২৮ বিচারকের শোকজ প্রত্যাহার ও ৩ অধ্যাদেশ বহাল চায় এনএলএ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ৪০
ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের (এনএলএ) লোগো। স্ট্রিম গ্রাফিক

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স (এনএলএ)। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত এই আইনজীবী সংগঠনটি বিচারকদের শোকজ অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাসের দাবি জানিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এনএলএ-র আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন এসব দাবি জানান। ২৮ বিচারকের শোকজের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দেওয়া এই শোকজ পতিত ফ্যাসিস্ট আমলের ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালা ২০১৭’ অনুসারেই বেআইনি এবং সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সরাসরি পরিপন্থী। আমরা একে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের ভীতি প্রদর্শনের কৌশল মনে করছি।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় থেকে অধস্তন আদালতের ওই ২৮ বিচারককে শোকজ করে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে বিরূপ ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ওই বিচারকরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অমান্য করেছেন। একে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭’ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এনএলএ আহ্বায়ক একে ‘বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ বাতিলের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হলে বিচার বিভাগ পুনরায় নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, যা ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। অন্যদিকে, গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরকারী হিসেবে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল করলে অপরাধীদের দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি হবে।”

সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, অধ্যাদেশগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন সাপেক্ষে এগুলো বিল আকারে সংসদে পাস করা যেতে পারে। এছাড়া সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে দেওয়া হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের আলোকে দ্রুত বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিষয়:

বিচারক

সম্পর্কিত