এস এম নূরুজ্জামান

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। তাদের মধ্যে পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন। পুলিশ বাহিনীর ওপর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বহুলাংশে নির্ভর করলেও বাহিনীটির ভূমিকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো কোনো প্রার্থীর প্রতি ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ এসেছে। আবার দুই প্রার্থীর অনুসারীদের সংঘর্ষেও ‘নীরব’ থাকায় ভোটাররা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ‘সংস্কার স্পর্শ না’ করা পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন কতটা নিখুঁত হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকেরাও।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি একই দিনে রাজধানীতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে বিক্ষোভ হয়। এসব কর্মসূচিতে পুলিশের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ভিন্নভাবে সামাল দেওয়া যেত বলে মনে করেন খোদ পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, বলপ্রয়োগের পরিবর্তে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে দুই ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান করা যেত।
অবশ্য ভিন্নমতও দিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের এক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক বলেন, শুক্রবার ডিএমপির ভূমিকা সঠিক ছিল। এর মাধ্যমে নির্বাচনের আগে ‘মব’ নিয়ন্ত্রণের মহড়া হয়েছে। বড় বিষয়– ভারী অস্ত্র ব্যবহার ছাড়াই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যে আত্মবিশ্বাসী, সে বার্তা দেওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের করা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুলিশ বাহিনী তাদের পেশাদারত্ব নষ্ট করেছে। দিনের ভোট আগের রাতেই হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে। কর্মকর্তারা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাদের অনুসারী হয়ে ভোট চেয়েছেন। এ নিয়ে মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। ব্যাপক হারে থানা আক্রান্ত হয়েছে। অস্ত্র লুট হয়েছে, হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৪ সদস্য। শত শত সদস্য এখনো ট্রমাটাইজড।
কর্মকর্তারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর হারানো মনোবল ফিরিয়ে আনতে কাউন্সেলিং করা হয়েছে। এরপর নির্বাচনে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দক্ষ জনবল নিয়োগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, পুলিশ বাহিনী এখন অনেক বেশি পেশাদার। যারাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা আন্তর্জাতিক গাইড মেনে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।
‘পন্থি’ পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
সূত্র জানায়, পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বস্থানীয় অধিকাংশ কর্মকর্তা দলীয় রাজনীতির ব্যানারে দ্বিধা-বিভক্ত। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি বিভাজন স্পষ্ট। এর বাইরে আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা নীরব ভূমিকায় রয়েছেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের রাজনৈতিক দল বা নেতার আনুগত্য করার কোনো সুযোগ নেই। আগের নির্বাচনে যা হয়েছে, তা অতীত। এবার বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষতা এবং পেশাদ্বারত্ব বজায়ে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন স্ট্রিমকে জানান, প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চাকরিবিধি মেনে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। বাহিনীর কেউ ব্যক্তিগত মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ মানসিক ও পেশাগত– উভয় দিকে উন্নতি করছে। নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা হারানো মনোবল ফিরে পাবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। তাদের মধ্যে পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন। পুলিশ বাহিনীর ওপর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বহুলাংশে নির্ভর করলেও বাহিনীটির ভূমিকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো কোনো প্রার্থীর প্রতি ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ এসেছে। আবার দুই প্রার্থীর অনুসারীদের সংঘর্ষেও ‘নীরব’ থাকায় ভোটাররা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ‘সংস্কার স্পর্শ না’ করা পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন কতটা নিখুঁত হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকেরাও।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি একই দিনে রাজধানীতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার দাবিতে বিক্ষোভ হয়। এসব কর্মসূচিতে পুলিশের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ভিন্নভাবে সামাল দেওয়া যেত বলে মনে করেন খোদ পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, বলপ্রয়োগের পরিবর্তে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে দুই ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান করা যেত।
অবশ্য ভিন্নমতও দিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের এক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক বলেন, শুক্রবার ডিএমপির ভূমিকা সঠিক ছিল। এর মাধ্যমে নির্বাচনের আগে ‘মব’ নিয়ন্ত্রণের মহড়া হয়েছে। বড় বিষয়– ভারী অস্ত্র ব্যবহার ছাড়াই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যে আত্মবিশ্বাসী, সে বার্তা দেওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের করা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুলিশ বাহিনী তাদের পেশাদারত্ব নষ্ট করেছে। দিনের ভোট আগের রাতেই হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে। কর্মকর্তারা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাদের অনুসারী হয়ে ভোট চেয়েছেন। এ নিয়ে মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। ব্যাপক হারে থানা আক্রান্ত হয়েছে। অস্ত্র লুট হয়েছে, হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৪ সদস্য। শত শত সদস্য এখনো ট্রমাটাইজড।
কর্মকর্তারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর হারানো মনোবল ফিরিয়ে আনতে কাউন্সেলিং করা হয়েছে। এরপর নির্বাচনে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দক্ষ জনবল নিয়োগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, পুলিশ বাহিনী এখন অনেক বেশি পেশাদার। যারাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা আন্তর্জাতিক গাইড মেনে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।
‘পন্থি’ পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
সূত্র জানায়, পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বস্থানীয় অধিকাংশ কর্মকর্তা দলীয় রাজনীতির ব্যানারে দ্বিধা-বিভক্ত। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি বিভাজন স্পষ্ট। এর বাইরে আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা নীরব ভূমিকায় রয়েছেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের রাজনৈতিক দল বা নেতার আনুগত্য করার কোনো সুযোগ নেই। আগের নির্বাচনে যা হয়েছে, তা অতীত। এবার বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষতা এবং পেশাদ্বারত্ব বজায়ে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন স্ট্রিমকে জানান, প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চাকরিবিধি মেনে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। বাহিনীর কেউ ব্যক্তিগত মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ মানসিক ও পেশাগত– উভয় দিকে উন্নতি করছে। নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা হারানো মনোবল ফিরে পাবে।

ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারে অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা গালিব ইমতিয়াজ নাহিদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।
১৭ মিনিট আগে
আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে আসছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক।
১ ঘণ্টা আগে
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুধু সাংবাদিক নন, ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট সবাই মোবাইল ফোন নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ইসির সচিব আখতার আহমেদ।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অপতথ্য ও এআই-প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের সংবাদসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে