হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর
ইমরান হোসাইন

নারায়ণগঞ্জের কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৩ বছর আগামীকাল রোববার। দীর্ঘ এই সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা বদলেছে ১০ বার। আদালতের নির্দেশে ১০৩তম বারেও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। আগামী ২৬ এপ্রিল অভিযোগপত্র জমার নতুন দিন দিয়েছেন আদালত।
তবে ছেলে হত্যার বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বাদী রফিউর রাব্বি স্ট্রিমকে বলেছেন, সব প্রমাণের পরও ওসমান পরিবারের কারণে এতদিন বিচার পাইনি। শুনেছি তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঢেলে পালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে ওসমান পরিবারের। এই টাকা দিয়ে তারা বিচারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। বিচারপ্রক্রিয়া অন্যদিকে মোড় নেওয়ার শঙ্কা এখনো প্রবল। তবে আমি আশা করি, বিএনপি সরকার বিচার বন্ধ রাখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ত্বকী হত্যায় ন্যায়বিচার উপহার দেবে।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে বের হয় ত্বকী। নিখোঁজের দুদিন পর ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ অবস্থায় ৭ মার্চ ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। তাতে পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ত্বকী।
৮ মার্চ হত্যা মামলা করেন রফিউর রাব্বি। পরে ডিবির ফোনালাপ রেকর্ড শুনে ঘাতকদের নাম প্রকাশ্যে জানান তিনি। এরপর সাতজনকে আসামি করে আদালতে অবগতিপত্র দেন রাব্বি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ জানান, মোট ১১ আসামির মধ্যে আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জামশেদ কারাগারে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক। বাকিরা কেবল আদালতে হাজিরা দিয়ে যান।
বাবাকে ‘শায়েস্তা’ করতে হত্যা
ত্বকীর বাবা জানান, র্যাবের খসড়া প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনটি মূল কারণ উঠে আসে। প্রথমত, ২০১১ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শামীম ওসমানের বিপক্ষে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব আমি পালন করেছিলাম। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যান শামীম ওসমান। দ্বিতীয়ত, পরিবহন খাতে ওসমান পরিবারের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন। তৃতীয়ত, ১ নম্বর রেলগেটে নাসিম ওসমানের মার্কেট নির্মাণের বিরুদ্ধে জমি রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব। মূলত আমাকে শায়েস্তা করতে ত্বকীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের ছয়টি টর্চার সেল পেয়েছিল র্যাব। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ রাতে ত্বকীকে অপহরণ করে শহরের আল্লামা ইকবাল রোডে আজমেরী ওসমানের ‘উইনার ফ্যাশন’– এর টর্চার সেলে নেওয়া হয়। সেখানে সহযোগীদের নিয়ে আজমেরী পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে ত্বকীকে হত্যা করে। এরপর লাশ বস্তায় ভরে আজমেরীর গাড়িতে করে নিয়ে নৌকাযোগে কুমুদিনী জোড়াখালে ফেলা হয়। ২০১৩ সালের ৭ আগস্ট ওই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ত্বকীর রক্তমাখা জিন্স, পিস্তলের বাট ও ইয়াবা জব্দ করে র্যাব। দেয়াল, সোফা ও আলমারিতে ছিল গুলির চিহ্ন।
ডিবির নথিতে থাকা সেই ফোনালাপ
অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ স্ট্রিমকে বলেন, ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর নাসিম ওসমান তাঁর ছেলে আজমেরী ওসমানকে ফোন করে জানতে চান— ‘এই কাজ কারা ঘটিয়েছে?’ আজমেরী ওসমান জবাবে বলেন, ‘ছোটটায়’। মানে, শামীম ওসমানের ছেলে, অয়ন ওসমান। নাসিম ওসমান তখন জিজ্ঞেস করেন, ‘তুইও তো ছিলি?’ আজমেরী তখন চুপ থাকেন। এরপর নাসিম ওসমান গালাগাল করে বলেন, ‘তোদের জন্য চলতে পারছি না, থানায় লাখ লাখ টাকা দিয়ে এলাম।’
রাব্বি জানান, ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ ঢাকার ডিবি থেকে এক কর্মকর্তা তাঁর বাসায় এসে এই কথোপকথন শোনান, যা ‘বাংলাদেশ ফর্ম ন. (এম) থারটি ফোর’ হিসেবে নথিভুক্ত। ওই কথোপকথনে নাসিম ওসমান আরও বলেছিলেন, ‘এটা প্রকাশ পেলে কিন্তু আমাদের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে।’
এই রেকর্ড শুনেই নিশ্চিত হন রাব্বি। ১৫ মার্চ শহীদ মিনারে জনসমাবেশে প্রথমবার প্রকাশ্যে ওসমান পরিবারের নাম উচ্চারণ করেন তিনি। দুদিন পর ১৭ মার্চ শামীম ওসমান, অয়ন ওসমানসহ সাতজনের নামে পুলিশ সুপারের কাছে সম্পূরক অভিযোগ দেন রাব্বি।
১৩ বছরেও হয়নি বিচার
হত্যাকাণ্ডের এক বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ৫ মার্চ র্যাব-১১ সাংবাদিকদের ডেকে প্রত্যেকের হাতে খসড়া অভিযোগপত্রের কপি দেন। র্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান ঘোষণা দেন, আজমেরী ওসমানসহ ১১ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে, যেকোনো দিন অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
এর আগে ২০১৩ সালের জুলাই ও নভেম্বরে ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পরিকল্পনা থেকে হত্যা পর্যন্ত সব ঘটনার বিবরণ দেন। কিন্তু এরপর আর অভিযোগপত্র জমা হয়নি।
এ ব্যাপারে প্রদীপ ঘোষ বলেন, ২০১৪ সালে অভিযোগপত্র জমা দিতে প্রস্তুত ছিল র্যাব। কিন্তু ৩ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে ঘোষণা দেন– ‘আমরা ওসমান পরিবারের সঙ্গে আছি’। এরপর ঝুলে যায় অভিযোগপত্র দাখিল। এরপর আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলে আর মামলাটি আলোর মুখ দেখেনি।
ত্বকীর বাবা বলেন, বিচার তো পাইনি। উল্টো শামীম ওসমানের স্ত্রী, মামাশ্বশুর, ব্যাংকের ডিজিএম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জের আমিরকে দিয়ে ধর্ম অবমাননার ভুয়া মামলা দেওয়া হয় আমাদের বিরুদ্ধে।
গণঅভ্যুত্থানের নতুন আশাও গেল মিইয়ে
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর মামলায় নতুন গতি আসে। র্যাব আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের একজন কাজল হাওলাদার আদালতে জবানবন্দি দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ত্বকী হত্যার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এরপর আর আলোর মুখ দেখেনি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
এরই মধ্যে গত ৮ জানুয়ারি আদালত র্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগপত্র জমার নির্দেশ দেন। পরে ৫ মার্চ ১০৩তম বারের মতো অভিযোগপত্র জমা দিতে বলেন আদালত। ধার্য দিনেও চার্জশিট জমা পড়েনি। আদালত এবার ২৬ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন।
এত বছরেও চার্জশিট না আসার বিষয়কে বিচারব্যবস্থার জন্য অস্বাভাবিক মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জিয়াউর রশিদ টিপু স্ট্রিমকে বলেন, চার্জশিট দিতে তিন মাস, ছয় মাস, প্রয়োজনে এক-দুই বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু ১৩ বছর বা তার বেশি সময় ধরে তদন্ত চলা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। আইনে বলা আছে— ডিলে ডিফিটস ইক্যুইটি, অর্থাৎ অতিরিক্ত বিলম্ব ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করে। এক ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং ভুক্তভোগীরা হতাশ হয়ে পড়েন।
আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ স্ট্রিমকে বলেন, সরকার চাইলে বিচার সম্ভব। আমাদের পুলিশ প্রশাসনে এমন অনেক দক্ষ কর্মকর্তা আছেন, যারা ক্লুলেস মামলার সুন্দর সমাধান করতে পারেন। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, ত্বকী হত্যার আসামিদের নামগুলো প্রকাশ্যে চলে আসাটাই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ কারণেই বিচারপ্রক্রিয়া বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
তবে ত্বকী হত্যার তদন্ত প্রসঙ্গে র্যাব-১১-এর বর্তমান অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, তদন্ত চলমান। শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৩ বছর আগামীকাল রোববার। দীর্ঘ এই সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা বদলেছে ১০ বার। আদালতের নির্দেশে ১০৩তম বারেও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। আগামী ২৬ এপ্রিল অভিযোগপত্র জমার নতুন দিন দিয়েছেন আদালত।
তবে ছেলে হত্যার বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বাদী রফিউর রাব্বি স্ট্রিমকে বলেছেন, সব প্রমাণের পরও ওসমান পরিবারের কারণে এতদিন বিচার পাইনি। শুনেছি তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঢেলে পালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে ওসমান পরিবারের। এই টাকা দিয়ে তারা বিচারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। বিচারপ্রক্রিয়া অন্যদিকে মোড় নেওয়ার শঙ্কা এখনো প্রবল। তবে আমি আশা করি, বিএনপি সরকার বিচার বন্ধ রাখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ত্বকী হত্যায় ন্যায়বিচার উপহার দেবে।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে বের হয় ত্বকী। নিখোঁজের দুদিন পর ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ অবস্থায় ৭ মার্চ ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। তাতে পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ত্বকী।
৮ মার্চ হত্যা মামলা করেন রফিউর রাব্বি। পরে ডিবির ফোনালাপ রেকর্ড শুনে ঘাতকদের নাম প্রকাশ্যে জানান তিনি। এরপর সাতজনকে আসামি করে আদালতে অবগতিপত্র দেন রাব্বি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ জানান, মোট ১১ আসামির মধ্যে আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জামশেদ কারাগারে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক। বাকিরা কেবল আদালতে হাজিরা দিয়ে যান।
বাবাকে ‘শায়েস্তা’ করতে হত্যা
ত্বকীর বাবা জানান, র্যাবের খসড়া প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনটি মূল কারণ উঠে আসে। প্রথমত, ২০১১ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শামীম ওসমানের বিপক্ষে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব আমি পালন করেছিলাম। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যান শামীম ওসমান। দ্বিতীয়ত, পরিবহন খাতে ওসমান পরিবারের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন। তৃতীয়ত, ১ নম্বর রেলগেটে নাসিম ওসমানের মার্কেট নির্মাণের বিরুদ্ধে জমি রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব। মূলত আমাকে শায়েস্তা করতে ত্বকীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের ছয়টি টর্চার সেল পেয়েছিল র্যাব। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ রাতে ত্বকীকে অপহরণ করে শহরের আল্লামা ইকবাল রোডে আজমেরী ওসমানের ‘উইনার ফ্যাশন’– এর টর্চার সেলে নেওয়া হয়। সেখানে সহযোগীদের নিয়ে আজমেরী পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে ত্বকীকে হত্যা করে। এরপর লাশ বস্তায় ভরে আজমেরীর গাড়িতে করে নিয়ে নৌকাযোগে কুমুদিনী জোড়াখালে ফেলা হয়। ২০১৩ সালের ৭ আগস্ট ওই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ত্বকীর রক্তমাখা জিন্স, পিস্তলের বাট ও ইয়াবা জব্দ করে র্যাব। দেয়াল, সোফা ও আলমারিতে ছিল গুলির চিহ্ন।
ডিবির নথিতে থাকা সেই ফোনালাপ
অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ স্ট্রিমকে বলেন, ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর নাসিম ওসমান তাঁর ছেলে আজমেরী ওসমানকে ফোন করে জানতে চান— ‘এই কাজ কারা ঘটিয়েছে?’ আজমেরী ওসমান জবাবে বলেন, ‘ছোটটায়’। মানে, শামীম ওসমানের ছেলে, অয়ন ওসমান। নাসিম ওসমান তখন জিজ্ঞেস করেন, ‘তুইও তো ছিলি?’ আজমেরী তখন চুপ থাকেন। এরপর নাসিম ওসমান গালাগাল করে বলেন, ‘তোদের জন্য চলতে পারছি না, থানায় লাখ লাখ টাকা দিয়ে এলাম।’
রাব্বি জানান, ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ ঢাকার ডিবি থেকে এক কর্মকর্তা তাঁর বাসায় এসে এই কথোপকথন শোনান, যা ‘বাংলাদেশ ফর্ম ন. (এম) থারটি ফোর’ হিসেবে নথিভুক্ত। ওই কথোপকথনে নাসিম ওসমান আরও বলেছিলেন, ‘এটা প্রকাশ পেলে কিন্তু আমাদের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে।’
এই রেকর্ড শুনেই নিশ্চিত হন রাব্বি। ১৫ মার্চ শহীদ মিনারে জনসমাবেশে প্রথমবার প্রকাশ্যে ওসমান পরিবারের নাম উচ্চারণ করেন তিনি। দুদিন পর ১৭ মার্চ শামীম ওসমান, অয়ন ওসমানসহ সাতজনের নামে পুলিশ সুপারের কাছে সম্পূরক অভিযোগ দেন রাব্বি।
১৩ বছরেও হয়নি বিচার
হত্যাকাণ্ডের এক বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ৫ মার্চ র্যাব-১১ সাংবাদিকদের ডেকে প্রত্যেকের হাতে খসড়া অভিযোগপত্রের কপি দেন। র্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান ঘোষণা দেন, আজমেরী ওসমানসহ ১১ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে, যেকোনো দিন অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
এর আগে ২০১৩ সালের জুলাই ও নভেম্বরে ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পরিকল্পনা থেকে হত্যা পর্যন্ত সব ঘটনার বিবরণ দেন। কিন্তু এরপর আর অভিযোগপত্র জমা হয়নি।
এ ব্যাপারে প্রদীপ ঘোষ বলেন, ২০১৪ সালে অভিযোগপত্র জমা দিতে প্রস্তুত ছিল র্যাব। কিন্তু ৩ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে ঘোষণা দেন– ‘আমরা ওসমান পরিবারের সঙ্গে আছি’। এরপর ঝুলে যায় অভিযোগপত্র দাখিল। এরপর আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলে আর মামলাটি আলোর মুখ দেখেনি।
ত্বকীর বাবা বলেন, বিচার তো পাইনি। উল্টো শামীম ওসমানের স্ত্রী, মামাশ্বশুর, ব্যাংকের ডিজিএম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জের আমিরকে দিয়ে ধর্ম অবমাননার ভুয়া মামলা দেওয়া হয় আমাদের বিরুদ্ধে।
গণঅভ্যুত্থানের নতুন আশাও গেল মিইয়ে
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর মামলায় নতুন গতি আসে। র্যাব আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের একজন কাজল হাওলাদার আদালতে জবানবন্দি দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ত্বকী হত্যার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এরপর আর আলোর মুখ দেখেনি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
এরই মধ্যে গত ৮ জানুয়ারি আদালত র্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগপত্র জমার নির্দেশ দেন। পরে ৫ মার্চ ১০৩তম বারের মতো অভিযোগপত্র জমা দিতে বলেন আদালত। ধার্য দিনেও চার্জশিট জমা পড়েনি। আদালত এবার ২৬ এপ্রিল নতুন দিন ধার্য করেছেন।
এত বছরেও চার্জশিট না আসার বিষয়কে বিচারব্যবস্থার জন্য অস্বাভাবিক মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জিয়াউর রশিদ টিপু স্ট্রিমকে বলেন, চার্জশিট দিতে তিন মাস, ছয় মাস, প্রয়োজনে এক-দুই বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু ১৩ বছর বা তার বেশি সময় ধরে তদন্ত চলা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। আইনে বলা আছে— ডিলে ডিফিটস ইক্যুইটি, অর্থাৎ অতিরিক্ত বিলম্ব ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করে। এক ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং ভুক্তভোগীরা হতাশ হয়ে পড়েন।
আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ স্ট্রিমকে বলেন, সরকার চাইলে বিচার সম্ভব। আমাদের পুলিশ প্রশাসনে এমন অনেক দক্ষ কর্মকর্তা আছেন, যারা ক্লুলেস মামলার সুন্দর সমাধান করতে পারেন। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, ত্বকী হত্যার আসামিদের নামগুলো প্রকাশ্যে চলে আসাটাই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ কারণেই বিচারপ্রক্রিয়া বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
তবে ত্বকী হত্যার তদন্ত প্রসঙ্গে র্যাব-১১-এর বর্তমান অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, তদন্ত চলমান। শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকলেও শহরের পাম্পগুলোতে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বাড়তি যানবাহনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন তেলের পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। গ্রাহকদের ধারণা, ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে তেলের সংকট দেখা দেবে।
৬ মিনিট আগে
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে নিখোঁজ এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের চার দিন পর শনিবার দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কহিনুর আক্তার (৩২) জেলার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
১ ঘণ্টা আগে
ডিএনসিসির তহবিলে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা রেখে যাওয়ার দাবিকে বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ‘তঞ্চকতা’ আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, তিনি তহবিলে টাকা থাকার যে হিসাব দিয়েছিলেন, বর্তমান প্রশাসনও খাতওয়ারি ব্যাখ্যার মাধ্যমে মূলত সেই একই হিসাব তুলে ধরেছে।
২ ঘণ্টা আগে
খুলনা নগরের লবণচরা থানার নিজখামার এলাকায় এক নারীর কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল ও ৯৬ রাউন্ড গুলি জব্দ করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজখামার এলাকায় পরিচালিত একটি তল্লাশি চৌকিতে (চেকপোস্ট) সুরাইয়া পারভীন সুমী (৩৭) নামে ওই নারীকে তল্লাশির সময় এসব অস্ত্র পাওয়া যায়।
৩ ঘণ্টা আগে