স্ট্রিম প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তহবিলে জমা থাকা টাকার পরিমাণ নিয়ে সদ্যবিদায়ী এবং নবনিযুক্ত প্রশাসক দুই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। সদ্যবিদায়ী প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দাবি করেছেন তহবিলে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা রেখে গেছেন তিনি। অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন দাবি করেছেন তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা আছে।
কিন্তু সিটি করপোরেশনের হিসাব বিভাগের তৈরি করা দাপ্তরিক নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিএনসিসির তহবিলে নগদ বা ক্যাশ টাকা ছিল ৪২৫ কোটির বেশি। এর বাইরে ৮২৫ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। সব মিলিয়ে তহবিলে জমা ছিল ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বেশি।
বিষয়টি নিয়ে আগামী রোববার পরিস্কার করে সব জানাবেন বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘ডিএনসিসির তহবিল নিয়ে সাবেক প্রশাসক যে তথ্য দিয়েছেন, সেটি আমার নজরে এসেছে। আমি এ বিষয়ে ডিএনসিসির রাজস্ব খাত এবং হিসাব সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাব।’ তিনি বলেন, ‘উনি (মোহাম্মদ এজাজ) যে হিসাব দিয়েছেন সেখানে স্থায়ী সম্পদের হিসাবও রয়েছে, আমি তো সেটার হিসাব করব না।’
নথিপত্রে কী পাওয়া গেল
ডিএনসিসির নিজস্ব তহবিলের ক্যাশবুক স্থিতির বিবরণীর নথি হাতে পেয়েছে স্ট্রিম। এ সব নথিতে ডিএনসিসির ব্যাংক হিসাবগুলোর একটি সার্বিক চিত্র উঠে এসেছে। নথির প্রতিটি পৃষ্ঠায় ডিএনসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে করপোরেশনের আয় ও জমার খাতগুলোকে ক, খ, গ এবং ঘ—এই চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করে হিসাব দেখানো হয়েছে।
১৮টি খাত থেকে আসা আয়ের হিসাব রয়েছে ‘ক’ খাতের হিসাবে। এর মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বাজার ভাড়া, সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিজ্ঞাপন অন্যতম। নথির তথ্য বলছে, শুধু এই খাতগুলোতেই নগদে জমা আছে প্রায় ৯২ কোটি টাকা। আর এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করা আছে ৪৪৯ কোটি টাকা।
রাস্তা খনন, বাজার সেলামি, বাজার বিদ্যুৎ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ফি ও শিওর ক্যাশ খাতের মতো ৬টি খাত নিয়ে দেখানো হয়েছে ‘খ’ অংশ এখানে নগদে জমা আছে ৬৫ কোটির বেশি। আর এফডিআর আছে ১৯৩ কোটি টাকার।
সরকারি থোক বরাদ্দ ও আবর্তক খাতের ‘গ’ অংশে নগদে জমা দেখানো হয়েছে ২৬ কোটি টাকার কিছু বেশি।
মূলত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন, ভবিষ্যৎ তহবিল, শিক্ষা বৃত্তি ও জামানত তহবিলের হিসাব দেখানো হয়েছে ‘ঘ’ খাতে। এখানে নগদে জমা আছে ২৪১ কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি ১৮৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে।
চূড়ান্ত হিসেবে দেখা গেছে ডিএনসিসির মোট নগদ স্থিতি (ক্যাশ) ৪২৫ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬৯ পয়সা। এফডিআর বা স্থায়ী আমানত আছে ৮২৫ কোটি টাকা। আর প্রকল্প ঋণ আছে ১০ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিএনসিসির তহবিলে সর্বমোট ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬০ পয়সা জমা থাকার কথা আছে।
কী বলেছিলেন শফিকুল মিল্টন
গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএনসিসির নবনিযুক্ত প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। তিনি করপোরেশনের বর্তমান অবস্থাকে ‘ভঙ্গুর’ বলে আখ্যা দেন।
মিল্টন বলেন, ‘করপোরেশনে ফান্ড নেই। অথচ ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকার দরপত্র দিয়ে কাজের আদেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রশাসক ১০ তারিখে শেষ অফিস করে ৩৪টি ফাইলে সই করে গেছেন। এসবের বিল দিতে হবে, অথচ কোনো টাকাই নেই।’
বেতন দেওয়ার সংকট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘মাত্র ২৫ কোটি টাকা আছে। প্রতি মাসে বেতন দিতেই ১৩ কোটি টাকা লাগে। বাকি থাকবে ১২ কোটি। এই টাকা দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে করব?’ এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে থোক বরাদ্দ চেয়েছেন বলেও জানান।
সাবেক প্রশাসক যা লিখেছেন
বর্তমান প্রশাসকের এমন দাবির পরপরই আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
তিনি লেখেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাঁর এক বছর মেয়াদের শেষ দিনে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ওই দিন পর্যন্ত ডিএনসিসির ২৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬০ পয়সা তহবিলে জমা ছিল। একটি ‘সমৃদ্ধ’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন রেখে এসেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তহবিলে জমা থাকা টাকার পরিমাণ নিয়ে সদ্যবিদায়ী এবং নবনিযুক্ত প্রশাসক দুই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। সদ্যবিদায়ী প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দাবি করেছেন তহবিলে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা রেখে গেছেন তিনি। অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন দাবি করেছেন তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা আছে।
কিন্তু সিটি করপোরেশনের হিসাব বিভাগের তৈরি করা দাপ্তরিক নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিএনসিসির তহবিলে নগদ বা ক্যাশ টাকা ছিল ৪২৫ কোটির বেশি। এর বাইরে ৮২৫ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। সব মিলিয়ে তহবিলে জমা ছিল ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বেশি।
বিষয়টি নিয়ে আগামী রোববার পরিস্কার করে সব জানাবেন বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘ডিএনসিসির তহবিল নিয়ে সাবেক প্রশাসক যে তথ্য দিয়েছেন, সেটি আমার নজরে এসেছে। আমি এ বিষয়ে ডিএনসিসির রাজস্ব খাত এবং হিসাব সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাব।’ তিনি বলেন, ‘উনি (মোহাম্মদ এজাজ) যে হিসাব দিয়েছেন সেখানে স্থায়ী সম্পদের হিসাবও রয়েছে, আমি তো সেটার হিসাব করব না।’
নথিপত্রে কী পাওয়া গেল
ডিএনসিসির নিজস্ব তহবিলের ক্যাশবুক স্থিতির বিবরণীর নথি হাতে পেয়েছে স্ট্রিম। এ সব নথিতে ডিএনসিসির ব্যাংক হিসাবগুলোর একটি সার্বিক চিত্র উঠে এসেছে। নথির প্রতিটি পৃষ্ঠায় ডিএনসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে করপোরেশনের আয় ও জমার খাতগুলোকে ক, খ, গ এবং ঘ—এই চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করে হিসাব দেখানো হয়েছে।
১৮টি খাত থেকে আসা আয়ের হিসাব রয়েছে ‘ক’ খাতের হিসাবে। এর মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বাজার ভাড়া, সম্পত্তি হস্তান্তর ও বিজ্ঞাপন অন্যতম। নথির তথ্য বলছে, শুধু এই খাতগুলোতেই নগদে জমা আছে প্রায় ৯২ কোটি টাকা। আর এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করা আছে ৪৪৯ কোটি টাকা।
রাস্তা খনন, বাজার সেলামি, বাজার বিদ্যুৎ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ফি ও শিওর ক্যাশ খাতের মতো ৬টি খাত নিয়ে দেখানো হয়েছে ‘খ’ অংশ এখানে নগদে জমা আছে ৬৫ কোটির বেশি। আর এফডিআর আছে ১৯৩ কোটি টাকার।
সরকারি থোক বরাদ্দ ও আবর্তক খাতের ‘গ’ অংশে নগদে জমা দেখানো হয়েছে ২৬ কোটি টাকার কিছু বেশি।
মূলত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন, ভবিষ্যৎ তহবিল, শিক্ষা বৃত্তি ও জামানত তহবিলের হিসাব দেখানো হয়েছে ‘ঘ’ খাতে। এখানে নগদে জমা আছে ২৪১ কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি ১৮৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে।
চূড়ান্ত হিসেবে দেখা গেছে ডিএনসিসির মোট নগদ স্থিতি (ক্যাশ) ৪২৫ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬৯ পয়সা। এফডিআর বা স্থায়ী আমানত আছে ৮২৫ কোটি টাকা। আর প্রকল্প ঋণ আছে ১০ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিএনসিসির তহবিলে সর্বমোট ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬০ পয়সা জমা থাকার কথা আছে।
কী বলেছিলেন শফিকুল মিল্টন
গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএনসিসির নবনিযুক্ত প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। তিনি করপোরেশনের বর্তমান অবস্থাকে ‘ভঙ্গুর’ বলে আখ্যা দেন।
মিল্টন বলেন, ‘করপোরেশনে ফান্ড নেই। অথচ ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকার দরপত্র দিয়ে কাজের আদেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রশাসক ১০ তারিখে শেষ অফিস করে ৩৪টি ফাইলে সই করে গেছেন। এসবের বিল দিতে হবে, অথচ কোনো টাকাই নেই।’
বেতন দেওয়ার সংকট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘মাত্র ২৫ কোটি টাকা আছে। প্রতি মাসে বেতন দিতেই ১৩ কোটি টাকা লাগে। বাকি থাকবে ১২ কোটি। এই টাকা দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে করব?’ এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে থোক বরাদ্দ চেয়েছেন বলেও জানান।
সাবেক প্রশাসক যা লিখেছেন
বর্তমান প্রশাসকের এমন দাবির পরপরই আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
তিনি লেখেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাঁর এক বছর মেয়াদের শেষ দিনে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ওই দিন পর্যন্ত ডিএনসিসির ২৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬০ পয়সা তহবিলে জমা ছিল। একটি ‘সমৃদ্ধ’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন রেখে এসেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ককে দুর্ভাগ্যজনক এবং অনাকাঙ্খিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, তার বক্তব্যকে খণ্ডিত করে প্রচার করা হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপ ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
২ ঘণ্টা আগে
ঢাকার ধামরাইয়ে ক্যাভার্ড ভ্যানের চাপায় এক পুলিশ সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সদস্য ও হাসপাতাল থেকে আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ধামরাই থানা-পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কালামপুর-সাটুরিয়া আঞ্চলিক সড়কের বাটুলিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
৩ ঘণ্টা আগে
বাগেরহাট শহরের পূবালী ব্যাংকের লকার (ভোল্ট) থেকে এক ব্যবসায়ীর রাখা অন্তত ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের খানজাহান আলী সড়কের পূবালী ব্যাংক পিএলসি শাখায় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানির পর আজ বিকেলে ব্যাংক পরিদর্শন করেছেন জেলার পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী।
৪ ঘণ্টা আগে