সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১১৪ রানে হারল বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক

এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১১৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। শেফালি ভার্মার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভারত ৪ উইকেটে ১৯৫ রান করে। পরে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ৮১ রানে অলআউট হয়েছে নিগার সুলতানার দল।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাপানের আইচি প্রিফেকচারাল কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন মিলে দ্রুত রান তুলতে থাকেন।
এই জুটির মাঝেই নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন স্মৃতি মান্ধানা। নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে ছাড়িয়ে এই রেকর্ড গড়েন তিনি।
পাওয়ার প্লের শেষ বলে মান্ধানাকে ফিরিয়ে ভারতকে প্রথম ধাক্কা দেন নাহিদা আক্তার। মুস্তারি তাসনিমের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৭ রান করেন মান্ধানা। তাঁর বিদায়ের পর কামালিনি দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশের শিবিরে। তবে ততক্ষণে পাওয়ার প্লেতে ৭২ রান তুলে ফেলেছে ভারত।
এরপর শেফালির সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। দুজন মিলে আবারও বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের আরেকটি ফিফটি তুলে নেন শেফালি। অন্যদিকে হারমানপ্রীত কিছুটা ধীরগতিতে রান তুললেও দুজনের জুটিতে ভারতের রান দ্রুত বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত ৯৪ রানের জুটি ভাঙেন রাবেয়া খান। তাঁর বলে স্ট্যাম্পড হয়ে ৪০ রান করে ফেরেন হারমানপ্রীত। তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন শেফালি। ইনিংসের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত শেফালির অপরাজিত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত।
১৯৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৯ রানেই জুয়াইরিয়া ফেরার পর দ্রুতই আউট হন সোবহানা মোস্তারি। এতে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
এক প্রান্তে দিলারা আক্তার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ২৩ বলে ২৭ রান করে দলকে আশা দেখালেও তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি অন্য ব্যাটাররা। দিলারা ফেরার আগে সাজঘরে ফিরে যান নিগার সুলতানা ও স্বর্ণাও।
এরপর ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার আর দাঁড়াতে পারেনি। দীপ্তি শর্মা, নন্দিনী শর্মা ও শ্রী চরাণীর আক্রমণে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮১ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।
এই হারে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারাল বাংলাদেশ। তবে এখনো পদকের লড়াইয়ে আছে নিগার সুলতানার দল। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
.png)






