চট্টগ্রামে দুই শিশুকে বাঁচিয়ে প্রাণ হারালেন মাছচাষি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ২২: ৩৯
পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুকুরে ডুবে যাওয়া তিন শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে এক মাছচাষি ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার সাহসী প্রচেষ্টায় প্রাণে বেঁচে গেছে আরও দুই শিশু।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ডলু নয়াবাজার আর্মি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন স্থানীয় মাছের খামারমালিক মফিজ (৪৫) এবং আড়াই বছর বয়সী শিশু মুনতাহিনা। মুনতাহিনা ফটিকছড়ি পৌরসভার কে এম টেক এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আজাদের মেয়ে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিকেলে একটি পুকুরে ভাসমান ছোট নৌকায় খেলছিল তিন শিশু। একপর্যায়ে নৌকাটি উল্টে গেলে তারা পানিতে পড়ে যায় এবং ডুবে যেতে শুরু করে। শিশুদের চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান খামারের মালিক মফিজ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই তিনি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রথমে দুই শিশুকে উদ্ধার করে তীরে তুলতে সক্ষম হন। এরপর নিখোঁজ থাকা মুনতাহিনাকে উদ্ধারের জন্য আবার পানিতে নামেন। কিন্তু একপর্যায়ে তিনিও পানিতে তলিয়ে যান। তার সাহসিকতায় দুই শিশুর প্রাণ রক্ষা পেলেও মুনতাহিনা ও মফিজের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মফিজকে পানির নিচ থেকে তুলে আনেন। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উদ্ধার করা হয় মুনতাহিনার মরদেহ।

ঘটনার খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে কোনো ডুবুরি না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত