জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির হত্যা: তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে চাঁদাবাজি-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বসহ চার ইস্যু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৪৫
আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির। ডানে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেওয়া দুর্বৃত্তদের ছবি।

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব—সব বিষয়ের খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভণ্ডুলে সক্রিয় ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে আধিপত্য বিস্তার কিংবা চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক কিংবা ব্যক্তিগত কোনো ইস্যু আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এসব প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য সব বিষয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ আরও কয়েকটি কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডে পেশাদার ও ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করা হয়েছে। কারা কেন তাদের ব্যবহার করেছে, তা প্রকৃত আসামিরা ধরা পড়লেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। কারওয়ান বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ৫ আগস্টের পর পুরোনো চাঁদাবাজরা বিতাড়িত হলেও নতুনদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। তবে সেই জেরেই এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা তাঁরা জানেন না।

ঘটনার সময় মুছাব্বিরের সঙ্গে থাকা কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। এটি এই বাণিজ্যিক এলাকায় আধিপত্যের দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়। তবে বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপদে ফেলতেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, মুছাব্বিরের অনেক শত্রু ছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছিলেন। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। তেজগাঁও থানার ওসি কৈশ্যন্যু মারমা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার প্রাথমিক তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে তেজগাঁও থানা পুলিশ কাজ করছে। বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি এই তদন্ত তদারকি করছেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্তে রয়েছে ডিবি, পিবিআই, সিটিটিসি ও র‍্যাব। আলামত সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জন্য সিআইডি এবং অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত