জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

উত্তাল ঝিনাইদহ, পাম্পে ভাঙচুর-বাসে আগুন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৭: ৪৯
যুবক নিহতের জেরে গভীর রাতে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় টার্মিনালে তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। স্ট্রিম ছবি

পেট্রলপাম্প কর্মচারীদের পিটুনিতে নিরব হোসেন (২৫) নিহতের জেরে উত্তাল ঝিনাইদহ। শনিবার (৮ মার্চ) গভীর রাতে বিক্ষুব্ধরা শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। পরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে আগুন দেয়।

পরে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে সড়কে যানজট দেখা দেয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

গত শনিবার রাত ৯টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় নিরব হোসেনের। পরে পাম্প কর্মচারীরা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনজনকে আটক করে র‍্যাব-৬।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধরা শহরের আরাপপুরে সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর করে। এরপর রাত ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা দূরপাল্লার তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। রয়েল পরিবহন, জে লাইন ও গোল্ডেন লাইনের একটি করে বাস ছাই হয়ে যায়।

ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার তানভীর হাসান জানান, খবর পেয়ে তাদের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হবে।

সৃজনী পেট্রোল পাম্পের কোষাধ্যক্ষ আলামিন শেখ জানান, মধ্যরাতে অজ্ঞাতপরিচয়ের ২০-৩০ জন তাদের পাম্পে হামলা চালায়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা পাম্পের তিনটি মেশিন গুঁড়িয়ে দেয়।

জে লাইন বাসের মালিক জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে টার্মিনালে এসে দেখি, আমার একটিসহ তিনটি বাস দাউ দাউ করে জ্বলছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভালেও সব পুড়ে গেছে।

বাস-মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক রকুনুজ্জামান রানু হামলা-ভাঙচুরের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন জানান, কারা আগুন দিয়েছে, তা এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট বাস মালিকরা অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত