মিজানুর রহমান

তীব্র রোদ গরমে প্রশান্তির খোঁজে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন সড়কের পাশের শরবতের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে ফুটপাতে দেখা মেলে ‘ফিল্টার বক্স’-সংবলিত ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকান। তবে ভ্রাম্যমাণ শরবত বিক্রেতারা যে ফিল্টার বক্সে শরবত বিক্রি করছেন, তার বেশির ভাগেরই বিশুদ্ধ করার সরঞ্জাম নেই, আছে শুধু ফ্রেম।
রাজধানীর সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকা, পান্থপথ ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশে অসংখ্য শরবতে ও আখের রসের ভ্রাম্যমাণ। অধিকাংশ দোকানিদের হাতে কোনো হ্যান্ড গ্লাভস নেই। রাস্তার ধুলাবালু, যানবাহনের ধোঁয়া, মাছি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ—এসবের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে শরবত। যে হাত দিয়ে টাকা নিচ্ছেন, ওই হাত দিয়েই শরবত ও আখের রস বানাচ্ছেন।
অধিকাংশ বিক্রেতা পানিভর্তি একটি বালতি দিয়ে বারবার চুবিয়ে গ্লাস পরিষ্কার করছেন। একই পানিতে দিনভর শত শত মানুষের ব্যবহৃত গ্লাস ধোয়া হচ্ছে। রস বিক্রেতা গ্লাভস ছাড়াই হাত দিয়ে আখ ধরছেন এবং মেশিনের মাধ্যমে মাড়াই করছেন। লেবুর শরবতে স্বাদ বাড়ানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে বিট লবণ।
বসুন্ধরা শপিং সেন্টারের সামনে লেবুর শরবত পান করছিলেন জাতীয় ভারোত্তোলন দলের এক সদস্য। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, এটা অবশ্যই অস্বাস্থ্যকর কিন্তু গরমে ঠান্ডা থাকার জন্য খাচ্ছি।
রিকশাচালক মো. ফরিদ বলেন, রিকশা চালিয়ে অনেক ক্লান্ত এ জন্য ঠান্ডা আখের রস খাচ্ছি। কতটা ক্ষতি, তা তো জানি না।
রাজধানীর গাবতলির শরবত বিক্রেতা শহিদ সরকার বলেন, ‘আমি জারের পানি অথবা ভালো পানি ব্যাবহার করি। বরফ ছোটগুলো কিনে আনি অথবা বাসায় ফ্রিজে নিজে তৈরি করি । গ্লাভস পরে থাকলে হাতে গরম লাগে এ জন্য পরি না। কিন্ত হাত পরিষ্কার রাখি।’
বসুন্ধরা শপিং সেন্টারের সামনে আখের রস বিক্রি করেন মো. খলিল বলেন, ‘আখ ঢেকে রাখলে লাল হয়ে যায় । মাঝেমধ্যে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করি। গ্লাভস পরলে আখের মেশিনে হাত চলে যাবার শঙ্কা থাকে। এ জন্য গ্লাভস ব্যবহার করি না।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গরমের সময় মানুষের তৃষ্ণা বাড়বে স্বাভাবিক। এ সময় শরীর থেকে প্রচুর ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যায়। এই সময়ে মানুষের পানীয় পান করা প্রয়োজন—সেটা লেবুর শরবত, যেকোনো ফলের শরবত বা নরমাল পানি—যাই হোক। এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্যসা হচ্ছে রাস্তার ধারে যে জিনিসগুলো বিক্রি করা হয় সেগুলোর পরিচ্ছনতা নিশ্চিত করা হয় না । আখের রস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা আখ থেকে যে প্রক্রিয়ার রস বের হয়, যে গ্লাসে দেওয়া হয় সেগুলো ঠিকভাবে না ধোয়া হলে।
ড. সাখাওয়াত বলেন, এখানে যে বরফগুলো ব্যাবহার করে, এগুলো আসলে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, বরফ ফুড গ্রেড কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। মাছের বাজারের বরফ আর মানুষের খাবারের বরফ তো এক জিনিস না। এসব থেকে ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি থেকে শুরু করে টাইফয়েড পর্যন্ত হতে পারে।
প্রচণ্ড রোদের পর হঠাৎ বরফ মেশানো পানি পান করলে শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, যা থেকে সহজেই ঠান্ডা লেগে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরি বলেন, ‘তীব্র গরমে মানুষ ঘরে-বাইরে যেখানেই থাকুক, তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাইরে যারা কাজ করে, তারা ঘর্মাক্ত হয়ে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, এতে ক্লান্তিবোধ করে। এ কারণে বাইরে কাজ করা মানুষজন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা দেখি, রাস্তার পাশে যেসব শরবত বিক্রি করে, নানা নামে নানা রঙে—সেগুলো পান করেন। আমরা জানি এই শরবত নিরাপদ পানি দিয়ে তৈরি না। এ ছাড়া এর মধ্যে রঙ এবং কেমিক্যাল মিশ্রিত যেসব দ্রব্যাদি ব্যবহার করা হয়, এগুলো অনেকটাই কিডনি, লিভার এবং পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর।’
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘শরবত ও আখের রস বিক্রেতাদের হাত যেন পরিষ্কার থাকে। হাতে প্লাস্টিকের গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। যে পানি দিয়ে তারা শরবত তৈরি করবেন, সেটি যেন নিরাপদ পানি হয়। যে খাবার তৈরি করে বিক্রি করবেন, সেগুলো যেন ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।’
এ ছাড়া যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের ঘর থেকে ফোটানো পানি অথবা ফিল্টার করা পানি সঙ্গে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেন ডা. লেলিন চৌধুরী। যেসব বাচ্চা স্কুলে যায়, তাদের ব্যাগে আলাদা করে নিরাপদ পানির বোতল দিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
চিকিৎসক লেনিন চৌধুরী বলেন, গরমের দিন যেসব খাবার সহজেই হজম হয়, সেই জাতীয় খাবার খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত গ্রহণ না করা। যারা বেশি ঘামেন, তারা অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার এবং ক্ষেত্রবিশেষে সাড়ে তিন লিটার পানি পান করবেন।

তীব্র রোদ গরমে প্রশান্তির খোঁজে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন সড়কের পাশের শরবতের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে ফুটপাতে দেখা মেলে ‘ফিল্টার বক্স’-সংবলিত ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকান। তবে ভ্রাম্যমাণ শরবত বিক্রেতারা যে ফিল্টার বক্সে শরবত বিক্রি করছেন, তার বেশির ভাগেরই বিশুদ্ধ করার সরঞ্জাম নেই, আছে শুধু ফ্রেম।
রাজধানীর সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকা, পান্থপথ ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশে অসংখ্য শরবতে ও আখের রসের ভ্রাম্যমাণ। অধিকাংশ দোকানিদের হাতে কোনো হ্যান্ড গ্লাভস নেই। রাস্তার ধুলাবালু, যানবাহনের ধোঁয়া, মাছি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ—এসবের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে শরবত। যে হাত দিয়ে টাকা নিচ্ছেন, ওই হাত দিয়েই শরবত ও আখের রস বানাচ্ছেন।
অধিকাংশ বিক্রেতা পানিভর্তি একটি বালতি দিয়ে বারবার চুবিয়ে গ্লাস পরিষ্কার করছেন। একই পানিতে দিনভর শত শত মানুষের ব্যবহৃত গ্লাস ধোয়া হচ্ছে। রস বিক্রেতা গ্লাভস ছাড়াই হাত দিয়ে আখ ধরছেন এবং মেশিনের মাধ্যমে মাড়াই করছেন। লেবুর শরবতে স্বাদ বাড়ানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে বিট লবণ।
বসুন্ধরা শপিং সেন্টারের সামনে লেবুর শরবত পান করছিলেন জাতীয় ভারোত্তোলন দলের এক সদস্য। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, এটা অবশ্যই অস্বাস্থ্যকর কিন্তু গরমে ঠান্ডা থাকার জন্য খাচ্ছি।
রিকশাচালক মো. ফরিদ বলেন, রিকশা চালিয়ে অনেক ক্লান্ত এ জন্য ঠান্ডা আখের রস খাচ্ছি। কতটা ক্ষতি, তা তো জানি না।
রাজধানীর গাবতলির শরবত বিক্রেতা শহিদ সরকার বলেন, ‘আমি জারের পানি অথবা ভালো পানি ব্যাবহার করি। বরফ ছোটগুলো কিনে আনি অথবা বাসায় ফ্রিজে নিজে তৈরি করি । গ্লাভস পরে থাকলে হাতে গরম লাগে এ জন্য পরি না। কিন্ত হাত পরিষ্কার রাখি।’
বসুন্ধরা শপিং সেন্টারের সামনে আখের রস বিক্রি করেন মো. খলিল বলেন, ‘আখ ঢেকে রাখলে লাল হয়ে যায় । মাঝেমধ্যে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করি। গ্লাভস পরলে আখের মেশিনে হাত চলে যাবার শঙ্কা থাকে। এ জন্য গ্লাভস ব্যবহার করি না।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গরমের সময় মানুষের তৃষ্ণা বাড়বে স্বাভাবিক। এ সময় শরীর থেকে প্রচুর ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যায়। এই সময়ে মানুষের পানীয় পান করা প্রয়োজন—সেটা লেবুর শরবত, যেকোনো ফলের শরবত বা নরমাল পানি—যাই হোক। এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্যসা হচ্ছে রাস্তার ধারে যে জিনিসগুলো বিক্রি করা হয় সেগুলোর পরিচ্ছনতা নিশ্চিত করা হয় না । আখের রস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা আখ থেকে যে প্রক্রিয়ার রস বের হয়, যে গ্লাসে দেওয়া হয় সেগুলো ঠিকভাবে না ধোয়া হলে।
ড. সাখাওয়াত বলেন, এখানে যে বরফগুলো ব্যাবহার করে, এগুলো আসলে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, বরফ ফুড গ্রেড কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। মাছের বাজারের বরফ আর মানুষের খাবারের বরফ তো এক জিনিস না। এসব থেকে ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি থেকে শুরু করে টাইফয়েড পর্যন্ত হতে পারে।
প্রচণ্ড রোদের পর হঠাৎ বরফ মেশানো পানি পান করলে শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, যা থেকে সহজেই ঠান্ডা লেগে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরি বলেন, ‘তীব্র গরমে মানুষ ঘরে-বাইরে যেখানেই থাকুক, তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাইরে যারা কাজ করে, তারা ঘর্মাক্ত হয়ে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, এতে ক্লান্তিবোধ করে। এ কারণে বাইরে কাজ করা মানুষজন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা দেখি, রাস্তার পাশে যেসব শরবত বিক্রি করে, নানা নামে নানা রঙে—সেগুলো পান করেন। আমরা জানি এই শরবত নিরাপদ পানি দিয়ে তৈরি না। এ ছাড়া এর মধ্যে রঙ এবং কেমিক্যাল মিশ্রিত যেসব দ্রব্যাদি ব্যবহার করা হয়, এগুলো অনেকটাই কিডনি, লিভার এবং পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর।’
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘শরবত ও আখের রস বিক্রেতাদের হাত যেন পরিষ্কার থাকে। হাতে প্লাস্টিকের গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। যে পানি দিয়ে তারা শরবত তৈরি করবেন, সেটি যেন নিরাপদ পানি হয়। যে খাবার তৈরি করে বিক্রি করবেন, সেগুলো যেন ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।’
এ ছাড়া যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের ঘর থেকে ফোটানো পানি অথবা ফিল্টার করা পানি সঙ্গে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেন ডা. লেলিন চৌধুরী। যেসব বাচ্চা স্কুলে যায়, তাদের ব্যাগে আলাদা করে নিরাপদ পানির বোতল দিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
চিকিৎসক লেনিন চৌধুরী বলেন, গরমের দিন যেসব খাবার সহজেই হজম হয়, সেই জাতীয় খাবার খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত গ্রহণ না করা। যারা বেশি ঘামেন, তারা অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার এবং ক্ষেত্রবিশেষে সাড়ে তিন লিটার পানি পান করবেন।

যশোর-নড়াইল মহাসড়কের তারাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯০০ গ্রাম স্বর্ণ (গোল্ড পেস্ট) ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ ওয়াজিদ আলী আমিন আহমেদ (৩১) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
১ ঘণ্টা আগে
দেশের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য বড় হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
১ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে সরকারের নির্দেশনার আলোকে সুপ্রিম কোর্টের ভার্চ্যুয়াল শুনানির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কক্সবাজার জেলায় বোরো ধানের চাষ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে হাজারো সেচপাম্প। এতে জেলার অন্তত ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধানখেত শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে