রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি শুধু পদে থাকার সময়ে: তথ্য উপদেষ্টা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৫৬
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি শুধু পদে থাকার সময়ে কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আইনের মুখোমুখি হবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এর আগে-পরে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

সরকারের কার্যক্রম নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাবেন কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দায়মুক্তি নিয়ে একটু বিভ্রান্তি আছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তাঁর পদে থাকার সময়ে কোনো আইনের মুখোমুখি হবেন না। তিনি যখন পদে নেই, এর আগে-পরে কোনো অনিয়ম করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এটি শুধু মো. সাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রে নয়, যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বছরের শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত বহাল আছে জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশন করার প্রক্রিয়া চলছে।

গতকাল ৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণ ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কিনা জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর দেননি ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, ‘সরকার তেমন কিছু বলেনি। বলেছে কি?’

উপদেষ্টা বলেন, সরকারি চাকরি আইনে আছে কারও চাকরির বয়স ২৫ বছর হলে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো যেতে পারে। এর জন্য কারণ দর্শানোরও প্রয়োজন নেই।

এদিকে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কিনা তা জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা তো ব্রিকসের সদস্য নই। আমাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সরকার থেকে সিদ্ধান্ত হবে প্রধানমন্ত্রী যাবেন কিনা। গেলে তো কারও কারও সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ থাকে। সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে বলেও জানা নেই।’

আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হবে। ১১ সদস্য দেশের এই সম্মেলনে বাইরের বিভিন্ন দেশকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানাতে পারে আয়োজক দেশ।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে অবনতি হয়। মোদির এই আমন্ত্রণ সেই বরফ গলানোর প্রক্রিয়া হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হতে চায় কিনা—এমন প্রশ্নও করা হয়। জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বহুপাক্ষিক যত জায়গা আছে, সবকিছুতেই যুক্ত হওয়ার চিন্তা আছে।’

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হয় দুই দেশের পক্ষ থেকেই।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত