leadT1ad

ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট পরিবারকে দেওয়া হয়েছে: রুমিন ফারহানা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ১৯: ০৭
সংসদে কথা বলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নেই, তাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং একটার পর একটা ব্যাংক নির্দিষ্ট পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা।

তিনি জানান, শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ বছরে গড়ে ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার করে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। এছাড়া গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যমতে, আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে প্রতি বছর আরও ৮ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

রুমিন ফারহানা আরও জানান, বর্তমানে দেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ কোটি টাকা হলেও এর প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমেছে এবং মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে।

ব্যাংকিং খাতের অবস্থা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতে মূলধনের পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমেছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশে ঠেকেছে। রপ্তানি হ্রাস ও আমদানি বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে বাণিজ্য ঘাটতি ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংক ও বৈদেশিক মুদ্রা বাজার নিয়ে আলোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদের হার ও ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ডলারের ওপর চাপ কমাতে কৃত্রিমভাবে দাম ধরে রাখা হয়েছে। ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার এই খাত থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে।’

রুমিন ফারহানা বলেন, শেয়ারবাজার ও কর ব্যবস্থার উন্নতি না হলে চাপ পড়বে ব্যাংক খাতের ওপর। ব্যাংক খাতে যখন খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ৩৫ শতাংশে পৌঁছে গেছে, তখন এই ব্যাংকগুলো আর ব্যক্তি খাতে নতুন করে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দেওয়ার অবস্থায় আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আইএমএফের নতুন শর্তের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, আগের ঋণ চুক্তির পরের কিস্তিগুলো নতুন সরকারকে দেওয়া হবে না। তাদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে হবে। ফলে এখন ঋণের জন্য বাংলাদেশকে চীন বা অন্য কোনো দেশের দিকে তাকাতে হতে পারে।

রুমিন ফারহানা অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে অর্থমন্ত্রী কীভাবে এই বাজেট বাস্তবায়ন করবেন?’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত