ওয়াকআউটের সংস্কৃতি ছেড়ে সংসদে আলোচনার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৪২
বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: বিটিভির সৌজন্যে
বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: বিটিভির সৌজন্যে

ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তুচ্ছ বাহানায় সংসদ বর্জন না করে সব জাতীয় ইস্যু সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তিনি এ সময় বিরোধী দলকে সংসদ প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে বিরোধীদলের ওয়াকআউটের পর ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংসদে মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধসংক্রান্ত বিল উত্থাপনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাড়াহুড়ো করে প্রণীত আইন দুটির ত্রুটি সংশোধনে সরকার যথেষ্ট সময় নিয়েছে। দেশি-বিদেশি অংশীজন, কূটনৈতিক মিশন ও ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করে আন্তর্জাতিক মানের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিল দুটি শুধু উত্থাপন করে পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর কথা ছিল। সেখানে আলোচনা ও সংশোধনের যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দল অধিবেশন ত্যাগ করেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজপথের মতো ঢালাও অভিযোগ সংসদে না এনে সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা উচিত। বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্যের ওপর হামলা বা গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নিত এবং এর জবাব দিত।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়ে সংসদের অধিবেশন ডাকার এখতিয়ার বিরোধীদলীয় নেতার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্বাচন, শপথ ও রাষ্ট্রীয় নানা ব্যস্ততার মধ্যেও সংবিধান মেনে যথাসময়ে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিগত ১৭ বছরের অপরিকল্পিত গ্যাস সরবরাহনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার কাজ করছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার এফএসআরইউ স্থাপনসহ তেল, গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেছে। এর লক্ষ্য, দেশের শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত না করা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংবিধান সংস্কার আদেশের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি বা সমঝোতা ছিল না। সরকার জুলাই সনদের বিষয়ে আন্তরিক বলেই জনগণের রায় এবং সংসদের ২৬৬ বিধি অনুযায়ী বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধান মেনে নির্বাচন ও শপথ হলেও এর বাইরে গিয়ে ভিন্ন পরিষদ গঠন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অনভিপ্রেত।

সবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলের সদস্যদের সংসদে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইতিহাস যেন কাউকে দায়ী না করে, সেজন্য সরকার ও বিরোধীদল উভয়কেই সংসদের ভেতরে তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে দেশের সমস্যা সমাধানের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত