে থাকে। কিন্তু অন্তত চারবার ফুয়েল লোডিংয়ের সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথমে এ বছর ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এরপর মার্চ ও এপ্রিল মিলিয়ে আরও তিনবার সময়সীমা ঘোষণা করেও তা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচিও বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর যখন প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়, তখন বলা হয়েছিল—পাঁচ বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে ২০২২ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০২৩ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

এরপর লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল, এবং পরে ২০২৫ সাল করা হয়। এরপর জানানো হয়, ২০২৬ সালের জুনে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। সবশেষ জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে আংশিক (৩০০ মেগাওয়াট) উৎপাদন শুরু এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১২০০ মেগাওয়াট পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রূপপুর প্রকল্প জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের সহায়ক হতে পারত। কিন্তু বারবার সময় পেছানোর কারণে প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা, কারিগরি প্রস্তুতি ও কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা আছে কি-না সেই প্রশ্ন উঠছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ২০২৩ ও ২৪ সালেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল। এখন প্রথম ইউনিটের জন্যই ২০২৬ সাল শেষ হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিট যদি ২০২৭ সালে উৎপাদনে আসে, তাহলে তিন বছর পিছিয়ে গেলাম। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত চালু করাটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এত দেরি কেন হলো সেটির উপযুক্ত জবাবটাও নেওয়া দরকার।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক মো. কবীর হোসেন স্ট্রিমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) মাধ্যমে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জুলাইয়ের শেষ দিকে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।

এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, কার্যক্রমে যাওয়ার জন্য প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন-সংক্রান্ত কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। তবে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকে, এগুলোর ক্ষেত্রে সময় ঘোষণা করা হলেও নির্দিষ্ট দিন-তারিখ দিয়ে আসলে হয় না। এ জন্য পূর্বে সময় ঘোষণা করেও তা নির্দিষ্ট দিনে সম্পন্ন হয়নি। আশা করছি এখন যে সময়সীমা নিয়ে এগোনো হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করা যাবে।

সম্পর্কিত