জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জামায়াত প্রতিপক্ষ হলে কী হয়, মাঠে হারে হারে টের পেয়েছি: এমপি মনিরুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ২৩: ৫৯
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে এবারের নির্বাচনের লড়াই জিতলেও তা অনেক কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী।

রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছিলেন, এবারের নির্বাচন কঠিন হতে যাচ্ছে। তাঁর কথা সেদিন অনেকেই বোঝেননি। তবে আমি বুঝেছিলাম। পরে আমরা নির্বাচন করতে গিয়ে বুঝেছি, কী কঠিন নির্বাচন পাস করেছি। কিন্তু একটি সাহস ছিল, সেটা হলো—আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচনের সময় তারা কী করবে জানতাম। কিন্তু সৎ লোকের শাসন...জামায়াত প্রতিপক্ষ হলে কী হয়, এবার আমরা মাঠে হারে হারে টের পেয়েছি।’

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বক্তব্যের শুরুতেই এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার ভয় হয়, কোন ভাষায় কথা বলব। একসময় প্রশ্ন ছিল বায়ান্ন সালে—কোন ভাষায় কথা বলব। আজ প্রশ্ন হয়েছে—কথা অ্যাট অল (একেবারেই) বলব কি না, এই সংসদে দাঁড়িয়ে ভয় হয়। আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব, তাদের চিনতাম। আজকে যারা বিরোধী দল, তাঁদের এখনও আমি চিনি নাই।’

নির্বাচনের পর সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সেদিন বলেছিলাম ফ্যাসিস্টদের বিদায়ের পরে কারও যদি সবচেয়ে বেশি আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত, সেটা আপনাদের। এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ করে, এত সংকট নিয়ে সংসদে আসার পরে যাদের আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত, সেটা হলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের।’

এখন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করা হয় উল্লেখ করে এ নিয়ে আক্ষেপ করেন এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আজ প্রশ্ন উঠেছে আমাদের সম্পর্কেও। আমরা কিছু মুক্তিযোদ্ধা যারা জীবিত আছি, তাদের আজ সমাজে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, মুক্তিযোদ্ধা ও চব্বিশের যোদ্ধা এক কাতারে ফেলা হয়। ফ্যাসিস্টদের আমলে বিচারের নামে অন্যায়ও যদি হয়ে থাকে, তারা (মুক্তিযোদ্ধা ও চব্বিশের যোদ্ধা) কি এক কথা?’

আগের দিন জাতীয় নাগরিক পার্টির এক নেতার সঙ্গে আলাপের কথা তুলে তিনি বলেন, ‘এনসিপির নেতার সঙ্গে কাল কথা হয়েছিল, তাদের বয়স কম হলেও শ্রদ্ধা করি। এই কারণে করি—তারা সাহসী সন্তান, এ যুগের চাহিদা। একটি কথা মনে করবেন শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ, স্বাধীনতার পরেও একটি মেধাবী শ্রেণি এসেছিল, তারা গঠন করেছিল জাসদ। এই বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে দেশ গেছে, জাতি গেছে, তারাও গেছে। আল্লাহ আমাদের যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক দেন।’

জামায়াত নেতাদের উদ্দেশ্যে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক বিরোধ উপেক্ষা করে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়েছিলেন বলেই আপনারা ৩০ বছর রাজনীতিতে টিকে আছেন। কিন্তু এখন আপনারা সেই অবদান স্মরণ করেন না। বিএনপিকে প্রতিপক্ষ মনে করছেন।’

জামায়াতের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মরহুম একজন নেতা সংসদে একবার বলেছিলেন, "যার জন্য সিন্নি খাইলা মোল্লা, তারে চিনলা না।" আপনারা সুবিধা নিলেও উপকারকারীকে আজ চিনতে পারছেন না।’

মনিরুল হক চৌধুরী আরও মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালীন তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি করলেও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে উদার মত দিয়েছিলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি স্পিকারের ফুটবল খেলা দেখে তাঁর ভক্ত হয়েছিলেন। হাফিজ উদ্দিন যদি ইউরোপে জন্মাতেন তবে তাঁর তুলনা পেলের সঙ্গে হতো। তিনি স্পিকারের পিতা ড. আজহারউদ্দীনের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধে হাফিজ উদ্দিনের বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার আহ্বানে আপনারা যেভাবে ক্যান্টনমেন্ট ভঙ্গ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তা জাতি জানে না।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে জোহরের আজান পড়লে স্পিকার মাইক বন্ধ করে দেন। মনিরুল হক চৌধুরী আরও সময় চাইলে স্পিকার তাকে দ্রুত শেষ করতে বলেন। শেষ পর্যন্ত নামাজের জন্য ২০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করে অধিবেশন মুলতবি করা হয়। মনিরুল হক চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি তো আমার মূল বক্তব্য এখনো শুরুই করিনি।’

সম্পর্কিত