leadT1ad

অবিক্রীত কোরবানির গরুতে পাবনার খামারিদের কপালে ভাঁজ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১৫: ৪৯
কোরবানির ঈদে ঢাকার হাটে অবিক্রিত গরু বেঁধে রাখা হয়েছে খামারে। পাবনার কাশীনাথপুর এলাকা একটি খামার থেকে সম্প্রতি তোলা ছবি।

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ গরু পালন করেছিলেন পাবনার খামারিরা। বিক্রি না হওয়ায় সেই পশুই এখন হাজারো খামারির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে বেড়েছে লোকসানের বোঝা, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ ও গরুর দৈনিক পরিচর্যা ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থা তাদের।

খামারিরা জানান, লাভের আশায় এ বছর ৫০ হাজার গরু রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার হাটে তোলা হয়েছিল। তবে প্রত্যাশিত দাম না মেলায় অন্তত ৩০ হাজার গরু ফিরিয়ে নিতে হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, পাবনা সদর, বেড়া, সাঁথিয়া, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামই এখন গো-খামারের ওপর নির্ভরশীল। এসব খামারে স্থানীয় চাহিদার কয়েক গুণ বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছিল। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন হাটে তুললেও ন্যূনতম দাম না মেলায় অনেক পশু বিক্রি করা যায়নি। এতে পশু পরিবহনের বিপুল পরিমাণ ব্যয়ের পাশাপাশি লালন-পালনের খরচও গুণতে হচ্ছে খামারিদের।

১৬ লাখের ‘সাদা সুলতান’ সাড়ে ৮ লাখ

পাবনার গো-খামার প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত গয়েশপুর গ্রাম। এই গ্রাম থেকে জেলার সবচেয়ে বড় গরু ‘সাদা সুলতান’কে তোলা হয়েছিল রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী হাটে। ফ্রিজিয়ান জাতের প্রায় ৩০ মণের বিশাল গরুটির জন্য খামারি চান ১৬ লাখ টাকা। তবে দাম ওঠে সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ লাখ।

কোরবানির ঈদে ঢাকার হাটে অবিক্রিত গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারি। পাবনার গয়েশপুর এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা ছবি।
কোরবানির ঈদে ঢাকার হাটে অবিক্রিত গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারি। পাবনার গয়েশপুর এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা ছবি।

খামারি মো. ফারুক হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘গত দুই বছর সন্তানের মতো ‘সাদা সুলতান’কে পালছি। খাবারের যে চড়া দাম, এক গরুর পেছনেই লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অথচ হাটে গিয়ে অর্ধেক দাম শুনে মাথা ঘুরে যাওয়ার অবস্থা। লোকসান দিয়ে তো আর ৩০ মণের গরু দিয়ে দেওয়া যায় না, তাই বাধ্য হয়ে ফেরত এনেছি। এখন এর পেছনে প্রতিদিন যে খরচ হবে, তা আমি কোথা থেকে দেব?’

এক গয়েশপুর গ্রাম থেকেই এবার প্রায় ৪০০ গরু রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, আফতাবনগর ও গাবতলী হাটে নেওয়া হয়েছিল। কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলায় যার বেশিরভাগই ফিরিয়ে নিতে হয়েছে।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ৭১ হাজার চাহিদার বিপরীতে এ বছর প্রস্তুত করা কোরবানিযোগ্য পশু ছিল সাড়ে ৬ লাখ। গরুর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার। এর মধ্যে ৫০ হাজার গরু বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। তবে অবিক্রীত থাকায় ফেরত গেছে ৩০ হাজার গরু।

খামারিরা জানান, কোরবানি কম হওয়া এবং বড় গরুর প্রতি ক্রেতাদের অনীহার কারণে এবার বাজার জমেনি। উল্টো ঢাকা যাওয়া-আসার ট্রাক ভাড়া বাবদ একেকজন খামারির বড় অঙ্কের টাকা লোকসান হয়েছে।

রোগবালাইয়ের শঙ্কা ও ঈদ-পরবর্তী মন্দা

পরিচর্যা খরচের পাশাপাশি ফিরিয়ে নেওয়া গরু নিয়ে অন্য বিপদও আছে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গো-খামারি রাজু আহমেদ বলেন, দীর্ঘ জার্নি এবং হাটের বৈরী পরিবেশের ধকল সইতে না পেরে অনেক গরু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে পশু চিকিৎসকের পেছনেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

মাংসের জন্য যে বিক্রি করবেন সেই সুযোগও কম। রাজু আহমেদ বলেন, ঈদের পর কসাই বা পাইকাররা যে দাম বলছেন, তা উৎপাদন খরচের এক-তৃতীয়াংশও নয়।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম বলেন, জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পশু উদ্বৃত্ত ছিল। খামারিরা লাভের আশায় বিভিন্ন হাটে নিলেও বিক্রি করতে পারেননি। এখন অসুস্থ গরুর চিকিৎসায় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ভেটেরিনারি সেবা দিচ্ছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত