স্ট্রিম প্রতিবেদক

পরিবেশ দূষণকারীদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার যে সিদ্ধান্ত পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়েছিল, তাকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে পরিবেশ দূষণকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা গণমাধ্যম বা নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ২০২২ সালে জারি করা এ সংক্রান্ত রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে দূষণকারীদের নাম প্রকাশে আর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধা থাকল না।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে সময় গণমাধ্যমে খবর আসে, পরিবেশ অধিদপ্তর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও বড় ব্যবসায়ীদের চাপে তাদের সম্মান রক্ষার্থে নাম প্রকাশ করবে না। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। সংগঠনটির পক্ষে রিটটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী। এতে বিবাদী করা হয় পরিবেশ সচিব, তথ্য সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ পাঁচজনকে।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১৩ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- জানতে চাওয়া হয় রুলে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার এই রায় এল।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।
শুনানিতে আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৪(২) ধারা এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৬(১) ধারায় এ ধরনের তথ্য প্রকাশের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মূল দায়িত্ব দূষণ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেওয়া এবং তা জনগণকে জানানো। কিন্তু তা না করে কেবল ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিতে এমন একটি অবৈধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা সরাসরি পরিবেশ আইনের পরিপন্থি।
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আদালতে দাবি করেন, বর্তমানে দূষণকারীদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে আদালত নির্দিষ্ট সময়কালের দূষণকারীদের নাম প্রকাশের তথ্য চাইলে তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, তথ্য অধিকার আইনে জনগণের তথ্য জানার অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে। দূষণকারীরা দেশের ক্ষতি করছে; তাদের তথ্য গণমাধ্যমে এলে অন্যরাও সতর্ক হতে পারে। তাই তথ্য গোপনের ওই সিদ্ধান্ত অবৈধ ও বেআইনি।
রায় ঘোষণার পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, এর ফলে কারও বিরুদ্ধে জরিমানা বা অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা প্রকাশ্যে আসবে। বিষয়টি জনসমক্ষে এলে যেহেতু মান-সম্মানের প্রশ্ন জড়িত থাকে, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হবে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও সতর্ক হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বর্তমান মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই আইনজীবী বলেন, “৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যে অর্জন হয়েছিল, পরে তা ভেস্তে গেছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে প্রশাসন নানা চাপে পড়ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ইটভাটা উচ্ছেদে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।”
বর্তমানে এক ধরনের ‘মব কালচারের’ কারণে প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে ভীত থাকে বলে মন্তব্য করেন মনজিল মোরসেদ। ঢাকার আশপাশের ইটভাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০১৯ সালে রিট করার পর ২০২১ সালে প্রায় ২০০টি ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সেগুলোর অনেকগুলোই আবার চালু হয়েছে, যার ফলে ঢাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।”
দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন থাকলেও সরকারের দিক থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

পরিবেশ দূষণকারীদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার যে সিদ্ধান্ত পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়েছিল, তাকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে পরিবেশ দূষণকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা গণমাধ্যম বা নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ২০২২ সালে জারি করা এ সংক্রান্ত রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে দূষণকারীদের নাম প্রকাশে আর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধা থাকল না।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে সময় গণমাধ্যমে খবর আসে, পরিবেশ অধিদপ্তর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও বড় ব্যবসায়ীদের চাপে তাদের সম্মান রক্ষার্থে নাম প্রকাশ করবে না। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। সংগঠনটির পক্ষে রিটটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী। এতে বিবাদী করা হয় পরিবেশ সচিব, তথ্য সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ পাঁচজনকে।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১৩ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- জানতে চাওয়া হয় রুলে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার এই রায় এল।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।
শুনানিতে আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৪(২) ধারা এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৬(১) ধারায় এ ধরনের তথ্য প্রকাশের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মূল দায়িত্ব দূষণ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেওয়া এবং তা জনগণকে জানানো। কিন্তু তা না করে কেবল ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিতে এমন একটি অবৈধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা সরাসরি পরিবেশ আইনের পরিপন্থি।
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আদালতে দাবি করেন, বর্তমানে দূষণকারীদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে আদালত নির্দিষ্ট সময়কালের দূষণকারীদের নাম প্রকাশের তথ্য চাইলে তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, তথ্য অধিকার আইনে জনগণের তথ্য জানার অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে। দূষণকারীরা দেশের ক্ষতি করছে; তাদের তথ্য গণমাধ্যমে এলে অন্যরাও সতর্ক হতে পারে। তাই তথ্য গোপনের ওই সিদ্ধান্ত অবৈধ ও বেআইনি।
রায় ঘোষণার পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, এর ফলে কারও বিরুদ্ধে জরিমানা বা অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা প্রকাশ্যে আসবে। বিষয়টি জনসমক্ষে এলে যেহেতু মান-সম্মানের প্রশ্ন জড়িত থাকে, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হবে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও সতর্ক হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বর্তমান মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই আইনজীবী বলেন, “৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যে অর্জন হয়েছিল, পরে তা ভেস্তে গেছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে প্রশাসন নানা চাপে পড়ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ইটভাটা উচ্ছেদে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।”
বর্তমানে এক ধরনের ‘মব কালচারের’ কারণে প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে ভীত থাকে বলে মন্তব্য করেন মনজিল মোরসেদ। ঢাকার আশপাশের ইটভাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০১৯ সালে রিট করার পর ২০২১ সালে প্রায় ২০০টি ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সেগুলোর অনেকগুলোই আবার চালু হয়েছে, যার ফলে ঢাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।”
দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন থাকলেও সরকারের দিক থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার কল্যাণরাষ্ট্রভিত্তিক ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলের দিকে এগোতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
৩৫ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে যেসব বাংলাদেশি অবৈধভাবে বাস করছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
৪৩ মিনিট আগে
রাঙামাটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা হবে। যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
৪৩ মিনিট আগে
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি অপরিবর্তনীয় নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
১ ঘণ্টা আগে