অব্যাহতিপ্রাপ্ত সহকারী আটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে সোয়া ৩ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৪৬
অব্যাহতি পাওয়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবুল হাসান। সংগৃহীত ছবি

সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন একটি মামলার রায় পক্ষে এনে দেওয়ার কথা বলে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার এই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মো. আবুল হাসানকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও প্রজ্ঞাপনে এর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মো. সারোয়ার খালেদ নামের ওই ব্যক্তি কয়েকদিন আগে এই অভিযোগ করলেও সোমবার তা গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসে।

নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে এএজি মো. আবুল হাসানকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে এই অভিযোগের বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আমি সংশ্লিষ্ট সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলি। অভিযোগের বিষয়ে তার জবাব আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।’

সিলিকন রিয়েল এস্টেট (প্রাইভেট) লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. সারোয়ার খালেদ সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আবুল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের এই লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত একটি রিট পিটিশনে ২০২৪ সালের ২৬ মে হাই কোর্ট সিলিকন রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে রুল ও নির্দেশনা জারি করে। এই রুল তিন মাসের মধ্যে খারিজ (ডিসচার্জ) করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল হাসান ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা নেন। পূর্ব পরিচিত আরেক আইনজীবী মো. ফখরুল ইসলামের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তাকে এই নগদ টাকা পরিশোধ করা হয়।

টাকা নেওয়ার এক বছর পার হলেও আবুল হাসান মামলায় কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগকারীর দাবি।

তার অভিযোগ, বারবার তাগাদা দিলেও আবুল হাসান বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে অন্য আইনজীবী নিয়োগের জন্য তার কাছ থেকে মামলার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া হলেও তিনি ওই ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা আর ফেরত দেননি। আপসের চেষ্টা করেও তার কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী সারোয়ার খালেদ স্ট্রিমকে বলেন, শুরুতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে আবুল হাসান তার আস্থা অর্জন করেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। বিশেষ করে হাই কোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে জরুরি ভিত্তিতে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

সারোয়ার খালেদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আর্থিক সংকটের মধ্যেও ধারদেনা করে একাধিক কিস্তিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন। এসব লেনদেনের বেশিরভাগই নগদে হয়েছে এবং আদালতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। তার অফিসের কর্মীরাও এই লেনদেনের সাক্ষী রয়েছেন এবং লেজারে তারিখসহ টাকার হিসাব সংরক্ষিত আছে।

অভিযুক্ত আইনজীবী এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘পরবর্তীতে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি স্পষ্ট হলে আমরা সরাসরি বৈঠকে বসি এবং টাকা ফেরত ও এনওসি দেওয়ার অনুরোধ জানাই। তিনি এনওসি দিলেও টাকা ফেরত দেননি এবং এরপর থেকে যোগাযোগ এড়িয়ে যাচ্ছেন।’

পুরো ঘটনার সমর্থনে তার কাছে কল রেকর্ড, লেনদেনের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, গত রোজার আগেই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তাদের দক্ষতা মূল্যায়ন কার্যক্রম চলাকালে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন আরও দুই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও আহমদ মুসাননা চৌধুরী। সেই ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় এবার সুনির্দিষ্ট আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে নিয়োগ বাতিল হলো আরেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের।

সম্পর্কিত