শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: বিচারে ‘সহযোগিতার’ প্রস্তাব আসামি সাবেক ডিআইজির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২৩: ১১
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। স্ট্রিম ছবি

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডল। তবে তিনি রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য লিখিত কোনো আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে তিনি জামিনের আবেদনও করেন, যা আদালত নাকচ করে দেয়।

আদালতে আবদুল জলিল মণ্ডলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার।

শুনানি শেষে আলী হায়দার স্ট্রিমকে বলেন, ‘রাজসাক্ষী হওয়ার কোনো লিখিত আবেদন দেওয়া হয়নি। এটি জামিন আবেদনের বিষয়টি বিবেচনার জন্য একটি মৌখিক নিবেদন যে আমরা ট্রাইব্যুনালকে প্রয়োজনে বিচারকাজে সহযোগিতা করতে রাজি আছি। আমরাও বিচার চাই, আমরা নির্দোষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ট্রাইব্যুনালকে বলেছি, প্রয়োজনে অনুমতি দিলে আমরা সাক্ষী হতেও রাজি আছি। আসামি যখন সাক্ষী হয়, তখন তো রাজসাক্ষী দেওয়া হয়। এর অর্থ এই নয় যে আমরা লিখিত আবেদন করেছি। আদালত আবেদন আনতে বলেননি, আর আমরাও কোনো আবেদন দাখিল করিনি। জামিন আবেদনেও সাক্ষী বা রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।’

সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বিচারকাজে কীভাবে সহায়তা করতে চান এমন প্রশ্নে আলী হায়দার বলেন, যেহেতু তখন তিনি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন তাই এই ঘটনার বিষয়ে যতটুকু জানেন নিজের অবস্থানে থেকে তা বলতে চান। উনিও চান এরকম একটা ঘটনার যেন সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়।
আসামির শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান তুলে ধরে এই আইনজীবী বলেন, জলিল মণ্ডল ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি ২০১৭ সাল পর্যন্ত চাকরি করে অবসরে গেছেন। ঘটনার পরে কখনো দেশের বাইরে পালিয়ে যাননি। তিনি ২০২০ সাল থেকে অসুস্থ।

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের ওই সমাবেশের সময় আবদুল জলিল মণ্ডল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গত মার্চ মাসে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এর আগে গত বছরের মে মাসে শাপলা চত্বরের ঘটনায় জলিল মণ্ডলসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছিল, যে মামলায় তিনি ২ নম্বর আসামি। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

নারী ও শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে সংগঠনটি। সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডব চলে। ওই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের শাপলা চত্বর থেকে সরানো হয়।

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই রাতের অভিযানে ৬১ জন নিহত হন। তবে তৎকালীন পুলিশের দাবি ছিল, রাতের অভিযানে কেউ মারা যাননি, আর দিনভর সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ১১।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ অগাস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও লেখক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত