শতভাগ পেট্রোল দেশি হলেও পাম্পে কেন তেলের হাহাকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫: ০৫
দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য ক্রেতাদের হাহাকার দেখা যাচ্ছে। স্ট্রিম ছবি।

চাহিদার শতভাগ পেট্রোল দেশে তৈরি হয় এবং অকটেনের অর্ধেকও আসে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। তবুও বাজার কারসাজি, আতঙ্ক আর সরবরাহ দুর্বলতায় দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের চরম বিশৃঙ্খলা চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য ক্রেতাদের হাহাকার দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু করেছে। অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিজিবি মোতায়েন, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। তবুও হাহাকার কমছে না। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গত এক মাস ধরে দেশে এই সংকট চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আতঙ্কে অতিরিক্ত ক্রয় (প্যানিক বায়িং), দুর্বল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কারসাজিই এই সংকটের মূল কারণ।

সম্প্রতি পাম্প ও বাসাবাড়িতে তেল মজুতের বেশ কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। গত শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন জামালপুরে একটি বন্ধ পাম্প থেকে ২ হাজার ৮০০ লিটার মজুতকৃত তেল উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগে শুক্রবার চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এলাকায় ৩০টি ড্রামে থাকা ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯ হাজার ৭৮৩ লিটার এবং ময়মনসিংহে একটি আবাসিক ভবনের নিচতলা থেকে ২৫ হাজার লিটার তেল মজুত রাখায় এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানান, ক্রেতাদের অস্বাভাবিক মজুত প্রবণতার কারণেই এই সংকট। তবে কিছু ক্ষেত্রে পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধেও মজুতের অভিযোগ রয়েছে, যার অধিকাংশই ডিজেল। তিনি জানান, ৫ তারিখে তেলবাহী জাহাজ এলে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট থাকবে না।

পরিস্থিতি সামলাতে সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু করেছে। স্ট্রিম ছবি।
পরিস্থিতি সামলাতে সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু করেছে। স্ট্রিম ছবি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন পেট্রোলের চাহিদার পুরোটাই দেশীয় উৎপাদনে মেটানো হয়েছে। একই সময়ে অকটেনের ৪ লাখ ১৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ টন আমদানি করা হয়েছে; বাকিটা মেটানো হয়েছে কনডেনসেট পরিশোধন করে। গত পাঁচ বছরে দেশে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বিপিসি সচিব শাহিনা সুলানা সার্বিক মজুত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও এক কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মজুত দ্রুত ফুরোচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, সরকার সংকট নেই বললেও বাজারে ভোগান্তি স্পষ্ট। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

গত শনিবার সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক নজর রাখার নির্দেশ দেন। জ্বালানি বিভাগ জানায়, হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকির কারণে তেলের জাহাজ আসতে দেরি হচ্ছে। মার্চে ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এসেছে মাত্র ৮টি। ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে পাইপলাইনে তেল আনা হচ্ছে।

সংসদীয় দলের সভা শেষে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কোনো ঘাটতি নেই। ২ লাখ টন তেল নিয়ে জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং আরও ২ লাখ টন আসার পথে। ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান মনে করেন, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সরকার নিয়মিত তথ্য দিলে জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট হতো না।

সম্পর্কিত