স্ট্রিম সংবাদদাতা

কক্সবাজার শহরে সুপেয় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে করে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান—সবখানেই পরিশোধিত ও বোতলজাত পানির চাহিদাও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং আয়রন দূষণের কারণে এই সংকট এখন নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌর এলাকায় প্রতিবছর পানির স্তর নিচে নামছে গড়ে ৬ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত। ঘনবসতিপূর্ণ কলাতলী, টেকপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে ৯০ থেকে ১১০ ফুট গভীরে গিয়ে স্বাদু পানি পাওয়া যাচ্ছে, যা এক দশক আগেও অনেক কম গভীরতায় মিলত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসাবাড়ির পানি ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘খাওয়ার পানি কিনে খেতে হয়। বাসার পানি ব্যবহার করলে শরীরে চুলকানি ও এলার্জির সমস্যা হয়। গত দুই বছরে তিনবার বাসা বদল করেছি।’
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নুনিয়ারছড়ার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, ‘টিউবওয়েল থেকে শুধু নোনা পানি আসে, মাটির যত গভীরে যাই না কেন লবণাক্ত পানি বের হয়।’

শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, পর্যটননির্ভর এই শহরের হোটেল-মোটেল জোনেও সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। ফলে শহরজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও পানি সরবরাহ কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট এক প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রতিদিন শুধু হোটেল এলাকায়ই কয়েক লাখ টাকার পরিশোধিত পানি সরবরাহ করতে হয়। পর্যটন মৌসুমে এই চাহিদা চার থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বেসরকারি একটি পানি সরবরাহ কোম্পানির জেলা ডিলার মনির হোসেন জানান, ২ মাস আগেও শহরে তাদের কোম্পানির পানির চাহিদা ছিল ডেইলি ৩০০ লিটার। এখন পানির চাহিদা বেড়ে প্রায় ৬০০ লিটার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
কক্সবাজার পৌর এলাকায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে স্বীকার করে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুবেল বড়ুয়া জানান, কক্সবাজার পৌরসভায় প্রতিদিনের চাহিদার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ থেকে ২ কোটি লিটারেরও বেশি। নতুন চালু হওয়া প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ লিটার পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। তবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ৬ থেকে ১৪ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বাকখালী নদীর তীরে নির্মিত ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই প্রকল্প চালু হলে পৌর এলাকার মোট পানির চাহিদার প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকবে প্ল্যান্টটির।

এছাড়া সুগন্ধা পয়েন্টে নির্মিত ৭ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ওভারহেড রিজার্ভার থেকে প্রায় ৩০০টি হোটেলে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা পর্যটন এলাকায় কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত গভীর নলকূপ স্থাপন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যটন শিল্পের বিস্তার এবং আশপাশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অতিরিক্ত পানির চাহিদা—সব মিলিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পুনঃভরণ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুবেল বড়ুয়া জানান, ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে স্থাপিত পাম্প হাউসগুলোতে ১৫০ থেকে ২০০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেত। কিন্তু এখন অনেক এলাকায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ ফুট গভীরেও মানসম্মত পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পাওয়া গেলেও তা অনেক ক্ষেত্রে লবণাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত।
ডিপিএইচই কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ জানান, বাকখালী নদীর পানি পরিশোধন করে পৌরবাসীর কাছে সরবরাহ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরেই এই প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে পৌরবাসী।

কক্সবাজার শহরে সুপেয় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে করে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান—সবখানেই পরিশোধিত ও বোতলজাত পানির চাহিদাও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং আয়রন দূষণের কারণে এই সংকট এখন নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌর এলাকায় প্রতিবছর পানির স্তর নিচে নামছে গড়ে ৬ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত। ঘনবসতিপূর্ণ কলাতলী, টেকপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে ৯০ থেকে ১১০ ফুট গভীরে গিয়ে স্বাদু পানি পাওয়া যাচ্ছে, যা এক দশক আগেও অনেক কম গভীরতায় মিলত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসাবাড়ির পানি ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘খাওয়ার পানি কিনে খেতে হয়। বাসার পানি ব্যবহার করলে শরীরে চুলকানি ও এলার্জির সমস্যা হয়। গত দুই বছরে তিনবার বাসা বদল করেছি।’
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নুনিয়ারছড়ার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, ‘টিউবওয়েল থেকে শুধু নোনা পানি আসে, মাটির যত গভীরে যাই না কেন লবণাক্ত পানি বের হয়।’

শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, পর্যটননির্ভর এই শহরের হোটেল-মোটেল জোনেও সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। ফলে শহরজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও পানি সরবরাহ কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট এক প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রতিদিন শুধু হোটেল এলাকায়ই কয়েক লাখ টাকার পরিশোধিত পানি সরবরাহ করতে হয়। পর্যটন মৌসুমে এই চাহিদা চার থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বেসরকারি একটি পানি সরবরাহ কোম্পানির জেলা ডিলার মনির হোসেন জানান, ২ মাস আগেও শহরে তাদের কোম্পানির পানির চাহিদা ছিল ডেইলি ৩০০ লিটার। এখন পানির চাহিদা বেড়ে প্রায় ৬০০ লিটার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
কক্সবাজার পৌর এলাকায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে স্বীকার করে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুবেল বড়ুয়া জানান, কক্সবাজার পৌরসভায় প্রতিদিনের চাহিদার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ থেকে ২ কোটি লিটারেরও বেশি। নতুন চালু হওয়া প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ লিটার পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। তবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ৬ থেকে ১৪ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বাকখালী নদীর তীরে নির্মিত ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই প্রকল্প চালু হলে পৌর এলাকার মোট পানির চাহিদার প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকবে প্ল্যান্টটির।

এছাড়া সুগন্ধা পয়েন্টে নির্মিত ৭ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ওভারহেড রিজার্ভার থেকে প্রায় ৩০০টি হোটেলে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা পর্যটন এলাকায় কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত গভীর নলকূপ স্থাপন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যটন শিল্পের বিস্তার এবং আশপাশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অতিরিক্ত পানির চাহিদা—সব মিলিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পুনঃভরণ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুবেল বড়ুয়া জানান, ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে স্থাপিত পাম্প হাউসগুলোতে ১৫০ থেকে ২০০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেত। কিন্তু এখন অনেক এলাকায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ ফুট গভীরেও মানসম্মত পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পাওয়া গেলেও তা অনেক ক্ষেত্রে লবণাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত।
ডিপিএইচই কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ জানান, বাকখালী নদীর পানি পরিশোধন করে পৌরবাসীর কাছে সরবরাহ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরেই এই প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে পৌরবাসী।

গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নেই, তাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং একটার পর একটা ব্যাংক নির্দিষ্ট পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
১ few সেকেন্ড আগে
জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরে মো. সাগর হত্যাসহ তিনটি মামলায় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এবিএম রবিউল হাসানের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
৮ মিনিট আগে
কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের ধরন কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশে অধিক উৎপাদনশীল, কর্মসংস্থানমুখী এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
১৭ মিনিট আগে
সরকারিভাবে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সোমবার (১৫ জুন) সংসদের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান তিনি।
৪০ মিনিট আগে