leadT1ad

কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান, ওসমান গণি, আবুল কালাম প্লাম্বার

হুমায়ূন আহমেদের নাটকের চরিত্ররাই কি ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’

‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ ফেসবুক পেজের বিভিন্ন পোস্টে কপিরাইট স্ট্রাইক আসা এবং অ্যাডমিনদের অ্যাকাউন্ট ‘ডিজেবল’ হয়ে যাওয়ায় পেজটি এখন ঝুঁকির মুখে। আজ ফেসবুকে পোস্টে তারা জানিয়েছে, ‘যদি এই পেজটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে জানবেন আমরা ভালো আছি। আপনাদের সবার সঙ্গে এই পথচলাটা অনেক সুন্দর ছিল।’

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৬: ৫০
স্ট্রিম গ্রাফিক

‘বাংলাদেশের মানুষের করোনা হয়। আর বিদেশে আমরা করোনা খাই। তাও সামান্য পরিমাণ করোনা না। করোনা এক্সট্রা। এটাই বাংলাদেশের সাথে বিদেশের বেশকম। এইযে এখন বাংলাদেশে হাম রোগ দেখা দিছে... কয়দিন পর দেখা যাবে এই হামের মতও কিছু একটা আমরা বিদেশিরা অনেক আগে থেকে খাইতেছি। করোনা এক্সট্রার মত। অথচ বাংলাদেশে এটা একটা অসুখ। তাদের কাছে এর কোনো মেডিসিন নাই। ভুল করে তৃতীয় বিশ্বে জন্মানো যত বড় অভিশাপ, তারচেয়েও বড় অভিশাপ হচ্ছে জেনেবুঝে সেই দেশে থেকে যাওয়া। সুযোগ হলেই সবার বিদেশে চলে আসা উচিত। দেশে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার চাইতে বিদেশে এসে মাটি কাটলেও লাভ আছে...’

শামসুন্নাহার, মেয়ে, আবুল কালাম

সুইজারল্যান্ড প্রবাসী

একদিন সকালে ফেসবুকে এই পোস্ট দেখে মুখে হাসি ফুটল। ঘুরে এলাম ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ ফেসবুক পেজ থেকে। রিলস, শর্টস আর ভ্লগিং-এর যুগে শুধু টেক্সট-নির্ভর কনটেন্ট দিয়েও পেজটি ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।

প্রথমবার শামসুন্নাহারের এই পোস্ট পড়লে যে কারও বিভ্রান্ত হওয়ার কথা। মনে হবে, বিদেশে থাকা কোনো অহংকারী নারী নিজ দেশকে তাচ্ছিল্য করছেন। একসময় আমার মতো অনেকেই এমনটা মনে করত।

একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্রগুলোর কাজকর্ম বা স্বভাবচরিত্র খুব অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু তাদের কাজের ধরন অন্য সবার চেয়ে আলাদা।

কিন্তু কমেন্ট বক্সে গেলে বোঝা যায়, এটা তো অন্য গল্প। যেসব প্রবাসী বিদেশ গেলে দেশকে ব্যঙ্গ করেন বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, তাঁদের ব্যাঙ্গ করতেই এই পেজের সৃষ্টি। মানুষের কৌতুহল এত বেশি যে, বিবিসিসহ আরও কয়েকটি গণমাধ্যম পেজের এডমিনদের পরিচয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মিল খুঁজে পাই হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রদের সঙ্গে

‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’দের মধ্যে আছেন কামরুজ্জামান, ওসমান গনি, ওসমান গণির ‘আম্মো’ ও স্ত্রী, আবুল কালাম প্লাম্বার বা আবুল কালামের মেয়ে শামসুন্নাহারের মতো সব চরিত্র। এসব চরিত্রের গ্রহণযোগ্যতাও মানুষের কাছে অনেক। বিশেষ করে কামরুজ্জামান চরিত্রের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তার নামে ‘কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান’ নামে আলাদা পেজ রয়েছে।

বায়োতে লেখা, ‘আমি বরফের দেশে হারিয়ে যাওয়া এক সাদা ভাল্লুক’। এদিকে গোলাপ মাহবুব, ওসমান গণি নামেও আলাদা ফেসবুক পেজ রয়েছে। ফলোয়ার সংখ্যাও অনেক। এর মধ্যে গোলাপ মাহবুব প্রচন্ড নারীবিদ্বেষী। যার বায়োতে লেখা, ‘একটি নারীমুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি’।

মানুষ জানে এই চরিত্রগুলো কাল্পনিক। কিন্তু তারপরও ঘটনাগুলো সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়ে। কেন এই চরিত্রদের গল্প আমরা পছন্দ করি, এর একটা উত্তর পেলাম হুমায়ূন আহমেদের কাছে।

কিছুদিন আগে পরিবারের সঙ্গে বসে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় ‘আজ রবিবার’ দেখছিলাম। নাটকে আনিসের ‘তিতলী ভাইয়া, কংকা ভাইয়া’ ডাকা, পড়াশোনার জগতে নিয়ে ব্যস্ত থাকা; বড় চাচার বিখ্যাত সেই কফিন বা ‘দরজার ফুটো’ বন্ধ না করা; কিংবা কাজের লোক মতি মিয়ার মাত্রাতিরিক্ত কৌতূহল আর ফুলির প্রতি ভালোবাসা—সব মিলিয়ে এই চরিত্রগুলো আমাদের চেনাজানা স্বাভাবিক পৃথিবীর চেয়ে বেশ আলাদা। এরা প্রতিদিন যা করে, এর অনেক কিছুই হয়তো আমরা করি বা করার কথা ভাবি। কিন্তু তারা ঠিক যে ভঙ্গিতে কাজগুলো করে, আমরা সেভাবে করি না।

হুমায়ূন আহমেদের ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকের ‘দুলাভাই’ চরিত্রটির কথাই ধরুন। দুই হাতে ভারী দুটো স্যুটকেস নিয়ে তিনি হন হন করে ঘরে ঢোকেন। তিনি এলেই বাড়ির কাজের লোক বা অন্য কেউ তাকে সালাম করতে ছুটে আসে। তিনিও মেঝেতে স্যুটকেস ফেলে সালামি দেন, আবার হনহন করে হেঁটে ভেতরে চলে যান। বড়দের সালাম করে সালামি নেওয়ার রেওয়াজ আমাদের সব পরিবারেই আছে। কিন্তু সেই দুলাভাই ঘরে ঢুকেই যে বিশেষ ভঙ্গিতে বলেন, আজ তোমার আপার সঙ্গে একটা মারাত্মক ঝগড়া হয়ে যাবে—এই ভঙ্গিতে দর্শকরা খুব মজা পায়।

‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকের ‘দুলাভাই’।
‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকের ‘দুলাভাই’।

‘উড়ে যায় বকপক্ষী’ নাটকের তৈয়ব চরিত্রটিকে আমরা দেখি ‘মজাদার দুষ্টু মানুষ’ হিসেবে। কখনো বলছে ‘ধুর ছাতা, ভাতই খাবো না’। এই কথা বলার একটু পরই ভাত খেতে বসে যাচ্ছে। কখনো নারী দেখলেই বলছে, ‘তোমারে তো আইজ অত্যাধিক সুন্দর লাগতেছে।’ কিন্তু তার কাছে পাত্তা না পেলে গালমন্দ করছে।

একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্রগুলোর কাজকর্ম বা স্বভাবচরিত্র খুব অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু তাদের কাজের ধরন অন্য সবার চেয়ে আলাদা।

এসব চরিত্র ও তাদের ভঙ্গির সঙ্গে ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’র দারুণ মিল খুঁজে পাই। সুইজারল্যান্ড প্রবাসী পেইজের এডমিনের মতে, চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও এমন মানুষ আমাদের আশেপাশেই আছে। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে জানিয়েছিলেন, বিদেশে আসার পর তিনি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন, যার মালিক ছিলেন একজন বাংলাদেশি। মালিক পেজের ‘ওসমান গনি’ চরিত্রের মতোই ছিলেন। তিনি ঠিকমতো বেতন দিতেন না, অকারণে কঠিন কাজ চাপিয়ে দিতেন এবং খারাপ আচরণ করতেন।

শোষক মালিক ওসমান গণি, নিপীড়িত কর্মী কামরুজ্জামান, নারী বিদ্বেষী গোলাপ মাহবুব, ওসমান গণির স্ত্রী ও মায়ের চরিত্রে আমরা দেখি দেশের চিরাচরিত শাশুড়ি-বউয়ের সম্পর্ক। ভবিষ্যৎ সুইজারল্যান্ড প্রবাসী আবুল কালামের মেয়ে শামসুন্নাহারের কণ্ঠে শোনা যায় দেশের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য আর সুইজারল্যান্ডের গুণগান।

ফেসবুক পেজে ব্যবহৃত ছবিগুলোও বেশ মজার। এগুলো পেজের অ্যাডমিনদের পরিচিত মানুষদেরই ছবি। তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে ছবিগুলোতে এমনভাবে পরিবর্তন আনা হয়, যেন বাস্তবের সেই ব্যক্তির সঙ্গে পুরোপুরি মেলানো না যায়।

‘রাজনৈতিক’ মনে করেন কেউ কেউ

‘এই দেশের মেলাতে আজকে এক দোকানে একটা জিনিস দেখলাম। আগ্রহ করে কিন্না নিয়া আসছি। এটা কাড রাখার মানিব‍্যাগ। ইংরেজিতে বলে কাড হোল্ডার। বাংলাদেশি বন্ধুদের কাজে লাগতে পারে। যেসব দেশে মানুষকে অনেক কাড ইউজ করতে হয়, তাদের জন‍্য এই কাড হোল্ডার। এখানে ফেমিলি কাড, ফুয়েল কাড, কৃষক কাড, গ‍্যাস কাড, কারেন্ট কাড, পানি কাড, কেডিড কাড, ডেবিট কাড, ভোটার আইডি কাড, করোনা টিকা কাড, স্টুডেম আইডি কাড সহ সবমিলিয়ে প্রায় ২০টা কাড রাখা যাবে।

বিদেশের মত উন্নত বিশ্বে এই কাড হোল্ডার কি করে, সেটাই বুঝলাম না। আমাদের ত এত কাড লাগেনা। খালি একটা রেছিডেস পারমিট কাড আর একটা ডেবিট কাড ইউজ করি। আমাদের সব অনলাইন। সাহায‍্য সহযোগিতা সবকিছু ওদের কম্পিউটারে গেলেই চলে আসে। এই কাড হোল্ডার মূলত বাংলাদেশে দরকার। বাংলাদেশের কোনো লেথার ব‍্যবসায়ী চাইলে এই ডিজাইনটা দেখে কাড হোল্ডার বানাইয়া ব‍্যবসা করতে পারেন। আমি আইডিয়া দিলাম।’

কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান

সুইজারল্যান্ড প্রবাসী

গত ২৮ এপ্রিল এই পোস্ট করা হয় সুইজারল্যান্ড প্রবাসী পেজ থেকে। বাংলাদেশে যখন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন কামরুজ্জামান এই পোস্ট করেন। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর অনলাইনে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে কামরুজ্জামান পায় ৩৯ হাজার ভোট, ওসমান গণি ও আবুল কালাম পায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট এবং এক হাজারের কিছু বেশি ভোট। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার সময় দেখা যায় সভাপতি নির্বাচিত হন সেই ওসমান গনিই। এর পেছনে যুক্তি হিসেবে ওসমান গণি বলেন, যে সবচেয়ে কম ভোট পাবে, সে-ই জিতবে। বিগত সরকারের একতরফা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনী ব্যবস্থার এর চেয়ে বড় আর কী স্যাটায়ার হতে পারে?

কেউ কেউ বলেন, সুইজারল্যান্ড প্রবাসীরা একটু ‘পশ’ মানুষদের জন্য। গ্রাম্য সংস্কৃতি বা প্রবাসী ‘স্বল্পশিক্ষিত’ মানুষদের নিয়ে ব্যঙ্গ করা তাদের কনটেন্টের প্রধান বিষয়। যে কারণে যারা এ ধরনের কাজগুলোকে হাস্যকর মনে করে, তাঁরাই সুইজারল্যান্ড প্রবাসীর ভক্ত হয়।

এরপর আসা যাক কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানের কথায়। আসল নাম শুধুই কামরুজ্জামান। কিন্তু দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে পাসপোর্টের সরকারি খাতায় ভুল করে নাম উঠে গেছে দুবার। সেই ভুল সে আর কিছুতেই শোধরাতে পারেনি। শেষমেশ এই নামেই তাকে জীবন পার করতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পল্লব হাসানের চোখে ধরা পড়েছে এদের আলাদা গল্প। তাঁর মতে, এই প্রবাসীদের অনেকেই হয়তো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, ড্রামের ভেতর লুকিয়ে লিবিয়া হয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। অন্যদিকে যারা স্টুডেন্ট ভিসায় ইউরোপে যায়, তাদের তারা পছন্দ করে না। একই দেশের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও শুধু শিক্ষাগত আর অর্থনৈতিক শ্রেণির পার্থক্যের কারণে তাদের মাঝে এক অদৃশ্য দেয়াল। পেজের প্রতিদিনকার হিউমারের আড়ালে এই ‘স্ট্রাগল’ ফুটে ওঠে সূক্ষ্মভাবে।

পল্লব হাসান আরও বলেন, ‘দেশের এমন কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নেই, যা নিয়ে এরা কথা বলে না। যখনই দেশে কিছু ঘটে, এই মাল্টিভার্সের চরিত্রগুলো ঠিকই নিজেদের মতো করে প্রতিক্রিয়া জানায়। ডিজনিল্যান্ডের মিকি মাউসের মতোই এরা বাস্তবে নেই, আমরা সেটা জানিও। কিন্তু তাদের ওই যাপিত জীবন, তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ফুটে ওঠে আমাদের চারপাশের বাস্তবতা।’

কথা হয় ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ পেজের আরেক ভক্ত আয়শা আশার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসীদের মধ্যে কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান আমার সবচেয়ে পছন্দ। অনেকেই মজা করে আমাকে তার প্রেমিকা ভাবে! সে তাদেরই প্রতিনিধি, যারা নিজেদের ওপর হওয়া অন্যায় বোঝে, কিন্তু প্রতিবাদ করতে গিয়ে সমাজের কাছে বাধাপ্রাপ্ত হয়। শেষমেশ বেঁচে থাকার তাগিদে এরা নিরুপায় হয়ে অন্যায় মেনে নেয়। এদের নিজস্ব কোনো স্বাধীনতা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না।’

তবে কেউ কেউ বলেন, সুইজারল্যান্ড প্রবাসীরা একটু ‘পশ’ মানুষদের জন্য। গ্রাম্য সংস্কৃতি বা প্রবাসী ‘স্বল্পশিক্ষিত’ মানুষদের নিয়ে ব্যঙ্গ করা তাদের কনটেন্টের প্রধান বিষয়। যে কারণে যারা এ ধরনের কাজগুলোকে হাস্যকর মনে করে, তাঁরাই সুইজারল্যান্ড প্রবাসীর ভক্ত হয়। মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে তাদের কনটেন্ট মজাদার বা হিউমারাস হলেও অন্যদের কাছে তা না।

সমালোচনা বা দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সব বিতর্ক ও সমালোচনা ছাপিয়ে ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ পেজটির আসল সার্থকতা হলো তাদের নিয়ে মানুষ ভাবছে, কথা বলছে। প্রবাস জীবনের গল্প শোনানোর আড়ালে এরা মূলত আমাদের দেশের সমাজ, রাজনীতি কিংবা শ্রেণি বৈষম্যের ছবি ফুটিয়ে তোলে। স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গের মোড়কে তারা প্রতিদিন সমাজের এমন বাস্তবতা তুলে আনে, যা আমাদের একইসঙ্গে হাসায় এবং ভাবায়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত