সালেহ ফুয়াদ

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু কয়েকটি বিষয়ে ইতিমধ্যে সরকারি ও বিরোধী দল পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে প্রথম দিন থেকেই সংসদে হট্টগোল তৈরির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঠিক এক মাস আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভূমিধস জয় পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। আর ইতিহাসে প্রথমবার সর্বোচ্চ ৬৮ আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা অর্জন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দীর্ঘদিন দল দুটি জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে নির্বাচনও করেছে তারা। কিন্তু গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার), প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত।
জামায়াতের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল এনসিপি, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও আবদুল বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস।
সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এসব দলের শীর্ষ নেতাদের আজ বুধবার (১১ মার্চ) দেওয়া বক্তব্য থেকে স্পষ্ট—সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনটি হতে যাচ্ছে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। পরিস্থিতি হট্টগোলের পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
১১ দলের নেতারা বুধবার সারা দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের পক্ষে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য থেকে অনুমেয়, সংসদ অধিবেশনে এই বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবেন জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নেতারা।
এর বাইরে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি তুলবে বিরোধী দল। বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে স্বৈরাচারের দোসর মনে করে বিরোধী দল। সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাঁর ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াক আউট অথবা হট্টগোলের শঙ্কা রয়েছে।
গণভোটের রায় ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ
ছাত্র–জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পরে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই জাতীয় সনদ।
সংস্কার–সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়নে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
রাষ্ট্রপতির জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করবেন।
ওই আদেশের ভিত্তিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ গণভোটে বিপুল ভোট ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। ‘না’ ভোটের দ্বিগুণের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে নির্বাচনে।
নিয়ম অনুযায়ী, একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির নির্বাচিতরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ তাঁরা নেননি।
১৭ ফেব্রুয়ারির ওই শপথ অনুষ্ঠানে জামায়াত-এনসিপিসহ বিরোধী জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য দুটি শপথই গ্রহণ করেন। সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় তাঁরা মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরে দুই পক্ষ মৃদু আপত্তিসহ ফলাফল মেনে নেয়। কিন্তু শপথ পাঠের এই ভিন্নমত রাজনীতিতে নতুন নাটকীয়তা তৈরি করে। এরপর থেকে দুই পক্ষই নিজেদের যুক্তি কমবেশি তুলে ধরছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এই বিষয়টি আলোচনার ও তর্কবিতর্কের অন্যতম বিষয় হতে যাচ্ছে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কক্ষে হওয়া বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এবার জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে- একটি সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি সংস্কার নির্বাচন। ফলাফল আপনারা দেখেছেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সেই ফলাফল মেনে নিয়েছি।
তিনি বলেন, এই দুটি নির্বাচন একে অপরের পরিপূরক। প্রথমে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু হবে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে তাঁরাই আবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ কারণেই একই অর্ডিন্যান্সের প্রতি সম্মান রেখে আমরা প্রথম দিন দুটি শপথ গ্রহণ করেছি- প্রথমে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এবং পরে সংসদ সদস্য হিসেবে।
একই সভা থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমান সংসদকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার জোর দাবি জানাবেন তাঁরা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছি, যদিও সরকারি দল তা নেয়নি। আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া এবং এই সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কার্যকর করা।’
আজ বুধবারই ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ শিরোনামের আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, সরকার জনগণকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ভুলিয়ে দিতে চায়।
নির্বাচনের আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা এবং গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকা বিএনপি এখন সনদ বাস্তবায়ন করছে না জানিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত একই অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘রহস্যজনকভাবে কেন বর্তমান সরকার ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত দিকে হাঁটছে, সেই রহস্য আমাদের উদঘাটন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী ৫০% ভোট পেলে অবশ্যই গণভোট জয়যুক্ত হবে।’
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ঐকমত্য কমিশনের প্রতিটি মিটিংয়েই ছিল। তারা গণভোটে একমত হয়েছে এবং জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। জুলাই সনদ একটি মীমাংসিত বিষয়, এখানে বিতর্কের কোনো কিছু নেই। এরপরেও জুলাই সনদের যারা বিরোধিতা করবে, জাতি কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবে না। তারা ক্ষমতায় আসতে পেরেছে, কিন্তু এই ক্ষমতায় চিরদিন থাকবে না।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও স্বৈরাচারের দোসর
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। আজ বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংসদ থেকে বের হয়ে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই অধিবেশনেই সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে এবং তাদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসব তথ্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রায় একই সময়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের এমপিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, তাঁরা মনে করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন যে তাঁকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, তা তাঁদের কাছে বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে তাঁরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা কাল জানা যাবে।
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন চায় জামায়াত-এনসিপি
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমরা চাই জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন হোক। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না। আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিসফুলি (শান্তিপূর্ণভাবে) পুরাটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক। এর ভিত্তিতেই আমরা যেন ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে- বাংলাদেশে যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রায় ঊনসত্তর শতাংশ এ প্রক্রিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন। এটিকে অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, গণভোটে যে চারটি বিষয় উত্থাপিত হয়েছিল, আমরা চাই সেগুলো হুবহু গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হোক। এ বিষয়ে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।
ওই সনদেই আছে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। ইতিমধ্যে সরকার মৌখিকভাবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। তবে শুরুতে জামায়াত এ ব্যাপারে লিখিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার কথা বললেও পরে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি দলটি।
ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে জামায়াতের অনিশ্চয়তা
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আজ বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কক্ষে হওয়া বৈঠক থেকে বেরিয়ে বলেছেন, ‘আগামীকাল সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের ভূমিকা কী থাকবে, তা ঠিক করতেই আমরা ১১ দল একসঙ্গে বৈঠকে বসেছি। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের অবস্থান কী হবে, সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’ তবে আলোচনার সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
অন্যদিকে বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদ নেবে কিনা জানতে চাইলে একই বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘এটুকু বলব যে, আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু সিদ্ধান্তটা কী, সেটা খোলাসা হবে তখন, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’
সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে আরও সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আপনারা অনেক চৌকস সাংবাদিক। আমার কথাবার্তায় যদি না বোঝেন, তাহলে কিছু করার নেই।’ এই সময়ে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে সবসময় একটা ইতিবাচক এবং সিরিয়াস ভূমিকা নেবে।
যেভাবে বসবে সংসদের প্রথম অধিবেশন
নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সদ্য বিদায়ী সরকারের স্পিকার। নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরে তাঁর সভাপতিত্বে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে গণঅভ্যুত্থানের পরে প্রথম নির্বাচিত সংসদের পদ্ধতিতে এবার পরিবর্তন দেখা যাবে।
আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের সভা শেষে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার সংসদ চিরাচরিত পদ্ধতিতে বসবে না। আমাদের যেহেতু পুরোনো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই। তাই আমরা সংসদে একটি খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করব। একজন কোরআন তেলাওয়াত করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের নাম ঘোষণা করবেন।’
তিনি বলেন, সংসদ নেতার প্রস্তাব কেউ একজন সমর্থন করবেন। এরপর তাঁর সভাপতিত্বে আমরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করব। এই দুটি পদে নির্বাচনের দায়িত্ব আমরা সংসদ নেতাকে দিয়েছি; তিনিই সিদ্ধান্ত দেবেন। বৃহস্পতিবার তা সবাই জানতে পারবেন।
চিফ হুইপ বলেন, এরপর কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সভাপতিমণ্ডলীর পাঁচ সদস্য মনোনয়ন করবেন। তারপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। সেখানে আমাদের প্রয়াত দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সম্পর্কে আলোচনা হবে। এরপর জুলাই যোদ্ধাদের সম্পর্কেও আলোচনা করা হবে।
এসময় জাতীয় সংসদকে দেশের সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, জাতীয় বিষয় নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক হবে। এর মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল সংসদ উপহার দিতে চাই। আমরা চাই, সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিতর্ক এবং সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হোক।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু কয়েকটি বিষয়ে ইতিমধ্যে সরকারি ও বিরোধী দল পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে প্রথম দিন থেকেই সংসদে হট্টগোল তৈরির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঠিক এক মাস আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভূমিধস জয় পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। আর ইতিহাসে প্রথমবার সর্বোচ্চ ৬৮ আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা অর্জন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দীর্ঘদিন দল দুটি জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে নির্বাচনও করেছে তারা। কিন্তু গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার), প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত।
জামায়াতের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল এনসিপি, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও আবদুল বাছিত আজাদের খেলাফত মজলিস।
সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এসব দলের শীর্ষ নেতাদের আজ বুধবার (১১ মার্চ) দেওয়া বক্তব্য থেকে স্পষ্ট—সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনটি হতে যাচ্ছে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। পরিস্থিতি হট্টগোলের পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
১১ দলের নেতারা বুধবার সারা দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের পক্ষে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য থেকে অনুমেয়, সংসদ অধিবেশনে এই বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবেন জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নেতারা।
এর বাইরে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি তুলবে বিরোধী দল। বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে স্বৈরাচারের দোসর মনে করে বিরোধী দল। সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাঁর ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াক আউট অথবা হট্টগোলের শঙ্কা রয়েছে।
গণভোটের রায় ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ
ছাত্র–জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পরে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই জাতীয় সনদ।
সংস্কার–সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়নে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
রাষ্ট্রপতির জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করবেন।
ওই আদেশের ভিত্তিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ গণভোটে বিপুল ভোট ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। ‘না’ ভোটের দ্বিগুণের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে নির্বাচনে।
নিয়ম অনুযায়ী, একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির নির্বাচিতরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ তাঁরা নেননি।
১৭ ফেব্রুয়ারির ওই শপথ অনুষ্ঠানে জামায়াত-এনসিপিসহ বিরোধী জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য দুটি শপথই গ্রহণ করেন। সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় তাঁরা মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরে দুই পক্ষ মৃদু আপত্তিসহ ফলাফল মেনে নেয়। কিন্তু শপথ পাঠের এই ভিন্নমত রাজনীতিতে নতুন নাটকীয়তা তৈরি করে। এরপর থেকে দুই পক্ষই নিজেদের যুক্তি কমবেশি তুলে ধরছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এই বিষয়টি আলোচনার ও তর্কবিতর্কের অন্যতম বিষয় হতে যাচ্ছে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কক্ষে হওয়া বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এবার জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে- একটি সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি সংস্কার নির্বাচন। ফলাফল আপনারা দেখেছেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সেই ফলাফল মেনে নিয়েছি।
তিনি বলেন, এই দুটি নির্বাচন একে অপরের পরিপূরক। প্রথমে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু হবে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে তাঁরাই আবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ কারণেই একই অর্ডিন্যান্সের প্রতি সম্মান রেখে আমরা প্রথম দিন দুটি শপথ গ্রহণ করেছি- প্রথমে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এবং পরে সংসদ সদস্য হিসেবে।
একই সভা থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমান সংসদকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার জোর দাবি জানাবেন তাঁরা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছি, যদিও সরকারি দল তা নেয়নি। আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া এবং এই সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কার্যকর করা।’
আজ বুধবারই ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ শিরোনামের আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, সরকার জনগণকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ভুলিয়ে দিতে চায়।
নির্বাচনের আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা এবং গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকা বিএনপি এখন সনদ বাস্তবায়ন করছে না জানিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত একই অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘রহস্যজনকভাবে কেন বর্তমান সরকার ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত দিকে হাঁটছে, সেই রহস্য আমাদের উদঘাটন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী ৫০% ভোট পেলে অবশ্যই গণভোট জয়যুক্ত হবে।’
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ঐকমত্য কমিশনের প্রতিটি মিটিংয়েই ছিল। তারা গণভোটে একমত হয়েছে এবং জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। জুলাই সনদ একটি মীমাংসিত বিষয়, এখানে বিতর্কের কোনো কিছু নেই। এরপরেও জুলাই সনদের যারা বিরোধিতা করবে, জাতি কখনো তাদেরকে ক্ষমা করবে না। তারা ক্ষমতায় আসতে পেরেছে, কিন্তু এই ক্ষমতায় চিরদিন থাকবে না।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও স্বৈরাচারের দোসর
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। আজ বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংসদ থেকে বের হয়ে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই অধিবেশনেই সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে এবং তাদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসব তথ্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রায় একই সময়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের এমপিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, তাঁরা মনে করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন যে তাঁকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, তা তাঁদের কাছে বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে তাঁরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা কাল জানা যাবে।
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন চায় জামায়াত-এনসিপি
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমরা চাই জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন হোক। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না। আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিসফুলি (শান্তিপূর্ণভাবে) পুরাটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক। এর ভিত্তিতেই আমরা যেন ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে- বাংলাদেশে যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রায় ঊনসত্তর শতাংশ এ প্রক্রিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন। এটিকে অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, গণভোটে যে চারটি বিষয় উত্থাপিত হয়েছিল, আমরা চাই সেগুলো হুবহু গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হোক। এ বিষয়ে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।
ওই সনদেই আছে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। ইতিমধ্যে সরকার মৌখিকভাবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। তবে শুরুতে জামায়াত এ ব্যাপারে লিখিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার কথা বললেও পরে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি দলটি।
ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে জামায়াতের অনিশ্চয়তা
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আজ বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কক্ষে হওয়া বৈঠক থেকে বেরিয়ে বলেছেন, ‘আগামীকাল সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের ভূমিকা কী থাকবে, তা ঠিক করতেই আমরা ১১ দল একসঙ্গে বৈঠকে বসেছি। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের অবস্থান কী হবে, সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’ তবে আলোচনার সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
অন্যদিকে বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদ নেবে কিনা জানতে চাইলে একই বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘এটুকু বলব যে, আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু সিদ্ধান্তটা কী, সেটা খোলাসা হবে তখন, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’
সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে আরও সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আপনারা অনেক চৌকস সাংবাদিক। আমার কথাবার্তায় যদি না বোঝেন, তাহলে কিছু করার নেই।’ এই সময়ে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে সবসময় একটা ইতিবাচক এবং সিরিয়াস ভূমিকা নেবে।
যেভাবে বসবে সংসদের প্রথম অধিবেশন
নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সদ্য বিদায়ী সরকারের স্পিকার। নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরে তাঁর সভাপতিত্বে নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে গণঅভ্যুত্থানের পরে প্রথম নির্বাচিত সংসদের পদ্ধতিতে এবার পরিবর্তন দেখা যাবে।
আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের সভা শেষে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার সংসদ চিরাচরিত পদ্ধতিতে বসবে না। আমাদের যেহেতু পুরোনো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই। তাই আমরা সংসদে একটি খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করব। একজন কোরআন তেলাওয়াত করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের নাম ঘোষণা করবেন।’
তিনি বলেন, সংসদ নেতার প্রস্তাব কেউ একজন সমর্থন করবেন। এরপর তাঁর সভাপতিত্বে আমরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করব। এই দুটি পদে নির্বাচনের দায়িত্ব আমরা সংসদ নেতাকে দিয়েছি; তিনিই সিদ্ধান্ত দেবেন। বৃহস্পতিবার তা সবাই জানতে পারবেন।
চিফ হুইপ বলেন, এরপর কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সভাপতিমণ্ডলীর পাঁচ সদস্য মনোনয়ন করবেন। তারপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। সেখানে আমাদের প্রয়াত দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সম্পর্কে আলোচনা হবে। এরপর জুলাই যোদ্ধাদের সম্পর্কেও আলোচনা করা হবে।
এসময় জাতীয় সংসদকে দেশের সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, জাতীয় বিষয় নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক হবে। এর মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল সংসদ উপহার দিতে চাই। আমরা চাই, সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিতর্ক এবং সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হোক।

আহতদের বিষয়ে কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা ৫টা মাধ্যমে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের বিষয়ে আবগত থাকছি।
১ ঘণ্টা আগে
মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এটি বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত ভূমিকার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান।
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বসছে। এ অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশের জন্য সংসদ ভবনের মনিপুরী পাড়া গেট (৬ নম্বর গেট), বকুলতলা গেট (১২ নম্বর গেট) ও আসাদগেট (১ নম্বর গেট) উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
১ ঘণ্টা আগে
বিগত সরকারের আমলের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অধ্যায় পেছনে ফেলে দেশে একটি সুস্থ ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা জাতীয় সংসদ থেকেই শুরু করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
১ ঘণ্টা আগে