মাদক কারবারে পারিবারিক সিন্ডিকেট, ৭ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ১৭
বাংলাদশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংগৃহীত ছবি

একই পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের অভিযোগে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় এই মামলাটি করা হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে সিআইডির মিডিয়া শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই পারিবারিক চক্রটি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধ মাদক কারবার চালিয়ে ৫ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করেছে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—পরিবারের প্রধান মো. আব্দুল আওয়াল (৬৫), তাঁর তিন মেয়ে রেশমা খাতুন (৩৯), লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার (৩১) ও মোসাম্মৎ আসমা (৪৩)। এছাড়া আসমার স্বামী মো. মানিক মিয়া (৩৬), লিজার স্বামী কামাল উদ্দিন এবং আব্দুল আওয়ালের পুত্রবধূ জাহানারা বেগম (৩৩) এই মামলায় অভিযুক্ত।

সিআইডি জানায়, অভিযুক্তরা বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার মাস্টারবাড়ি ও চেরাগআলী এলাকায় বসবাস করেন। তবে আব্দুল আওয়াল ও তাঁর তিন মেয়ের স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর ও দক্ষিণে।

সিআইডি জানিয়েছে, টঙ্গী পূর্ব থানার দত্তপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার মূল সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিন সহোদরা—রেশমা, লিজা এবং আসমা। তাঁদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন তাঁদের বাবা, স্বামী এবং ভাবি। তাঁরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তদের কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই। তা সত্ত্বেও তাঁদের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাদক থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তাঁরা প্রায় ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকার জমি কিনেছেন। অবশিষ্ট অর্থের বড় একটি অংশ মাদক ক্রয় ও বিলাসিতায় ব্যয় করা হয়েছে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, এই পরিবারের প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ডিএমপির তেজগাঁও ও রমনা থানায় ১০টি এবং লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে টঙ্গী, তেজগাঁও ও রেলওয়ে থানায় ৭টি মাদক মামলা আছে। মো. মানিক মিয়ার নামে মাদক ও দণ্ডবিধি মিলিয়ে ৫টি, মোসাম্মৎ আসমার বিরুদ্ধে ৩টি, মো. আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১টি অস্ত্র মামলা এবং মো. কামাল উদ্দিনের নামে ১টি মাদক মামলা রয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, মানিলন্ডারিং মামলাটি বর্তমানে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে। এই চক্রের অজ্ঞাত অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটনে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

সম্পর্কিত