সভা ছাড়াই সেমিনার আয়োজনের অভিযোগ জাকসু ভিপির, ভিন্নমত জিএস-সম্পাদকের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৫৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ভবন। সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এর ব্যানারে আয়োজিত হতে যাওয়া ‘গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ' শিরোনামে একটি সেমিনার ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর অভিযোগ, এ আয়োজনের বিষয়ে জাকসুর কোন আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়নি, এমনকি সব সদস্যের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি।

বুধবার (৮ এপ্রিল), ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে করা এক স্ট্যাটাসে তিনি এই অভিযোগ করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, গেস্ট নির্বাচন, বাজেট নির্ধারণ, সময়সূচি চূড়ান্তকরণ কিংবা আয়োজনের উদ্দেশ্য—কোনো বিষয়েই সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে জাকসুর সহসভাপতি এবং সভাপতির সঙ্গে সেমিনারের বিষয়বস্তু, অতিথি নির্বাচন বা বাজেট-কোনো বিষয়েই আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলে অভিযোগ করেন আব্দুর রশিদ জিতু।

স্ট্যাটাসে এই আয়োজনকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের চেষ্টা বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু জাকসুর গণতান্ত্রিক চর্চাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং একটি বৃহৎ ও দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্মকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

এ বিষয়ে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু স্ট্রিমকে বলেন, ‘জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব আমাকে এসে বলেছিলেন যে গণভোট বিষয়ক এক সভা আয়োজন করা হবে। আমি তাতে সমর্থন দেই ও সাথে এটা বলি সেমিনারে সব দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং জিএসের সাথে কথা বলতে বলি। এরপর তারা সব ঠিক করে আমাকে ও সভাপতিকে কিছু না জানিয়ে সেমিনারের ঘোষণা দিয়ে দেয়। এটি জাকসুর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’

এমন অভিযোগের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক আহসান লাবীব স্ট্রিমকে বলেন, ‘জিতু ভাইকে আমি প্রথমেই সেমিনারের শিরোনাম জানাই এবং এটাও বলি যে তা পরে পরিবর্তন হতে পারে। এছাড়া তার কথা মত আমি সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। তবে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা নানা কারণ দেখিয়ে সেমিনারে আসতে অস্বীকৃতি জানান।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (আব্দুর রশিদ জিতু) বলেন তাঁকে সেমিনারে না রাখলে ভালো হয়, তাই আমি যেন জিএসের সাথে কথা বলে প্রোগ্রাম করে ফেলি। এরপর একটি গেস্ট লিস্ট তৈরি করে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তবে তিনি ফোন ধরেননি। ব্যাকও করেননি। এরপর আমি জিএসের সাথে মিলে প্রোগ্রাম নামিয়ে ফেলি।’

এ বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে এখানে মিস কমিউনিকেশনের একট ব্যাপার হতে পারে। কিন্তু এই ব্যাপারটা নিয়ে যেভাবে জুলাই গণভোটের রায়কে যখন মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে এটা দুঃখজনক। আমাদের এই প্রোগ্রামে আমরা সকল পক্ষকে দাওয়াত দিয়েছি। বিএনপি, ছাত্রদল সকলকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। তারা এটাকে এভয়েড করে গেছে। সেক্ষেত্রে এই দায়টা কাদের আসলে? সব মিলিয়ে এখানে কমিউনিকেশন হয়েছে ছোটখাটো। এ বিষয়গুলো সামনে থেকে আরো ভালোভাবে আমলে নিবো আমরা।’

সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো এ ব্যাপারে পজেটিভ। যদি কোন পরিবর্তন আসে তা রাতে জানানো হবে।’

উল্লেখ্য, 'গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ' শিরোনামের সেমিনারটি বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সেমিনারে এবি পার্টির সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকি, ডাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈফ মোস্তাফিজ ও যুগ্ম আহবায়ক মনিরা শারমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, বিতার্কিক ও এক্টিভিস্ট জাহিদুল ইসলাম, জাবির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী এবং জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের অলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সম্পর্কিত