leadT1ad

ভোট দেননি কারাবন্দি সাবেক এমপি আসাদ ও এনামুল, ২০৪ কয়েদির ভোট গ্রহণ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৫৫
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার। সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা জেলার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আসাদুজ্জামান আসাদ ও এনামুল হক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেননি। তাঁরা ভোট দান থেকে বিরত থেকেছেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের শুধু এই দুজন সাবেক এমপি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া শুরুর পর থেকে বিকেল পর্যন্ত ২০৪ কয়েদি ভোট দিয়েছেন বলে জানান কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।

আসাদুজ্জামান আসাদ রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) ও এনামুল হক রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি ছিলেন। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-আন্দোলনে হামলার মামলায় তাঁরা এখন কারাগারে আছেন। কারা কর্তৃপক্ষ তাদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন এ দুই ভিআইপি বন্দি।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন বন্দি থাকেন। তাঁদের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন মাত্র ২৭৩ জন। নাম-ঠিকানা ও সংসদীয় আসনসহ সব তথ্য সঠিক থাকায় ২০৪ জনের নামে ব্যালট এসেছিল। আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত তারা ভোট দিয়েছেন। আর নাম নিবন্ধনের পর জামিনে বেরিয়ে যাওয়ায় ৩২ জনের ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ২০৪টি ব্যালট পোস্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান আসাদ ও এনামুল হক (ডানে)। সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীর সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান আসাদ ও এনামুল হক (ডানে)। সংগৃহীত ছবি

কারাবন্দিদের ভোটার ওয়ার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগারের প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন বন্দির মধ্যে অর্ধেক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। বাকি অর্ধেক বিচারাধীন মামলায় বন্দি থাকা হাজতি। কয়েদির একটি বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে বন্দি আছেন। তাই তাদের অনেকে ভোটারই হতে পারেননি। এ জন্য তারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করতে পারেননি।

আবার নিয়ম রয়েছে যে, কেউ কারাগারের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করার পর জামিন হলে বাইরে গিয়ে আর ভোট দিতে পারবেন না। এ কারণেও অনেক হাজতি ও কয়েদি ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেননি।

সাবেক দুই সংসদ সদস্যের ভোট না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, ‘আমরা সবাইকেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। যারা ইচ্ছুক নাম নিবন্ধন করেছিলেন। বন্দি থাকা সাবেক দুই এমপি ভোট দিতে চাননি। আমরা তো কাউকে জোর করব না। তাঁরা নিজেরা চাননি বলে ভোট দেননি।’

সিনিয়র জেল সুপার জানান, সব বন্দিই মনে করে যে, তাঁর জামিন হয়ে যাবে। এ কারণে অনেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নাম নিবন্ধন করেননি। সাবেক দুই এমপি কেন করেননি, তা তারা জানেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত