মাহবুবুল আলম তারেক

ফুটবল বিশ্বকাপের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সমর্থকদের জার্সিতে রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অংশগ্রহণ। এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের অফিশিয়াল ম্যাচ জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। এবার ২৩ লাখ ৬৫ হাজার জার্সি রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানিমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
ঢাকার তুরাগ-উত্তরা এলাকায় অবস্থিত গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেডের (জিএমএ) কারখানায় জার্সিগুলো তৈরি করা হয়। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি এই প্রথম কোনো ফিফা বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড়দের অফিশিয়াল ম্যাচ জার্সি উৎপাদন করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অর্ডার পাওয়ার পর মার্চের মধ্যেই পুরো চালান সরবরাহ করা হয়।
জার্সির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ পারফরম্যান্স ফেব্রিক তৈরি করেছে ইয়াংওয়ান করপোরেশন বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ ইউনিট বিশেষ ধরনের সুতা আমদানি করে হালকা, বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকা পলিয়েস্টার মেশ ফেব্রিক তৈরি করে। ঘাম দ্রুত শোষণ ও শরীরকে আরামদায়ক রাখার উপযোগী এই ফেব্রিক পরে জার্সি তৈরির জন্য জিএমএর কাছে সরবরাহ করা হয়।
নিউইয়র্কভিত্তিক ক্রীড়া পোশাক ব্র্যান্ড ক্যাপেল্লি স্পোর্ট পুরো সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। ২০১৯ সাল থেকেই জিএমএ ক্যাপেল্লি স্পোর্ট-এর জন্য বিভিন্ন ওয়্যার উৎপাদন করছে।
প্রতিষ্ঠানটি কেপ ভার্দের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার খেলোয়াড় জার্সি তৈরি করেছে। একই সরবরাহ চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জন্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার সমর্থক জার্সিও রপ্তানি করা হয়েছে। মাঠে ব্যবহৃত খেলোয়াড়দের জার্সি এবং বাজারে বিক্রির জন্য তৈরি সমর্থকদের জার্সি—দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর আস্থা অর্জন করেছে।
জিএমএর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশতাক আহমেদ খান স্ট্রিমকে বলেন, ‘এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ থেকে শুধু আমরাই খেলোয়াড় জার্সি সরবরাহ করেছি। তবে ফ্যান জার্সি অন্যান্য অনেক কোম্পানি সরবরাহ করেছে। কেপভার্দে ছাড়া সার্বিয়ারও এবার আমাদের জার্সি পরে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার কথা ছিল। কিন্তু তারা প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়ে। ক্যাপেল্লি স্পোর্ট সার্বিয়ার স্পন্সর ছিল।’
২০১৪ সালে ব্রাজিলের জার্সিতেও ছিল ‘মেড ইন বাংলাদেশ’
বিশ্বকাপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা এবারই প্রথম নয়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ ঘিরেও দেশের বিভিন্ন কারখানায় বিপুল পরিমাণ ক্রীড়া পোশাক উৎপাদিত হয়েছে। এসবের মধ্যে ছিল খেলোয়াড়দের জার্সি, সমর্থকদের জার্সি, শর্টস, মোজা, জ্যাকেট।
বিশ্বকাপের অফিশিয়াল খেলোয়াড়দের জার্সি তৈরিতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ। সে আসরে স্বাগতিক ব্রাজিল জাতীয় দলের অফিশিয়াল প্লেয়ার ভার্সন জার্সি বাংলাদেশের একটি কারখানায় তৈরি হয়েছিল। জার্সির নিচের অংশে স্পষ্টভাবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা ছিল।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন সচেতনভাবেই এই লেবেল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ভবনধস এবং তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই জার্সিতে উৎপাদনকারী দেশের নাম দৃশ্যমান রাখা হয়। নেইমার, তিয়াগো সিলভা, দানি আলভেসসহ ব্রাজিল দলের সব খেলোয়াড় এই জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন।
একই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ থেকে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দলের ফ্যান জার্সিও রপ্তানি হয়েছিল। সে সময় বিশ্বকাপকেন্দ্রিক জার্সি রপ্তানির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার (৩ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা) পর্যন্ত পৌঁছায় বলে খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা।
২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের বিভিন্ন কারখানায় প্লেয়ার জার্সি, ফ্যান জার্সি এবং অন্যান্য স্পোর্টসওয়্যার উৎপাদনের তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্লামি ফ্যাশনসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ ছিল।
ফ্যান জার্সি গেছে ১৮ দেশে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফুটবল ও ফিফার লোগো-সংবলিত জার্সি, টি-শার্ট এবং হুডি মিলিয়ে থেকে ২৩ লাখ ৬৫ হাজারটি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানিমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৩টি পোশাক কারখানা ১৮টি দেশে এসব পণ্য সরবরাহ করেছে।
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, জার্মানি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারেও গেছে বাংলাদেশে তৈরি ফ্যান জার্সি। এসব পণ্যের ক্রেতার তালিকায় রয়েছে শীর্ষস্থানীয় ৩৬টি খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ড, যার মধ্যে ওয়ালমার্ট, প্রাইমার্ক, নেক্সট, এমঅ্যান্ডএস, পুমা এবং ডিক্যাথলনের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
ফ্যান জার্সি রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস ফ্যাশন। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্য ও কানাডায় প্রায় ৫ লাখ ৪৮ হাজার জার্সি ও টি-শার্ট রপ্তানি করেছে, যার মূল্য প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মার্কিন ডলার।
চট্টগ্রামের এশিয়ান গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান—সি ব্লু টেক্সটাইল ও প্রিয়াম গার্মেন্টস যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য প্রায় ৩ লাখ পিস ফ্যান জার্সি রপ্তানি করেছে। এতে প্রায় ৪ লাখ মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।
বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট বিশেষ জার্সির বাইরে সাধারণ জার্সি ও পুলওভারের রপ্তানিও বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার মূল্যের ২২ কোটি ১৬ লাখ জার্সি ও পুলওভার রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৯৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার মূল্যের ২১ কোটি ৪৭ লাখ পিস। অর্থাৎ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক জার্সি রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির প্রভাব দেখা গেছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রতি চার বছর পরপর জার্সির রপ্তানি বাড়ে। তবে বাংলাদেশ শুধু বিশ্বকাপের সময় নয়, সারা বছরই বিভিন্ন দেশে জার্সি ও স্পোর্টসওয়্যার রপ্তানি করে। আন্তর্জাতিক মানের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের কারখানাগুলো এখন বৈশ্বিক ক্রেতাদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি স্পোর্টসওয়্যার উৎপাদনেও দেশের সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।’
পোশাক উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বিশ্বকাপে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফুটবল বুট বা ক্লিটস উৎপাদনে বাংলাদেশের ভূমিকা এখনও নেই। ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ফ্লেক্সা) সভাপতি এবং অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর স্ট্রিমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের বার্ষিক জুতা রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও তা মূলত চামড়া ও সিনথেটিক জুতা ঘিরে। কিছু কারখানায় সাধারণ স্পোর্টস শু বা টার্ফ শু তৈরি হলেও বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত উচ্চপ্রযুক্তির ফুটবল বুট বাংলাদেশে উৎপাদনের তথ্য নেই। নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমাসহ বড় ব্র্যান্ডগুলোর এসব পণ্য সাধারণত ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশের বিশেষায়িত উৎপাদন কেন্দ্রে তৈরি হয়।’
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিম রহমান স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের গায়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা জার্সি দেখা দেশের শিল্পের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বাংলাদেশের ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপগুলোতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ আরও বেশি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সমর্থকদের জার্সিতে রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অংশগ্রহণ। এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের অফিশিয়াল ম্যাচ জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। এবার ২৩ লাখ ৬৫ হাজার জার্সি রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানিমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
ঢাকার তুরাগ-উত্তরা এলাকায় অবস্থিত গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেডের (জিএমএ) কারখানায় জার্সিগুলো তৈরি করা হয়। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি এই প্রথম কোনো ফিফা বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড়দের অফিশিয়াল ম্যাচ জার্সি উৎপাদন করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অর্ডার পাওয়ার পর মার্চের মধ্যেই পুরো চালান সরবরাহ করা হয়।
জার্সির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ পারফরম্যান্স ফেব্রিক তৈরি করেছে ইয়াংওয়ান করপোরেশন বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ ইউনিট বিশেষ ধরনের সুতা আমদানি করে হালকা, বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকা পলিয়েস্টার মেশ ফেব্রিক তৈরি করে। ঘাম দ্রুত শোষণ ও শরীরকে আরামদায়ক রাখার উপযোগী এই ফেব্রিক পরে জার্সি তৈরির জন্য জিএমএর কাছে সরবরাহ করা হয়।
নিউইয়র্কভিত্তিক ক্রীড়া পোশাক ব্র্যান্ড ক্যাপেল্লি স্পোর্ট পুরো সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। ২০১৯ সাল থেকেই জিএমএ ক্যাপেল্লি স্পোর্ট-এর জন্য বিভিন্ন ওয়্যার উৎপাদন করছে।
প্রতিষ্ঠানটি কেপ ভার্দের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার খেলোয়াড় জার্সি তৈরি করেছে। একই সরবরাহ চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জন্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার সমর্থক জার্সিও রপ্তানি করা হয়েছে। মাঠে ব্যবহৃত খেলোয়াড়দের জার্সি এবং বাজারে বিক্রির জন্য তৈরি সমর্থকদের জার্সি—দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর আস্থা অর্জন করেছে।
জিএমএর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশতাক আহমেদ খান স্ট্রিমকে বলেন, ‘এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ থেকে শুধু আমরাই খেলোয়াড় জার্সি সরবরাহ করেছি। তবে ফ্যান জার্সি অন্যান্য অনেক কোম্পানি সরবরাহ করেছে। কেপভার্দে ছাড়া সার্বিয়ারও এবার আমাদের জার্সি পরে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার কথা ছিল। কিন্তু তারা প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়ে। ক্যাপেল্লি স্পোর্ট সার্বিয়ার স্পন্সর ছিল।’
২০১৪ সালে ব্রাজিলের জার্সিতেও ছিল ‘মেড ইন বাংলাদেশ’
বিশ্বকাপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা এবারই প্রথম নয়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ ঘিরেও দেশের বিভিন্ন কারখানায় বিপুল পরিমাণ ক্রীড়া পোশাক উৎপাদিত হয়েছে। এসবের মধ্যে ছিল খেলোয়াড়দের জার্সি, সমর্থকদের জার্সি, শর্টস, মোজা, জ্যাকেট।
বিশ্বকাপের অফিশিয়াল খেলোয়াড়দের জার্সি তৈরিতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ। সে আসরে স্বাগতিক ব্রাজিল জাতীয় দলের অফিশিয়াল প্লেয়ার ভার্সন জার্সি বাংলাদেশের একটি কারখানায় তৈরি হয়েছিল। জার্সির নিচের অংশে স্পষ্টভাবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা ছিল।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন সচেতনভাবেই এই লেবেল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ভবনধস এবং তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই জার্সিতে উৎপাদনকারী দেশের নাম দৃশ্যমান রাখা হয়। নেইমার, তিয়াগো সিলভা, দানি আলভেসসহ ব্রাজিল দলের সব খেলোয়াড় এই জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন।
একই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ থেকে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দলের ফ্যান জার্সিও রপ্তানি হয়েছিল। সে সময় বিশ্বকাপকেন্দ্রিক জার্সি রপ্তানির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার (৩ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা) পর্যন্ত পৌঁছায় বলে খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা।
২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের বিভিন্ন কারখানায় প্লেয়ার জার্সি, ফ্যান জার্সি এবং অন্যান্য স্পোর্টসওয়্যার উৎপাদনের তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্লামি ফ্যাশনসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ ছিল।
ফ্যান জার্সি গেছে ১৮ দেশে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফুটবল ও ফিফার লোগো-সংবলিত জার্সি, টি-শার্ট এবং হুডি মিলিয়ে থেকে ২৩ লাখ ৬৫ হাজারটি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানিমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৩টি পোশাক কারখানা ১৮টি দেশে এসব পণ্য সরবরাহ করেছে।
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, জার্মানি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারেও গেছে বাংলাদেশে তৈরি ফ্যান জার্সি। এসব পণ্যের ক্রেতার তালিকায় রয়েছে শীর্ষস্থানীয় ৩৬টি খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ড, যার মধ্যে ওয়ালমার্ট, প্রাইমার্ক, নেক্সট, এমঅ্যান্ডএস, পুমা এবং ডিক্যাথলনের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
ফ্যান জার্সি রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস ফ্যাশন। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্য ও কানাডায় প্রায় ৫ লাখ ৪৮ হাজার জার্সি ও টি-শার্ট রপ্তানি করেছে, যার মূল্য প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মার্কিন ডলার।
চট্টগ্রামের এশিয়ান গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান—সি ব্লু টেক্সটাইল ও প্রিয়াম গার্মেন্টস যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য প্রায় ৩ লাখ পিস ফ্যান জার্সি রপ্তানি করেছে। এতে প্রায় ৪ লাখ মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।
বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট বিশেষ জার্সির বাইরে সাধারণ জার্সি ও পুলওভারের রপ্তানিও বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার মূল্যের ২২ কোটি ১৬ লাখ জার্সি ও পুলওভার রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৯৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার মূল্যের ২১ কোটি ৪৭ লাখ পিস। অর্থাৎ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক জার্সি রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির প্রভাব দেখা গেছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রতি চার বছর পরপর জার্সির রপ্তানি বাড়ে। তবে বাংলাদেশ শুধু বিশ্বকাপের সময় নয়, সারা বছরই বিভিন্ন দেশে জার্সি ও স্পোর্টসওয়্যার রপ্তানি করে। আন্তর্জাতিক মানের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের কারখানাগুলো এখন বৈশ্বিক ক্রেতাদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি স্পোর্টসওয়্যার উৎপাদনেও দেশের সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।’
পোশাক উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বিশ্বকাপে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফুটবল বুট বা ক্লিটস উৎপাদনে বাংলাদেশের ভূমিকা এখনও নেই। ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ফ্লেক্সা) সভাপতি এবং অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর স্ট্রিমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের বার্ষিক জুতা রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও তা মূলত চামড়া ও সিনথেটিক জুতা ঘিরে। কিছু কারখানায় সাধারণ স্পোর্টস শু বা টার্ফ শু তৈরি হলেও বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত উচ্চপ্রযুক্তির ফুটবল বুট বাংলাদেশে উৎপাদনের তথ্য নেই। নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমাসহ বড় ব্র্যান্ডগুলোর এসব পণ্য সাধারণত ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশের বিশেষায়িত উৎপাদন কেন্দ্রে তৈরি হয়।’
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিম রহমান স্ট্রিমকে বলেন, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের গায়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা জার্সি দেখা দেশের শিল্পের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বাংলাদেশের ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপগুলোতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ আরও বেশি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
.png)

টানা বর্ষণে নাকাল দেশ। এর মধ্যে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় পানিবন্দি লাখো মানুষ। দুর্গতরা পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। আবার বন্যার পানির তোড়ে সড়ক ভেঙে গেছে। ফলে বিচ্ছিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
১১ মিনিট আগে
দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে উৎসাহিত করতে মঙ্গলবার ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’ উদ্বোধন হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) হতে যাওয়া এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
২৬ মিনিট আগে
ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এতে সংগঠনের ১৬ সদস্য ও অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি করেন পরিদর্শক এবি সিদ্দিক।
১ ঘণ্টা আগে
আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে চলতি মাসেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে অন্তত ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এখন পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশেই মারা গেছেন ৩৯ জন।
১ ঘণ্টা আগে